• শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১১:০৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
দেশের কৃষি এখন বাণিজ্যিকরণের দিকে যাচ্ছে : শেরপুরে খামারবাড়ির মহাপরিচালক আশ্রয়ণের ঘরের দরজা-জানালায় হাতুড়ি-শাবলের চিহ্ন পেয়েছি : প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর প্রক্রিয়া চলছে : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ট্রেন থেকে মিসাইল ছুড়ে পরীক্ষা চালালো উত্তর কোরিয়া শ্রীবরদীতে পাগলা কুকুরের কামড়ে আহত ১৫ আমার সমর্থকরা শ্রেষ্ঠ সমর্থক : সাকিব আল হাসান আট জেলায় শনাক্তের হার ৫% এর নিচে: স্বাস্থ্য অধিদপ্তর ১১ সাংবাদিক নেতার ব্যাংক হিসাব তলবে উদ্বেগের কিছু নেই : তথ্যমন্ত্রী দেশে করোনায় আরও ৫১ জনের মৃত্যু, শনাক্ত ১ হাজার ৮৬২ ইভ্যালির সিইও রাসেল ও চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিন গ্রেফতার

প্রাকৃতিক নৈসর্গিক সৌন্দর্যের আধার শেরপুর সীমান্তের পানিহাটা-তারানি পাহাড়

প্রকাশকাল : মঙ্গলবার, ১১ মে, ২০২১

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আধার শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার সীমান্তঘেঁষা পানিহাতা-তারানি পাহাড়। শহরের কোলাহলপূর্ণ জীবন, ইট পাথর আর কংক্রিটের গাথুনী আর বছর জুড়ে কর্মব্যস্ততার মাঝে জীবন যখন অতিষ্ঠ হয়ে পড়ে, তখন পরিশ্রান্ত মনকে একটু প্রফুল্ল করতে ঘুরে আসতে পারেন উপজেলার রামচন্দ্রকুড়া ইউনিয়নের প্রকৃতির নৈসর্গিক শোভামন্ডিত পানিহাটা-তারানি পাহাড়ি এলাকায়।

এখানকার উত্তরে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের তুরা জেলার সীমান্তঘেঁষা ঘন সবুজ শ্যামল বন, খরস্রোতা পাহাড়ি ভোগাই নদীর পাহাড়ের সাথে মিতালী আর বৃক্ষরাজি দেখে ভ্রমন পিয়াসীদের মন উদ্বেলিত হয়। তারা কিছুক্ষণের জন্য হলেও ভুলে যান শহরের জীবনের কর্মক্লান্তি। প্রকৃতির নিখুঁত ভালবাসায় হারিয়ে যান তারা স্বপ্নের রাজ্যে। এই স্থানটি ভারত সীমানাঘেঁষা হওয়ায় চিরসবুজ বাংলা মায়ের অপরূপ দৃশ্য দেখার পাশাপাশি ভারতের সবুজ বনানী দর্শনার্থীদের অনেক বেশি মনের তৃপ্তি মেটায়। পানিহাটা পাদ্রি মিশনের পশ্চিম পাশে উঁচু পাহাড়ে দাঁড়িয়ে উত্তর দিকে চাইলে চোখে পড়ে নীলাভ-চিরসবুজ ভারতের পাহাড়ি তুরা জেলাকে আবছা আবরণের চাদরে জড়িয়ে নিয়েছে কুয়াশার মতো মেঘ কখনো বা কুয়াশা নিজেই। দূরের টিলাগুলো কেবলই লুকোচুরি খেলে এরই আড়ালে। ভারতের মেঘালয় রাজ্যের ছোট ছোট পাহাড় গুলোকে ফাঁকি দিয়ে তুরার অববাহিকা থেকে সামনে সোজা এসে পশ্চিমে চলে গেছে পাহাড়ি খরস্রোতা নদী ভোগাই। একপাশে তার কাশবন আর অপর পাশে শত ফুট উঁচু দাঁড়িয়ে থাকা সবুজে জড়ানো পাহাড় ও নদী। নদীর টলটলে স্বচ্ছ পানির নিচে গড়াগড়ি খাচ্ছে নুড়ি পাথরগুলো। সামনের একশ গজ দূরে উত্তরে ভারত অংশে পিচঢালা আকাবাঁকা রাস্তা পূর্ব থেকে পশ্চিমে পাহাড়ের বুকচিরে চলে গেছে। আর মাঝেমধ্যেই হুসহাস করে ছুটে চলছে মালবাহী ট্রাকগুলো। চতূর্দিকে ছোট ছোট অসংখ্য পাহাড়ের সারি সারি পাহাড়।
পূর্ব দিকের কয়েকটি পাহাড়ের গা ঘেঁষে ভোগাই নদীতে এসে মিশেছে ছোট একটি পাহাড়ি ঝরণা। তার পাশেই খ্রিষ্টান ধর্মালম্বীদের উপাসনালয় পানিহাটা পাদ্রি মিশন। এখানে আছে ছোট একটি চিকিৎসা কেন্দ্র, বিদ্যালয় আর ছোট ছোট শিক্ষার্থীদের থাকার জন্য হোস্টেল। সেখানে শিশু-কিশোরদের কোলাহল। এসব মিলে প্রকৃতি প্রেমীদের প্রতিনিয়ত আকর্ষণ করে অপরূপা পানিহাটা-তারানি পাহাড়। অবশ্য এলাকার জনগন এই পাহাড়টিকে পানিহাটা নামেই জানেন। কিন্তু এই সৌন্দর্য্যের ভাগটা শুধু পানিহাটাই নিতে পারেনি। এর একটা অংশে ভাগ বসিয়েছে পাশের তারানি গ্রামের পাহাড়।

