• শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১১:২০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
দেশের কৃষি এখন বাণিজ্যিকরণের দিকে যাচ্ছে : শেরপুরে খামারবাড়ির মহাপরিচালক আশ্রয়ণের ঘরের দরজা-জানালায় হাতুড়ি-শাবলের চিহ্ন পেয়েছি : প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর প্রক্রিয়া চলছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ট্রেন থেকে মিসাইল ছুড়ে পরীক্ষা চালালো উত্তর কোরিয়া শ্রীবরদীতে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৫ আমার সমর্থকরা শ্রেষ্ঠ সমর্থক : সাকিব আল হাসান আট জেলায় শনাক্তের হার ৫% এর নিচে: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ১১ সাংবাদিক নেতার ব্যাংক হিসাব তলবে উদ্বেগের কিছু নেই : তথ্যমন্ত্রী দেশে করোনায় আরও ৫১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ১ হাজার ৮৬২ ইভ্যালির সিইও রাসেল ও চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিন গ্রেফতার

শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে : ড. এ কে এম রিয়াজুল হাসান

/ ২১২ বার পঠিত
প্রকাশকাল : বুধবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২১

প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষাস্তরে সোমবার নতুন কারিকুলামের খসড়া অনুমোদন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই কারিকুলামের অনেক নতুন দিক রয়েছে। নতুন শতকে পা দিয়ে নতুন কারিকুলাম চালুর বিষয়টি নিঃসন্দেহে গুরুত্ববহ। শিক্ষাক্রম একটি চলমান প্রক্রিয়া এবং সময়ে সময়ে এর মধ্যে সংযোজন, বিয়োজন তথা পরিমার্জন ঘটে থাকে। এবারের নতুন শিক্ষাক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা সুনির্দিষ্ট ১০টি যোগ্যতা ও দক্ষতা অর্জন করবে। নব্বইয়ের দশকে আমাদের দেশে প্রাথমিক স্তরে যোগ্যতাভিত্তিক কারিকুলাম চালু করা হয়েছিল।
এবার মাধ্যমিক স্তরেও তা চালু হতে যাচ্ছে। এই শিক্ষাক্রম প্রণয়ন করতে গিয়ে চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ ও একুশ শতকের দক্ষতা অর্জনের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে ভাবা হয়েছে। পরীক্ষানির্ভরতা কমিয়ে ক্লাসরুমভিত্তিক মূল্যায়নকে জোর দেওয়া হয়েছে। পাঠদানের ক্ষেত্রে শিক্ষকদের দক্ষতা, কলাকৌশল প্রয়োগ এবং মুখস্থভিত্তিক পড়াশোনা থেকে সরে এসে কার্যভিত্তিক শিখনকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি বিষয়ে আন্তঃসম্পর্ক ও সমন্বয় এই শিক্ষাক্রমে রয়েছে। যেমন বাংলা শিখতে গেলে তার মধ্যে কিন্তু ইতিহাসের কোনো প্রসঙ্গও আসতে পারে। গণিত শিখতে গেলে তার মধ্যে সামাজিক বিজ্ঞানের কিছু কিছু বিষয় চলে আসবে। প্রতিটি শ্রেণির যোগ্যতাভিত্তিক দক্ষতা অর্জন সম্ভব হবে।

