• বৃহস্পতিবার, ২৯ জুলাই ২০২১, ১০:১২ অপরাহ্ন

 নকলায় ধান চাষে সাড়া ফেলেছে ড্রাম সিডার পদ্ধতি

/ ১৭৩ বার পঠিত
প্রকাশকাল : রবিবার, ১৮ জুলাই, ২০২১

বীজতলার পরিবর্তে ড্রাম সিডারের মাধ্যমে সরাসরি ক্ষেতে ধান বপনে লাভবান হয়ে শেরপুরের চাষিদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। ড্রাম সিডারের দুইপাশে প্লাস্টিকের দুটি চাকার ভেতর একটি লোহার দন্ডের মধ্যে সারিবদ্ধভাবে নির্দিষ্ট দূরত্বে ছোট আকৃতির ছয়টি প্লাস্টিকের ড্রাম থাকে। প্রতিটি ড্রামে থাকে নির্দিষ্ট মাপের নির্দিষ্ট সংখ্যক ছিদ্র। প্লাস্টিকের চাকার সঙ্গে লাগানো থাকে একটি হাতল, যেটি ধরে একজন সহজেই যন্ত্রটি টানতে পারেন। এ যন্ত্রটি স্থানীয় প্রযুক্তি ব্যবহারে ৩/৪ হাজার টাকা হলেই বানানো যায়।
বীজতলা তৈরি না করে ড্রাম সিডারের মাধ্যমে সরাসরি ধান বপনে লাভবান হওয়ায় শেরপুরের নকলা উপজেলার অনেক কৃষক ওই পদ্ধতিতে ধান চাষে ঝুঁকছেন। ওই পদ্ধতিতে ধান চাষ করতে বীজতলা তৈরি করতে হয় না। ফলে সময়, শ্রম ও উৎপাদন ব্যয় কম হয়। সময়, খরচ ও শ্রম কম দিয়ে সনাতন পদ্ধতির চেয়ে বেশি ফসল পাওয়ায় নকলার কৃষকদের মধ্যে ড্রাম সিডার পদ্ধতিতে ধান চাষে আগ্রহ বাড়ছে।
সরজমিনে গেলে কথা হয় উপজেলার টালকী ইউনিয়নের কৃষক জুলহাস উদ্দিনের সাথে। তিনি জানান, ড্রাম সিডারের মাধ্যমে একজন কৃষক দিনে দুই একর জমিতে ধান চাষ করতে পারেন। কিন্তু সনাতন পদ্ধতিতে এই ধানের চারা রোপণ করতে অন্তত ১৫ থেকে ২০ জন শ্রমিকের প্রয়োজন। ড্রাম সিডারে ধান চাষ করায় উৎপাদন খরচ ২০ থেকে ২৫ শতাংশ কম লাগছে। তাই ধান চাষে ড্রাম সিডার ব্যবহার লাভজনক দেখে দিন দিনে কৃষকরা এ পদ্ধতির দিকে ঝুঁকছেন। ধান চাষে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে ড্রাম সিডারের ব্যবহার। একজন লোক প্রতি ঘণ্টায় কমপক্ষে এক বিঘা জমিতে বীজ বপন করতে পারেন। এ পদ্ধতিতে চাষাবাদ করলে রোপা পদ্ধতির চেয়ে ১০ থেকে ১৫ দিন আগে ধান পাকে। তিনি আরও বলেন, গত ২ বছর ধরে রুনিগাঁও গ্রামের কৃষক শাহাব উদ্দিন ড্রাম সিডার দিয়ে বোনা ধানের চাষ করায় রোপা ধানের তুলনায় শতকরা ১০ থেকে ২০ ভাগ বেশি ফলন পেয়েছেন। তা দেখে আমি ড্রাম সিডার দিয়ে ধান চাষ করার প্রতি আগ্রহী হয়েছি। এ বছর এক একর জমিতে ড্রাম সিডার পদ্ধতিতে সরাসরি বীজ বপনের মাধ্যমে ধান চাষ করেছেন। এতে তার ২০ ভাগ শ্রমিক খরচ সাশ্রয় হয়েছে বলে তিনি জানান।

সরজমিনে পৌরসভার চরকৈয়া এলাকার কিষাণী ইয়াছমিন আক্তার ও কৃষক ফরিদুল ইসলাম, কুর্শাবাদাগৈড় এলাকার কৃষক লিয়াকত আলী, ভূরদীর কৃষক ছাইদুল হক ও কামাল মিয়া, পোলাদেশীর আব্দুল হালিম, মোজার বাজার এলাকার কিতাব আলীসহ অনেকের সাথে কথা হলে তারা জানান, এ প্রযুক্তিতে চাষ করলে সহজে যত্ন নেওয়া যায়। ফলে সনাতন পদ্ধতির চেয়ে ফলন ভালো পাওয়া যায়।
কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা কৃষিবিদ শেখ ফজলুল হক মণি ও কৃষিবিদ মাহমুদুল হাসান মুসা জানান, সনাতনী পদ্ধতিতে ধান রোপণের জন্য জমি যেভাবে কাদা করতে হয়, ঠিক সেভাবেই জমি উত্তমরূপে চাষ ও মই দিয়ে কাদাময় করে নিয়ে তারপর ড্রাম সিডারের মাধ্যমে ধান বপন করতে হয়। এলসিসি ভিত্তিক ইউরিয়া প্রয়োগ করতে পারলে এই পদ্ধতিতে ধান চাষে সুফল বেশি পাওয়া যায়। ধানগাছ একটু বড় হলে রোপা পদ্ধতির মতোই পানি সেচ দিতে হয়। সঠিক পরিচর্যায় ড্রাম সিডারে বোনা ধানের ফলন রোপা ধানের তুলনায় শতকরা ১০ থেকে ২০ শতাংশ বেশি হতে পারে। এ পদ্ধতিতে চাষ করলে রোপা পদ্ধতির চেয়ে ১২ থেকে ১৫ দিন আগে ধান ঘরে তুলা যায় বলে তারা জানান। বোরো মৌসুমে ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারীর প্রথমার্ধে এবং আমন মৌসুমে পানি নিষ্কাশনের সুব্যবস্থা আছে এমন উঁচু ও মাঝারি উঁচু জমিতে জুনের শেষার্ধ থেকে জুলাইয়ের প্রথমার্ধে ধান বপন করা উত্তম। ড্রাম সিডারে সারি করে গাছ হওয়ায় আগাছা দমন সহজ হয়।
উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ আব্দুল ওয়াদুদ জানান, এই যন্ত্রটি হালকা হওয়ায় সহজে বহন করা যায়। ফলে সবাই এটি ব্যবহারে আগ্রহী হচ্ছেন। ড্রাম সিডারের মাধ্যমে ধান চাষের উৎপাদন ব্যয় কম, কিন্তু ফলন বেশি পাওয়ায় কৃষক লাভবান হচ্ছেন। আগামীতে এই পদ্ধতিতে ধান চাষীর সংখ্যা ও জমির পরিমান বাড়বে বলে তিনি আশা ব্যক্ত করেন।


এই বিভাগের আরও খবর
error: বিষয়বস্তু সুরক্ষিত !!
error: বিষয়বস্তু সুরক্ষিত !!