• রবিবার, ১৩ জুন ২০২১, ০৯:০২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
৭০০ বছরের ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো শাহজালাল মাজারের ওরস হচ্ছে না দ্রুত বর্ধনশীল উন্নতজাতের ‘সুবর্ণ রুই’ মাছের জাত উদ্ভাবন প্রেম করে বিয়ের পর স্ত্রী-শ্যালিকাকে ভারতে পাচার, ময়মনসিংহে গ্রেফতার ২ শেখ হাসিনা পরিবেশবান্ধব উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণে কাজ করছেন : এনামুল হক শামীম ময়মনসিংহ নগরীর মশক নিধনে খাল-ড্রেনে মশাভুক মাছ অবমুক্ত শেরপুরে ভাইকে বেঁধে রেখে বিধবা তরুণীকে গণধর্ষণ ॥ গ্রেফতার ২ ঝিনাইগাতীতে মাদকের ১০ মামলার আসামিসহ গ্রেফতার ৪ বাংলাদেশের নাটকের ইতিহাসে অপুর্ব’র অনন্য রেকর্ড ভালো জাতের আম কীভাবে চিনবেন ৩ আসনের উপনির্বাচনে নৌকার মাঝি মিন্টু-হাবিব-হাসেম

আইন পেশায় ২১ বছর পূর্ণ করলেন শেরপুর বারের সাবেক সভাপতি আধার

জুবাইদুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশকাল : শনিবার, ২৯ মে, ২০২১

বুদ্ধিজীবীদের শ্রেষ্ঠ মহল হিসেবে পরিগণিত আইনজীবী হিসেবে পেশাগত জীবনের দীর্ঘ ২১ বছর পূর্ণ করলেন ঐতিহ্যবাহী শেরপুর জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি রফিকুল ইসলাম আধার। ২০০০ সালের ২৪ মে তিনি আইনজীবী হিসেবে শেরপুর বারে যোগদান করেন। তিনি শেরপুর বারে যোগদানের পর থেকে স্থানীয়ভাবে আইন পেশায় জড়িত হওয়া থেকে শুরু করে টানা দীর্ঘ ২১ বছর আইন পেশায় পেয়েছেন যেমন সফলতা, তেমনি পেশাগত প্রতিষ্ঠানে ধাপে ধাপে চূড়ান্ত পর্যায়ে নেতৃত্ব দিয়ে গড়েছেন ইতিহাস।