প্রতিটি স্তরে শিক্ষাক্রম পরিমার্জনের কাজ শুরু হয় নতুন শিক্ষাক্রম চালুর পরপরই। এটা অনেকটা জাতীয় বাজেট প্রণয়নের মতোই কাজ। আমাদের সর্বশেষ নতুন কারিকুলাম চালু হয় ২০১৭ সালে। এখন আবার নতুন কারিকুলাম শুরু হতে যাচ্ছে। একে আমরা আবর্তন বলি। এখন আমরা শিক্ষাক্রমের পঞ্চম আবর্তনে আছি। ২০১০ সালে জাতীয় শিক্ষানীতি প্রণয়নের পর প্রাথমিক স্তরে ২০১১ সালের নতুন শিক্ষাক্রম শুরু হয়। ২০২১ সালে তা অনুমোদিত হয়। শিক্ষাক্রমের সঙ্গে শিখন-শেখানোর সামগ্রীও গুরুত্বপূর্ণ। এগুলোর মধ্যে রয়েছে শিক্ষক গাইড, টিচার্স ম্যানুয়াল ও অন্যান্য সামগ্রী। এসবের মাধ্যমে একটি কম্প্রিহেনসিভ পাঠ পরিকল্পনা নেওয়া হয়। ২০১১ সালে প্রাথমিকের যোগ্যতাভিত্তিক কারিকুলামে মোট ২৯টি দক্ষতা অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এখন মাধ্যমিকের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করে ১০টি দক্ষতা অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
মাধ্যমিকে এতদিন যোগ্যতাভিত্তিক কারিকুলাম ছিল না। এই স্তরে শিখনফল ভিত্তিক বা উদ্দেশ্যভিত্তিক শিক্ষাক্রম অনুসরণ করা হতো। এখন থেকে এই স্তরেও যোগ্যতাভিত্তিক শিক্ষাক্রম চালু হবে; ১০টি দক্ষতা অর্জন করবে শিক্ষার্থীরা। এই ১০টি দক্ষতা হলো-সূক্ষ্ণ চিন্তন দক্ষতা, সৃজনশীল চিন্তন দক্ষতা, সমস্যা সমাধান দক্ষতা, সিদ্ধান্ত গ্রহণে দক্ষতা, যোগাযোগ দক্ষতা, স্ব-ব্যবস্থাপনা দক্ষতা, সহযোগিতামূলক দক্ষতা, বিশ্ব নাগরিকত্ব দক্ষতা, জীবিকায়ন দক্ষতা এবং মৌলিক দক্ষতা। শিক্ষার্থীর জ্ঞান, দক্ষতা, গুণাবলি ও মূল্যবোধ সংযুক্ত করে শিখন ক্ষেত্রে এ দক্ষতা অর্জনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

বর্তমানে প্রাথমিক স্তরে প্রথম থেকে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত আটটি বিষয়ের তিনটি বই, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণিতে আটটি বিষয়ে ৬টি বই এবং ১০টি শিখন ফল রাখা আছে। মাধ্যমিক স্তরে ১০টি বিষয়। আগে প্রাথমিক স্তরে সংগীত ও চারুকলা পৃথক দুটি বিষয় ছিল। এখন এ দুটিতে এক করে নাম দেওয়া হয়েছে শিল্পকলা। এসব বিষয়ে ক্লাসেই ধারাবাহিক মূল্যায়ন হবে। এতে শিশু শিক্ষার্থীর ওপর বইয়ের বোঝা কমবে। এই স্তরের শারীরিক শিক্ষা বিষয়টির নামও এবার বদলে গেছে। নতুন নামকরণ করা হয়েছে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য ও সুরক্ষা।
বিষয় কমে যাবে মাধ্যমিক স্তরেও। মাধ্যমিকে আগে ১৪টি বিষয় ছিল। নতুন কারিকুলামে ১০টি বিষয় হবে। শিক্ষার্থীরা ক্লাসেই সব শিখবে। লেখাপড়া সমস্ত কাজ বিদ্যালয়েই হবে। কাজ করে করে তারা শিখবে। ক্লাসরুমে শিক্ষকরা তাদের দলে ভাগ করে ছোট ছোট কাজ দেবেন, ছোট ছোট প্রশ্ন করবেন, মার্কিং করে গ্রেড দেবেন। এভাবেই তাদের ধারাবাহিক মূল্যায়ন হবে।

এবার মূল্যায়নের ব্যাপারটি বলি। দু’ভাবে মূল্যায়ন হবে। একটি ধারাবাহিক মূল্যায়ন, যা ক্লাসে হবে। অন্যটি সামষ্টিক মূল্যায়ন, যা পরীক্ষার মাধ্যমে হবে। তবে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত কোনো পরীক্ষা থাকবে না। কোনো কোনো ক্লাসে ৬০ ভাগ ধারাবাহিক ও ৪০ ভাগ সামষ্টিক, আবার মাধ্যমিকের নবম-দশম শ্রেণিতে ৫০ ভাগ ধারাবাহিক ও ৫০ ভাগ সামষ্টিক মূল্যায়ন হবে।
নতুন কারিকুলামের বড় বৈশিষ্ট্য হলো- শিক্ষার্থীরা বাড়িতে সময় পাবে এবং খেলাধুলা করবে। তাদের ওপর বইয়ের চাপ, পরীক্ষার চাপ কমবে। সপ্তাহে তারা দু’দিন ছুটি পাবে। কোনো বাড়ির কাজ দেওয়া হবে না।

লেখক : অধ্যাপক, সদস্য (প্রাথমিক শিক্ষাক্রম), এনসিটিবি।


এই বিভাগের আরও খবর
error: কপি হবে না!
error: কপি হবে না!