• শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১১:৩৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
দেশের কৃষি এখন বাণিজ্যিকরণের দিকে যাচ্ছে : শেরপুরে খামারবাড়ির মহাপরিচালক আশ্রয়ণের ঘরের দরজা-জানালায় হাতুড়ি-শাবলের চিহ্ন পেয়েছি : প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর প্রক্রিয়া চলছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ট্রেন থেকে মিসাইল ছুড়ে পরীক্ষা চালালো উত্তর কোরিয়া শ্রীবরদীতে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৫ আমার সমর্থকরা শ্রেষ্ঠ সমর্থক : সাকিব আল হাসান আট জেলায় শনাক্তের হার ৫% এর নিচে: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ১১ সাংবাদিক নেতার ব্যাংক হিসাব তলবে উদ্বেগের কিছু নেই : তথ্যমন্ত্রী দেশে করোনায় আরও ৫১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ১ হাজার ৮৬২ ইভ্যালির সিইও রাসেল ও চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিন গ্রেফতার

ময়মনসিংহে লেবু চাষে ভাগ্য বদল মনিরের

প্রকাশকাল : বুধবার, ১৮ আগস্ট, ২০২১

দেড় বছরে আয় ১০ লাখ টাকা

বিদেশ যেতে চেয়ে একাধিকবার প্রতারণার স্বীকার হন ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলা সদর থেকে ১৫ কিলোমিটার দক্ষিণে পাগলা থানার পাইথল ইউনিয়নের জয়ধরখালী গ্রামের মনির। হতাশা যখন চরমে তখনি ভাগ্যের চাকা ঘুরাতে উপজেলা কৃষি অফিস ও একটি বাড়ী একটি খামারের পরামর্শ ও সহযোগিতায় শুরু করেন লেবু চাষ। আর এই লেবু চাষেই করোনকালীন সময়ে ভাগ্য বদলে দেয় মনিরের। করোনাকালীন এই দেড় বছরে স্থানীয় বাজারে লেবু ও লেবুর কলম বিক্রি করে মনির আয় করেছেন ১০ লাখ টাকা। তার সাফল্য দেখে বিভিন্ন গ্রামের কৃষকরাও উদ্বুদ্ব হচ্ছেন লেবু চাষে। লেবু চাষী মনিরের বাগানের লেবু স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলা উপজেলাতে। মনিরের দাবী তার কাছ থেকে লেবু নিয়ে পাইকাররা দুবাই, বাহরাইন, মালয়েশিয়া, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে পাঠাচ্ছে। মহামারী করোনাকালীন সময়ে লেবু বিক্রি করে আয় করেছেন দশ লাখ টাকারও বেশী।

জানা যায়, জয়ধরখালী গ্রামের রিপন মিয়ার ছেলে মনির হোসেন ৩ বছর আগে ভিটে মাটি বিক্রি করে বিদেশ যাওয়ার আশায় দালালের কাছে টাকা জমা দেয়। দালালের প্রতারণায় পরে বিদেশ যেতে না পেরে বাড়ীর সামনে শুরু করেন টং দোকান। ওই দোকানেও ব্যবসা যখন ভালো চলছিল না, তখন মনিরের মামা সজিবের পরামর্শে ২০১৭ সালের শুরুর দিকে টাঙ্গাইল থেকে ১৫০০ টাকা দিয়ে ৩শ চারা ক্রয় করে ১ একর জমিতে লেবু চাষ শুরু করেন। লেবু চাষ শুরুর ৩ বছরের মাথায় লেবু আসতে শুরু করে তার বাগানে এখন সে আরও ১ একর জমিতে উপজেলা কৃষি অফিস ও একটি বাড়ী একটি খামার এর সহায়তায় মাল্টার চাষ করেন।

বর্তমানে লেবু এবং মাল্টা চাষীর জমির পরিমাণ ৪ একর। মাহমুদুল হাসান সজিব নামে এক লেবু চাষী বলেন, মনিরের বাগানের বারমাসি (সীড) লেবুর কলামের ১৫’শ চারা নিয়ে ৩২ কাঠা জমিতে লাগিয়েছি। আমি মনে করি আমাদের মত শিক্ষিত যুবকদের লাখ লাখ টাকা খরচ করে বিদেশ না গিয়ে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ মত ১ ইঞ্চি জায়গা খালি না রেখে সকলেরই কিছু করা উচিত। এতে করে নিজেরাও স্বাবলম্বী হব। দূর হবে বেকারত্ব।

মনিরের বাবা রিপন মিয়া বলেন, করোনাকালীন সময়ে আমি এক সপ্তাহে লেবুর বাগান থেকে দেড় লাখ টাকার লেবু বিক্রি করেছি। লেবু চাষী মনির বলেন, জীবনে অনেক কষ্ট করে বারবার বাবার সম্পত্তি বিক্রি করে বিদেশ যাওয়ার চেষ্টা করেছি, যেতে পারিনি। মামার পরামর্শে ৪ বছর আগে যখন লেবু চাষ শুরু করি তখন এলাকার মানুষ আমাকে পাগল ডাকতে শুরু করে।

মনির বলেন, আর এখন আমার বাগানের লেবুই গাজীপুর, ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ, ফুলপুর থেকে পাইকাররা কিনে নেয়। আর ওই পাইকাররাই আড়তে নিয়ে মালয়েশিয়া, বাহরাইন, মালদ্বীপ ও দুবাইয়ে পাঠায়। মনির আরও বলেন, করোনাকালীন সময় এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত তিন মাসে ১০ টাকার উপরে লেবু বিক্রি করেছি। সাথে লেবুর কলামের চারাও বিক্রি করেছি লক্ষাধিক টাকার মতো। মনিরের এই সফতলা দেখে মনিরের কাছ থেকে লেবুর কলম কিনে নিচ্ছেন ময়মনসিংহ জেলা ছাড়াও কিশোরগঞ্জ, গাজীপুর, নেত্রকোণা ও শেরপুরের চাষীরা।

গফরগাঁও উপজেলা কৃষি অফিসার আনোয়ার হোসেন বলেন, মহামারী করোনা দুসময়ে যখন ভিটামিন সি’র খুব বেশী প্রয়োজন তখনি মনির স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে তার বাগানের লেবু বিভিন্ন জেলার বিক্রি করতে শুরু করে। তার এই সফলতা দেখে বিভিন্ন উপজেলা ও জেলার লোকজন তার কাছ থেকে বারমাসি (সীড) লেবুর কলাম কিনে নিয়ে অন্যরাও চাষ করছে। মনিরের সীড লেবু চাষসহ প্রায় ১ একর জমিতে মাল্টা চাষ করেছে। তার সফলতায় এলাকার অন্যান্য যুবকরাও আগ্রহী হয়ে স্বাবলম্বী হওয়ার চেষ্ঠা করছে।


এই বিভাগের আরও খবর
error: কপি হবে না!
error: কপি হবে না!