• মঙ্গলবার, ১৮ মে ২০২১, ০৮:৩১ পূর্বাহ্ন

বিনামূল্যে আইনি সহায়তা ॥ শেরপুরে পথের দিশা পাচ্ছে হাজারো অসহায় মানুষ

তাজুমুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশকাল : মঙ্গলবার, ৪ মে, ২০২১

জাতীয় আইনগত সহায়তার (লিগ্যাল এইড) আওতায় বিনামূল্যে সেবা নিয়ে শেরপুরে পথের দিশা পাচ্ছেন অনেক অসহায়-হতদরিদ্র মানুষ। ওই কর্মসূচির আওতায় শেরপুরে এবার গত এক বছরে
সেবা ভোগ করেছেন প্রায় ২ হাজারেরও বেশি মানুষ।
জেলা লিগ্যাল এইড অফিস সূত্র জানায়, করোনাকালীন গত এক বছরে অর্থাৎ ২০২০ সালের ২৮ এপ্রিল থেকে ২০২১ সালের ২৮ এপ্রিল পর্যন্ত সরাসরি মামলার জন্য আবেদন পড়েছে ৩শ ৪৫টি, মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে ৬৫টি, বিকল্প পদ্ধতিতে সফল নিষ্পত্তি ২শ ৮৩টি, নথিজাত আছে ৮৩টি, অপেমাণ ১শ ৩টি; পরামর্শ প্রদান করা হয় ৭শ ৪২ জনকে, এডিআরের মাধ্যমে বিচারাধীন বা চলমান মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে ২শ ৪২টি। একই বছরে এডিআরের মাধ্যমে ২ কোটি ৫০ লাখ ৪৭ হাজার ৬৫০ টাকা আদায় করে পগণের মধ্যে বুঝিয়ে দেওয়া হয়, যা বিগত বছরের তুলনায় দ্বিগুণ বিচার প্রার্থী সরকারি আইনি সহায়তা পেয়েছেন।
উপকারভোগী নালিতাবাড়ী উপজেলার ওজুফা বেগম জানান, তার স্বামী তার কাছে যৌতুক দাবি করেন। তিনি তা দিতে না পারায় নির্যাতনের শিকার হয়ে এক বছর আগে বাবার বাড়িতে ফিরে আসেন। পরে তার স্বামী মোর্শেদ তাকে তালাক দেন। তখন তাদের মেয়ের বয়স ৬ বছর। পরে একদিন এক আত্মীয়ের কাছে ওজুফা জানতে পারেন, জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে বিনামূল্যে সেবা দেওয়া হয়। এরপর ২০২০ সালের জানুয়ারিতে তিনি সেখানে গিয়ে আইনি সহায়তার জন্য আবেদন করেন। জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার (সিনিয়র সহকারী জজ) জুলফিকার হোসাইন রনি ওজুফার পে মামলা লড়তে ওই সময় প্যানেল আইনজীবী নিয়োগ দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। পারিবারিক ওই মামলায় চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে ওজুফার পে রায় হওয়ার পর সদ্য সাবেক স্বামী মোর্শেদ ওজুফার সব পাওনা জেলা লিগ্যাল এইড অফিসের মাধ্যমে পরিশোধ করেন। এ বিষয়ে ওজুফা বেগম লিগ্যাল এইড অফিসের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, লিগ্যাল এইড অফিসের মাধ্যমে মামলা চালাতে আমার একটি পয়সাও খরচ হয়নি। দেনমোহরের টাকা বুঝে পাইছি। জেলা লিগ্যাল এইড অফিস আমাকে অনেক সাহায্য করেছে।
কেবল ওজুফাই নয়, তার মতো এমন অনেক অসহায় ও আর্থিক অসচ্ছল ভুক্তভোগীদের বিনামূল্যে আইনি সেবা দিয়ে যাচ্ছে জেলা লিগ্যাল এইড অফিস।
এ ব্যাপারে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার (সিনিয়র সহকারী জজ) জুলফিকার হোসাইন রনি শ্যামলবাংলা২৪ডটকমকে জানান, মানুষ এখন নিজের অধিকার সম্পর্কে যথেষ্ট সচেতন। জেলা লিগ্যাল এইড কমিটির সভাপতি জেলা ও দায়রা জজ মহোদয়ের সার্বিক দিকনির্দেশনায় এগিয়ে যাচ্ছে এর কার্যক্রম। তিনি আরও বলেন, বিনামূল্যে আইনি সেবার পাশাপাশি বিকল্প পদ্ধতিতে বিরোধ নিষ্পত্তি বা এডিআর কার্যক্রম বিচারপ্রার্থী জনগণের মাঝে দ্রততম সময়ে ন্যায়বিচার প্রাপ্তিতে বৈল্পবিক পরিবর্তন এনেছে। গত এক বছরে শেরপুরে প্রায় ২ হাজারেরও বেশি মানুষকে আইনি সহায়তা দেওয়া হয়েছে। এতে আর্থিকভাবে পর্যুদস্ত অসহায়-হতদরিদ্র মানুষগুলো বিনামূল্যে আইনি সহায়তা নিয়ে তাদের পথের দিশা পাচ্ছেন।


এই বিভাগের আরও খবর