• শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১১:২৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
দেশের কৃষি এখন বাণিজ্যিকরণের দিকে যাচ্ছে : শেরপুরে খামারবাড়ির মহাপরিচালক আশ্রয়ণের ঘরের দরজা-জানালায় হাতুড়ি-শাবলের চিহ্ন পেয়েছি : প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর প্রক্রিয়া চলছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ট্রেন থেকে মিসাইল ছুড়ে পরীক্ষা চালালো উত্তর কোরিয়া শ্রীবরদীতে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৫ আমার সমর্থকরা শ্রেষ্ঠ সমর্থক : সাকিব আল হাসান আট জেলায় শনাক্তের হার ৫% এর নিচে: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ১১ সাংবাদিক নেতার ব্যাংক হিসাব তলবে উদ্বেগের কিছু নেই : তথ্যমন্ত্রী দেশে করোনায় আরও ৫১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ১ হাজার ৮৬২ ইভ্যালির সিইও রাসেল ও চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিন গ্রেফতার

শ্রীবরদীতে নীতিমালার বেড়াজালে ঝুলে আছে দরিদ্র প্রতিবন্ধী শিশু জোনাকীর ভাগ্য !

/ ১১৭ বার পঠিত
প্রকাশকাল : বুধবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২১

জোনাকীরা সবসময় অন্ধকারেই আলো ছাড়ায়। কিন্তু শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার হতদরিদ্র ও প্রতিবন্ধী শিশু জোনাকী দিনের আলোতেও অন্ধকার দেখছে। সাড়ে ৩ বছর বয়সের ওই শিশু যখন হাত-পা ছুড়ে ছুটতে শিখবে আরমা-বাবা বলে ডাকতে শিখবে, ঠিক তখনই তার সব কিছুই বন্ধ হয়ে আছে, জন্ম থেকেই শারীরিক প্রতিবন্ধীর কারণে। সার্বক্ষনিক সে তার মা’র কোলে থাকে। বিছানায় শুইয়ে দিলে পুরো শরীর নিথর হয়ে থাকে, শুধুমাত্র চোখছাড়া। জোনাকীর টলমল করা দু’চোখেতার অন্যসব শিশুর মতো স্বাভাবিক জীবনে বাঁচার স্বপ্ন ঝিলমিল করছে। কিন্তু কেবলমাত্র নীতিমালার বেড়াজালে পড়ে ওই অসহায় ও দরিদ্র শিশুটি তার প্রতিবন্ধী ভাতা পাচ্ছে না। অর্থাৎ, সরকারী নীতিমালায় রয়েছে ৬ বছর বয়সপূর্ন না হলে সে প্রতিবন্ধী শিশুকে ভাতার আওতায় আনা যাবে না।
জানা যায়, জোনাকীর বাবা জহুরুল মিয়া একজন দিনমজুর। গ্রামের বাড়ী শ্রীবরদী উপজেলার গড়জরিপা ইউনিয়নের ঘোরজান গ্রামে। অভাবের সংসারে স্ত্রী সাইদা, মারহিমন, ৭ বছর বয়সের এক পুত্র সন্তান সজিব এবং সাড়ে ৩ বছর বয়সের শারীরিক প্রতিবন্ধী শিশুকন্যা জোনাকীকে নিয়ে তার সংসার চলে এক বেলা-দু’বেলা খেয়ে না খেয়ে। জন্ম থেকে প্রতিবন্ধী ওই শিশুকে নিয়ে অনেক চিকিৎসা করে অবশেষে অর্থের কাছে হেরে যায় তারা। এদিকে, দিন মজুর জহুরুলের একার রোজগারে সংসার না চলায় মা-স্ত্রী ও প্রতিবন্ধী ওই শিশু কন্যাকে নিয়ে ভিক্ষের পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়েছেন সাইদা বেগম।
প্রতিবন্ধী জোনাকীর মা সাইদা বেগম জানায়, কয়েকদিন আগে গ্রামের মামুন মেম্বারের সহায়তায় মেয়েটাকে নিয়ে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে শ্রীবরদী উপজেলা অফিসে যায়। ওখানে গিয়ে প্রতিবন্ধী কার্ডের জন্য রক্ত পরীক্ষা ও ছবি তোলাসহ অন্যান্য কাজ শেষ করে স্থানীয় সমাজসেবা অফিসে গিয়ে জানতে পারেন সরকারী নীতিমালা অনুযায়ী কোন প্রতিবন্ধী শিশুর বয়স ৬ মাসপূর্ন না হলে তাকে প্রতিবন্ধী ভাতার আওতায় নেওয়া যাবে না। অবশেষে সাইদা ভগ্নহৃদয়ে ফিরে আসেন বাড়িতে। এরপর থেকে চিকিৎসা তো দূরের কথা পেটেরভাত জোগাতেই ভিক্ষের পথ বেছে নিয়েছেন সাইদা ও তারশ্বাশুরি।
এ বিষয়ে জেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, সরকারী নীতিমালা অনুযায়ী ৬ বছর বয়স না হলে তাকে প্রতিবন্ধী ভাতা প্রদানের কোন সুযোগ নাই। তাই এ বিষয়ে আমার কিছু করার নাই।
অন্যদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সমাজসেবার অন্য এক কর্মকর্তা জানান, ৬ বছর বয়সের নিচে প্রতিবন্ধী শিশুর ভাতা প্রদান করার নীতিমালানা থাকলেও অন্য একটি সরকারী গ্যাজেটে দেশের সকল প্রতিবন্ধীকে ভাতার আওতায় আনা হবে বলা আছে। এখানে বয়সের কোন কথা নেই। সে হিসেবে শুন্য থেকে ৬ বছর বয়সের প্রতিবন্ধী শিশুর ভাতা দেয়া যেতে পারে বলে মন্তব্য করেন ওই কর্মকর্তা।
এদিকে, স্থানীয় নাগরিক প্লাটফর্ম‘জনউদ্যোগ’র আহবায়ক আবুল কালাম আজাদ বলেন, দেশে শুন্য থেকে ৬ বছর বয়সের হাজার হাজার শিশু রয়েছে যারা জন্ম থেকেই প্রতিবন্ধী। কিন্তু আইনের বেড়াজালে হতদরিদ্র হলেও তারা প্রতিবন্ধী ভাতা পাচ্ছে না। অথচ প্রত্যেক মা-বাবার শিশু লালন-পালনের কষ্টকর সময়ই হচ্ছে শুন্য থেকে ৬ বছর। আর যদি হয় সে দরিদ্র পরিবারের তবে তার কষ্টেরসীমা থাকে না। তাই সরকারের কাছে দাবি জানাই যেন সকল বয়সের প্রতিবন্ধীর ভাতা উন্মুক্ত করা হোক।


এই বিভাগের আরও খবর
error: কপি হবে না!
error: কপি হবে না!