জানা যায়, শেরপুর শহরের দমদমা মহল্লার আদর্শ শিক্ষক মোহাম্মদ আলী ও শিক্ষিতা গৃহিণী রোকেয়া বেগমের ৫ সন্তানের প্রথম রফিকুল ইসলাম আধার। তিনি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে মোমেনশাহী ল কলেজ থেকে এলএলবি কোর্স সম্পন্ন করে ২০০০ সালের ৯ মে আইনজীবী হিসেবে বাংলাদেশ বার কাউন্সিলে তালিকাভূক্ত হন। এরপর বার কাউন্সিলের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো ২ সপ্তাহের বার ভোকেশনাল কোর্স (বিভিসি) সম্পন্ন করে শেরপুর বারে যোগদান করেন। যোগদানের প্রথম বছরেই তিনি জেলা আইনজীবী সমিতির কার্যকরী পরিষদের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও সমমনাদের সমর্থিত সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদের ব্যানারে (চন্দন-মোখলেস) পরিষদে নির্বাহী সদস্য পদে অংশ নিয়ে বিপুল ভোটাধিক্যে নির্বাচিত হন। এরপর থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত ১৪টি নির্বাচনের মধ্যে ১৩টি নির্বাচনেই অংশ নিয়ে ১১ বারই নির্বাচিত হন। এর মধ্যে ২০১২ ও ২০১৪ সালে দু’দফায় সাধারণ সম্পাদক, ২০১১ সালে সহ-সভাপতিসহ কয়েক দফা নির্বাহী সদস্য, একাধিক দফায় সহ-সাধারণ সম্পাদক ও অডিটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। আর ২০১৮ সালে শেরপুর বারের নির্বাচনী ইতিহাসে সর্বাধিক ভোটাধিক্যে সভাপতি নির্বাচিত হন। ওইসময় তিনি বিচার অঙ্গণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি বার-বেঞ্চের সম্পর্ক উন্নয়ন এবং এখানকার দীর্ঘ প্রতীক্ষিত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবন নির্মাণে বেঞ্চের সাথে সমন্বয় সাধনের মাধ্যমে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। কিন্তু রাজনৈতিক জটিলতায় শেষ পর্যন্ত তার ওই উদ্যোগ সফল না হলেও অন্য কারও মাধ্যমে তার আর কোন অগ্রগতিও হয়নি।
বিচারপ্রার্থী মানুষের দুঃখ-দুর্দশা অনুভব করার পাশাপাশি বিচারক ও আইনজীবীসহ খোদ বিচার অঙ্গণের সাথে সংশ্লিষ্ট সকলের সাথে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে চলাফেরার কারণে সবার কাছেই তিনি একজন বন্ধুপ্রতীম আইনজীবী হিসেবে সমধিক পরিচিত। স্বাভাবিক মামলা-মোকদ্দমার বাইরেও জেলার ঝুঁকিপূর্ণ ও চাঞ্চল্যকর বা আলোচিত মামলাগুলোর অনেকটাতেই দেখা যায় তিনি সাহসিকতার সাথে লড়ছেন। এছাড়া শেরপুরে হাতেগোনা যে ক’জন আইনজীবী নেতা বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার বিরোধী আন্দোলন করতে গিয়ে হয়রানীর শিকার, দলীয় নেতা-কর্মীদের  মামলা-মোকদ্দমা পরিচালনা করেছেন নানা রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে, তিনি তাদের অন্যতম।
একসময় শেরপুরের প্রবীণ আইনজীবী ও জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সফল সভাপতি এ্যাডভোকেট নারায়ণ চন্দ্র হোড়ের হাত ধরে তিনি আইন পেশায় প্রবেশ করলেও সময়ের পরিক্রমায় এখন তার হাত ধরেই বেরিয়ে আসছেন অনেক তরুণ আইনজীবী। একজন ফৌজদারী আইনজীবী হিসেবে অতিশয় ব্যস্ত এবং তার পেশাগত অঙ্গন বিস্তৃত হওয়ায় গড়ে তুলেছেন ‘আধার এ্যান্ডস এ্যাসোসিয়েট্স’। ইতোমধ্যে তার হাত ধরে বেরিয়ে আসা জুনিয়র আইনজীবীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ২০ জনে।
জেলা পর্যায়ে আওয়ামী লীগের রাজনীতি, সাংবাদিকতা ও সেই সংগঠনের নেতৃত্বদানসহ বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের সাথে জড়িত থাকার পরও তিনি নিয়মিত আইন পেশা চালিয়ে যাচ্ছেন। সমাজে আইনজীবীদের সম্পর্কে কিছুটা নেতিবাচক মনোভাব থাকলেও তার ক্ষেত্রে একেবারেই ব্যতিক্রম। আর সেটি লক্ষ্য করা গেছে সদ্য সমাপ্ত ঐতিহ্যবাহী শেরপুর পৌরসভার নির্বাচনে তিনি মেয়র পদে অংশ নেওয়ায় সাধারণ মানুষের আস্থা-অভিব্যক্তিতে।
পেশাগত জীবনের ২১ বছর পূর্ণ করার বিষয়ে নিজের অভিব্যক্তি ব্যক্ত করতে গিয়ে এ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম আধার বলেন, আমার দীর্ঘ ওই সময়ে পেশাগত জীবনে আর পেশাগত সংগঠনে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে রয়েছে সফলতা-ব্যর্থতার অনেক নজির। তারপরও রয়েছে অনেক তৃপ্তি। এ পেশায় এসে বিচার প্রার্থী ভুক্তভোগী মানুষের সেবা নিশ্চিত করার শতভাগ চেষ্টা করে যাচ্ছি। তার বদৌলতে শত শত বিচারপ্রার্থী মানুষের ভালোবাসাও পেয়েছি অনেক। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় আগামী দিনেও তার ওই পথচলা অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।


এই বিভাগের আরও খবর
error: বিষয়বস্তু সুরক্ষিত !!
error: বিষয়বস্তু সুরক্ষিত !!