• শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১১:১৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
দেশের কৃষি এখন বাণিজ্যিকরণের দিকে যাচ্ছে : শেরপুরে খামারবাড়ির মহাপরিচালক আশ্রয়ণের ঘরের দরজা-জানালায় হাতুড়ি-শাবলের চিহ্ন পেয়েছি : প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর প্রক্রিয়া চলছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ট্রেন থেকে মিসাইল ছুড়ে পরীক্ষা চালালো উত্তর কোরিয়া শ্রীবরদীতে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৫ আমার সমর্থকরা শ্রেষ্ঠ সমর্থক : সাকিব আল হাসান আট জেলায় শনাক্তের হার ৫% এর নিচে: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ১১ সাংবাদিক নেতার ব্যাংক হিসাব তলবে উদ্বেগের কিছু নেই : তথ্যমন্ত্রী দেশে করোনায় আরও ৫১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ১ হাজার ৮৬২ ইভ্যালির সিইও রাসেল ও চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিন গ্রেফতার

নেত্রকোণায় রাম্বুটান ফলের বাম্পার ফলন

/ ১৫৩ বার পঠিত
প্রকাশকাল : বৃহস্পতিবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১

থাইল্যান্ডের ফল রাম্বুটান। কাঁচা ফল সবুজ ও পাকাটা লাল রংঙের। দেখতে অনেকটা কদমফুল আকৃতির। ফলের উপরের খোঁসা ফেলে দিলে ভেতরের অংশটা দেখতে ও খেতে লিচুর মতো স্বাদে গন্ধে অতুলনীয়।

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, রাম্বুটান থাইল্যান্ডের একটি অত্যান্ত জনপ্রিয় ফল। এটি ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়াতেও প্রচুর উৎপন্ন হয়।

ভারতের সীমান্তবর্তী নেত্রকোণার কলমাকান্দা উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের গাছগাচালি ঘেরা গ্রাম হরিপুর। এই গ্রামের গাছ প্রেমিক কৃষক ওসমান গনি। তার বাড়িতে ২টি গাছে এবার রাম্বুটান ফলের বাম্পার ফলন হয়েছে। ওই দু’গাছ থেকে তিনি প্রায় ১৫০ কেজি রাম্বুটান বিক্রি করেছেন। যার মূল্য ৬০ হাজার টাকা। ওসমান গনি জানান, জীবনের নানা রঙিন স্বপ্ন নিয়ে ১৯৯২ সালের ৬ জুন দালালের মাধ্যমে মোটা অংকের টাকা ব্যায় করে মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমান। সেখানে গিয়ে ধরা পড়ে তার কাগজপত্র সঠিক নয়। এ কারণে ১৩ মাস পর তাকে বাড়িতে ফিরে আসতে হলো।

মালয়েশিয়ায় অবস্থানকালে তিনি দেখেছেন সেখানে প্রচুর রাম্বুটান হয়। খেতেও ভারী মজা। ফিরে আসার সময় তিনি মালয়েশিয়া থেকে দুই কেজি রাম্বুটান বাড়িতে নিয়ে আসেন। পরে ১৯৯৩ সালে বীজ থেকে উৎপাদিত চারটি চারা রোপন করেন বাড়িতে। দুইটি চারা মরে যায়। বাকি দুইটি গাছ বড় হয়। প্রায় ছয় বছর পর ১৯৯৯ সালে গাছ দুইটিতে রাম্বুটান ফল হয়।

ওসমান গনি দাবি করে বলেন বাংলাদেশে তিনিই প্রথম রাম্বুটান চাষী। তখন থেকেই প্রতি বছর মার্চ মাসে ওই গাছ দুইটিতে ফলন ধরছে। এবার রাম্বুটান ফল পাকার পর থেকেই ক্রেতারা বাড়ি থেকে প্রতি কেজি চার শত টাকা দরে কিনে নিচ্ছেন।

গাছের পরিচর্চা সম্পর্কে ওসমান গনি জানান, প্রতি বছর গাছে ফল ধরে মার্চ মাসে। পাকে জুলাই মাসের শেষে বা আগষ্টের প্রথম সপ্তাহে। পাকা ফল সংগ্রহ শেষ হলে বছরে একবার গাছের গোড়ায় ইউরিয়া, পটাশ, টিএসপি ও জৈব সার দিতে হয়। গাছে কোন কীটনাশক দিতে হয় না। কদমফুলের আকৃতির, লিচুর মতো রঙ্গের রাম্বুটানের চামড়া খুব মোটা ও তিতা হওয়ার কারণে এতে পোকা মাকড়ে আক্রমণ করেনা।

সরেজমিন তার ফল বাগানে গিয়ে দেখা গেছে, ১২টি রাম্বুটান গাছ ছাড়াও বোম্বাই লিচু, চায়না লিচু, দেশী আষাঢ়ে লিচুসহ ১৪ প্রকারের লিচু গাছ, ষ্টার আপেল, অষ্টেলিয়ান আপেল, মিষ্টি করমচা, টক করমচা, আলোবুকারা, মালটা, কমলা, সফেদা, লেবু, সবরিসহ দেশী বিদেশী প্রায় ৫০ জাতের ফলের গাছ রয়েছে। এছাড়াও আছে নানা প্রজাতির ফুলগাছসহ সৌন্দর্যবর্ধক বৃক্ষ। ওসমান গনি জানান, ফলের গাছসহ সকল গাছ বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সংগ্রহ করা হয়েছে। তিনি নিজেই বাগান দেখাশুনা করেন। এসব ফল বিক্রি করে বছরে তার দুই লক্ষাধিক টাকা আয় হয়।


এই বিভাগের আরও খবর
error: কপি হবে না!
error: কপি হবে না!