• বৃহস্পতিবার, ২৯ জুলাই ২০২১, ০৯:৩৫ অপরাহ্ন

শেরপুরে জেলা হাসপাতালে চিকিৎসক-নার্সসহ জনবল সংকটে ব্যাহত চিকিৎসাসেবা, নেই আইসিউ

/ ৩০৬ বার পঠিত
প্রকাশকাল : বুধবার, ১৪ জুলাই, ২০২১

করোনা পরিস্থিতির এই দুঃসময়ে শেরপুরে চিকিৎসক-নার্সসহ জনবল সংকটে ধুঁকছে জেলার সবচেয়ে বড় চিকিৎসাকেন্দ্র ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল। ৫ উপজেলার ৫০ শয্যা বিশিষ্ট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোরও একই অবস্থা। বিশেষ করে করোনা চিকিৎসার ক্ষেত্রে জেলা হাসপাতালে অক্সিজেনের সংকট না থাকলেও এখনও নেই আইসিইউ। ফলে একদিকে যেমন মুমূর্ষু রোগীদের নিবিড় পরিচর্যা করা যাচ্ছে না, অন্যদিকে করোনায় মুমূর্ষু রোগীদের ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কিংবা করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে নেওয়ার পথেই মৃত্যুর ঘটনাও ঘটছে। ৩টি ভেন্টিলেটর এবং ৪টি হাইফ্লো নজেল ক্যানোলা থাকলেও জনবলের অভাবে সেগুলো ঠিকমতো চালু করা যাচ্ছে না। ওই অবস্থায় দ্রুত জনবল সংকট নিরসন করে রোগীদের কাঙ্খিত সেবা নিশ্চিতের দাবি উঠেছে।

জানা যায়, শেরপুরে প্রশাসনিক অনুমোদন পেলেও আর্থিক অনুমোদন না মেলায় ১০০ শয্যার জেলা সদর1 হাসপাতালের বরাদ্দ দিয়েই চলছে ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের কার্যক্রম। কিন্তু এখানে কর্মরত চিকিৎসক রয়েছেন মাত্র ১৯ জন। অথচ ১০০ শয্যার জন্যই চিকিৎসকের অনুমোদিত পদ সংখ্যা ৩৬ জন। গুরুত্বপূর্ণ জরুরি বিভাগের ৩ চিকিৎসকের সবগুলো পদ খালি, ৪ মেডিকেল অফিসারের ২ পদই শূন্য। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের ১০টি পদও শূন্য রয়েছে। নার্সের ৮৯টি পদের মধ্যে শূন্য পদের সংখ্যা ১৭টি। এছাড়াও রয়েছে আয়া, ওয়ার্ড বয় ও পরিচ্ছন্নতা কর্মীর সংকট। বর্তমানে করোনা আক্রান্ত হয়ে ২ চিকিৎসক, ৮ নার্সসহ ১৭ জন স্টাফ আইসোলেশনে রয়েছেন। তাছাড়া অন্য ৪ উপজেলার কোন হাসপাতালেই ৫/৬ জনের বেশি চিকিৎসক নেই। যেখানে অনুমোদিত চিকিৎসকের পদ সংখ্যা ১৪ জন করে।
২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের আরএমও ডা. খাইরুল কবির সুমন জানান, এখানে আউটডোরে প্রতিদিন ৭০০ থেকে ৮০০ রোগী চিকিৎসা সেবা নেয় এবং ইনডোরে ৩০০ থেকে ৩৫০ রোগী ভর্তি থাকে। তার মধ্যে বতর্মানে ১০০ বেডের করোনা ইউনিটে প্রতিদিন ৮০ থেকে ৯০ জন রোগী ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিচ্ছে। মঙ্গলবার পর্যন্ত করোনা ইউনিটে ভর্তি রয়েছেন ১১৬ জন রোগী। ১০০ শয্যার বরাদ্দ দিয়ে ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল চালাতে গিয়ে ভর্তি রোগীদের ওষুধ ও খাবারের যোগান দিতেও সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্রগুলো জানায়, করোনা চিকিৎসার ক্ষেত্রে অক্সিজেনের সংকট না থাকলেও আইসিইউ না থাকায় মুমূর্ষু রোগীদের নিবিড় পরিচর্যা করা যায় না। সেক্ষেত্রে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কিংবা করোনা ডেডিকেটেড হাসপাতালে নেওয়ার পথেই কয়েকজন রোগীর মৃত্যু ঘটেছে। ৩টি ভেন্টিলেটর এবং ৪টি হাইফ্লো নজেল ক্যানোলা থাকলেও জনবলের অভাবে সেগুলো ঠিকমতো চালু করা যাচ্ছে না। চিকিৎসকরা জানান, এমনিতেই চিকিৎসক এবং লোকবলের সংকট রয়েছে। সেক্ষেত্রে ভেন্টিলেশন কিংবা হাইফ্লো নজেল ক্যানোলার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নিতে হলে অন্যান্য রোগীদের চিকিৎসা সংকট আরও বাড়বে। এজন্য বিশেষ প্রয়োজনীয় মুহূর্ত ছাড়া সেগুলো ব্যবহার করা যায় না।
নাগরিক সংগঠন জনউদ্যোগের আহবায়ক শিক্ষাবিদ আবুল কালাম আজাদ বলেন, চিকিৎসক-নার্স ও জনবলের অভাবে হাসপাতালের চিকিৎসা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন রোগীরা। অতিরিক্ত রোগীর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন চিকিৎসক-নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীরা। এতে অনেক সময় তাদের আচরণও রুক্ষ হয়ে ওঠছে। অনেকটা জোড়াতালি দিয়ে চলছে চিকিৎসা সেবা। এখন জেলার হাসপাতালগুলো যেন রেফার্ড হাসপাতালে পরিণত হয়েছে। করোনা পরিস্থিতির এ দুঃসময়েও প্রায় একই অবস্থা চলমান। তিনি ওই বিষয়ে সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করেন।
এ ব্যাপারে সিভিল সার্জন ডা. একেএম আনওয়ারুর রউফ চিকিৎসক, নার্স ও লোকবল সংকটের কারণে হাসপাতালে রোগীদের কাঙ্খিত সেবা দিতে না পারার কথা স্বীকার করে বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে বারবার অবহিত করা হলেও শূন্যপদ পূরণ হচ্ছে না। চিকিৎসক ও জনবল পেলে হাসপাতালের সেবার মান আরও বাড়বে এবং কাঙ্খিত সেবা দেওয়া সম্ভব হবে বলে তিনি জানিয়েছেন। তবে সংকটের মধ্যেও করোনা রোগী এবং সাধারণ রোগীদের যথাসম্ভব আন্তরিকতার সঙ্গে চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে বলেও তিনি জানান।


এই বিভাগের আরও খবর
error: বিষয়বস্তু সুরক্ষিত !!
error: বিষয়বস্তু সুরক্ষিত !!