তাই দর্শনার্থীদের জন্য পানিহাটা-তারানি দুটো মিলেই গড়ে উঠতে পারে পর্যটন স্পট। সবুজ চাদরে ঘেরা গারো পাহাড়ে প্রিয়জনকে সাথে নিয়ে চলে যান প্রকৃতির রাজ্যে। যারা শুনেছেন শেরপুরের বন্যহাতির তাণ্ডব, তারা মিশনের পুর্বপাশে ক্ষুদ্র-নৃগোষ্ঠি জাতি তথা পেকামারি গারো অধিবাসীদের কাছ থেকে শুনতে পারবেন বন্যহাতির ধ্বংসলীলার কথা। মাতৃতান্ত্রিক ব্যবস্থার অধীনে পরিচালিত গারোদের পরিবারের প্রধান নারীরা। তাদের সহজ-সরল জীবন যেন ভ্রমণপিয়াসীদের অবাক করে দেয়। তাদের জীবন সংগ্রাম কাছে থেকে দেখার ও শোনার সুযোগ পাবেন এই গ্রামে। দারিদ্র আর বন্যহাতির সাথে লড়াই করে বেচে থাকা এসব গারো আদিবসীদের অকৃত্রিম আতিথেয়তা দেখে মুগ্ধ হন ভ্রমণপিয়াসীরা। বর্তমান কৃত্রিমতার যুগে প্রকৃতির নির্মিত সবুজ বনানী দেখে কর্মক্লান্তি ভুলে অনাবিল আনন্দে দিনের আলোতেই ভ্রমন পিয়াসীরা ফিরে যান নিজ গৃহে।

কিভাবে যাবেন:
শেরপুর জেলা শহর থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার সোজা উত্তর দিকে নিজস্ব পরিবহন বা সিএনজিযোগে যাত্রা শুরু করে সরাসরি চলে আসুন নাকুগাঁও স্থলবন্দর এলাকায়। তার পাশেই ভোগাই নদীর ব্রিজের উপর দিয়ে পূর্ব দিকে প্রায় ২-৩ কিলোমিটার যাওয়ার পর ঘন সবুজ পাহাড় মাড়িয়ে উত্তর দিকে পানিহাটা-তাড়ানি পাহাড়ে ঢুকে পড়ুন। বিনা টিকিটে উপভোগ করুন প্রকৃতির নয়নাভিরাম দৃশ্য। যদি নালিতাবাড়ী উপজেলা শহর থেকে আসতে চান তাহলে প্রায় ১৯ কিলোমিটার দূরে রামচন্দ্রকুড়া ইউনিয়নে অবস্থিত এ স্থানটি। শহরের গড়কান্দা চৌরাস্তা মোড় থেকে সোজা উত্তরে প্রথমে নাকুগাঁও পরে পূর্ব দিকটায় মোড় নিয়ে সৌন্দর্যমন্ডিত ভোগাই ব্রিজ পাড়ি দিতে হবে। এরপর সোজা পূর্ব দিকে প্রায় আড়াই থেকে তিন কিলোমিটার গেলে চায়না মোড়।
এই মোড়ে এসেই আবারও গতিপথ বদলিয়ে যেতে হবে সোজা উত্তরে। উত্তরের এ রাস্তা ধরে প্রায় এক কিলোমিটার গেলেই পানিহাটা-তারানির সবুজ শ্যামলীময় পাহাড়। সেখান থেকে ভিতরে ঢুকতেই দেখতে পাবেন সবুজের সমারোহ। ব্যক্তিগত উদ্যোগে রিকশা, সিএনজি অটোরিশা বা ভাড়ায়চালিত মোটর সাইকেলেও যাওয়া যায়। জেলা শহর থেকে ২০০-২৫০ টাকা আর নালিতাবাড়ী শহর থেকে মাত্র ৩৫-৪৫ মিনিটের ব্যবধানে এবং অল্প খরচের মধ্যেই চলে যাবেন আপনার গন্তব্যে।


এই বিভাগের আরও খবর
error: কপি হবে না!
error: কপি হবে না!