• বৃহস্পতিবার, ২৯ জুলাই ২০২১, ০৮:৩৮ অপরাহ্ন

শেরপুরে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে তীব্র ভাঙন, হুমকির মুখে ফসলি জমি-ঘরবাড়ি

প্রকাশকাল : মঙ্গলবার, ১৩ জুলাই, ২০২১

আতঙ্কে ৬ গ্রামের অধিবাসী, দ্রুত পদক্ষেপের আশ্বাস জেলা প্রশাসকের

পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের শেরপুর অংশে তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে সদর উপজেলার চরাঞ্চলের বেশ কয়েকটি এলাকায় ওই ভাঙনে ইতোমধ্যে প্রায় পৌণে এক কিলোমিটার ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এছাড়া হুমকির মুখে পড়েছে অন্তত: ৬ গ্রামের ফসলি জমি, একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মসজিদ ও বাড়িঘর। এতে আতঙ্কে রয়েছেন ওইসব এলাকার লোকজন। অন্যদিকে ভাঙনরোধে এখনও নেওয়া হয়নি কার্যকর কোন পদক্ষেপ। তবে ইতোমধ্যে নবাগত জেলা প্রশাসক মো. মোমিনুর রশীদ ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। ওইসময় তিনি স্থানীয়দের সাথে কথা বলেন এবং নদীভাঙনরোধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে তাদের আশ্বাস প্রদান করেন।
জানা যায়, সাম্প্রতিক টানা বর্ষণে পুরনো ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় শেরপুর সদর উপজেলার চরপক্ষীমারী ইউনিয়নের চুনিয়ারচর, ভাগলগড়, জঙ্গলদি, বেপারীপাড়া, ডাকপাড়াসহ চরাঞ্চলে ২ সপ্তাহ ধরে তীব্র নদী ভাঙন শুরু হয়েছে। এতে তীব্র ভাঙনে নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে চুনিয়ারচর গ্রামের ফসলি জমি। ইতোমধ্যে নদের প্রায় পৌণে এক কিলোমিটার জায়গাজুড়ে তীব্র ভাঙন শুরু হয়েছে। আবাদকৃত বিভিন্ন সবজি ক্ষেতের ফসলসহ জমি ভেঙে পড়ছে নদীগর্ভে। ভাঙনের ভয়ে নদী তীরবর্তী এলাকার অনেকেই তাদের বাড়ি-ঘর সরিয়ে অন্যত্র চলে গেছেন। নদীভাঙন অব্যাহত থাকলে চুনিয়ারচর গ্রামের ৩টি মসজিদ, মাদ্রাসা ও একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হুমকির সম্মুখীন হয়ে পড়বে। এক সময় পুরো চুনিয়ারচর গ্রামটিই নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে বলে আশংকা করছেন গ্রামবাসীরা।

সোমবার সকালে সরেজমিনে গেলে কথা হয় স্থানীয় চুনিয়ারচর গ্রামে ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত আলফেজ মিয়া, জয়নাল মিয়া, হাবুল মিয়া, স্বপন মিয়া, সোহেল রানা, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী জামিলুর রহমানসহ অনেকের সাথে। তারা জানান, ভাঙনের কারণে আমাদের ফসলি জমি নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে। বাড়ি-ঘরও হুমকির মুখে পড়েছে। এভাবে ভাঙতে থাকলে আমরা কোথায় যাব? বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী জামিলুর রহমান বলেন, প্রতি বছর বর্ষাকালে নদীভাঙন শুরু হয়। এতে আমাদের হাজার হাজার বিঘা কৃষি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। কিন্তু ভাঙনরোধে কার্যকর কোন পদক্ষেপ নিচ্ছেন না কেউ। এভাবে ভাঙতে থাকলে একসময় এখানে আবাদি কোন জমি থাকবে না। এজন্য এই জায়গায় একটি শক্ত বাধ দিয়ে ভাঙন বন্ধ করার জন্য আমরা সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি। ওইসময় তারা ভাঙন প্রতিরোধে এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
স্থানীয় চরপক্ষীমারী ইউপি চেয়ারম্যান আকবর আলী বলেন, এমনিতেই করোনার কারণে লকডাউনে এলাকার মানুষজন দুর্ভোগে রয়েছে। আর মরার উপর খাড়ার ঘাঁ হয়ে দাঁড়িয়েছে এই নদীভাঙন। আর ওই ভাঙনে চুনিয়ারচর, ভাগলগড় ও ডাকপাড়া এলাকায় নদী ভাঙনে অনেক ফসলি জমি ফসলসহ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এভাবে নদী ভাঙতে থাকলে ওইসব গ্রামের বাড়িঘর ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানও বিলীন হয়ে যাবে। ক্ষতিগ্রস্ত হবে হাজার হাজার পরিবার। তিনি ওই ভাঙনরোধে দ্রুত সরকারিভাবে পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।
পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের চরপক্ষীমারী অংশের ভাঙন প্রসঙ্গে শেরপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী শাজাহান মিয়া বলেন, সাম্প্রতিক ভাঙনরোধে ইতোমধ্যে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে ব্যয়ের প্রাক্কলনসহ প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলে দ্রতই ভাঙনরোধে কাজ শুরু করা হবে।
এ ব্যাপারে শেরপুরের জেলা প্রশাসক মো. মোমিনুর রশীদ বলেন, চরপক্ষীমারী ইউনিয়নের চরাঞ্চলে নদী ভাঙনকবলিত এলাকা ইতোমধ্যে পরিদর্শন করেছি। সেইসাথে ক্ষতিগ্রস্ত লোকজন ও স্থানীয় অধিবাসীসহ ইউপি চেয়ারম্যানের পাশাপাশি পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলেছি। এখন স্থানীয় সংসদ সদস্যের সুপারিশক্রমে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। আশা করছি, পরিকল্পনা মোতাবেক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলে ভাঙনরোধের পাশাপাশি রক্ষা পাবে ওই এলাকার ফসলি জমি ও বসতবাড়িসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠান।


এই বিভাগের আরও খবর
error: বিষয়বস্তু সুরক্ষিত !!
error: বিষয়বস্তু সুরক্ষিত !!