• মঙ্গলবার, ১৮ মে ২০২১, ০৭:৫৭ পূর্বাহ্ন

একজন সফল স্বপ্নসারথির চলে যাওয়া ॥ রফিকুল ইসলাম আধার

রফিকুল ইসলাম আধার , সম্পাদক
প্রকাশকাল : সোমবার, ৩ মে, ২০২১

শিল্পপতি ইদ্রিস মিয়ার প্রয়াণ

সেদিনকার সময়ক্ষণটা ছিল ১০ এপ্রিল শনিবার সন্ধ্যা ৭ টা। ওইদিন বৃহত্তর ময়মনসিংহের অন্যতম প্রধান একটি শিল্প প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যানের সাথে সেই কোম্পানীর লিগ্যাল এ্যাডভাইজার হিসেবে সিনিয়র আইনজীবী এডভোকেট নারায়নচন্দ্র হোড় ও আমিসহ অপরাপরদের এক বিশেষ মিটিং ছিল। আর সেই মিটিংয়ে অংশ নিতে প্রস্তুতি গ্রহণের পূর্বাহ্নেই কোম্পানীর ডিজিএম (প্রশাসন) মোবাইলে জানিয়ে দিলেন ‘বড় সাহেবের (চেয়ারম্যান) শরীরটা ভালো না। এজন্য আজকের মিটিং স্থগিত করা হয়েছে। তার শরীরটা একটু ভালো হলেই মিটিংয়ের পরবর্তী তারিখ জানিয়ে দেওয়া হবে’। ওই প্রতিষ্ঠানে চেয়ারম্যানের সাথে উপদেষ্টাদের মিটিংয়ের জানান দেওয়ার দায়িত্বটা ডিজিএমই (প্রশাসন) বরাবর পালন করে আসছিলেন। এজন্য স্থগিত হওয়া মিটিংটির পরবর্তী ডাক তার কাছ থেকেই পাব বলেই মনে-মনে অপেক্ষায় ছিলাম। কিন্তু হায়! তার ৩ দিন যেতে না যেতেই ১২ এপ্রিল সোমবার রাত ৯ টার দিকে তার মোবাইল ঠিকই পেলাম, তবে তা স্থগিত হওয়া মিটিংটি করার জন্য নয়, বড় সাহেবের মৃত্যু সংবাদ জানানোর জন্য। এ যেন সত্যিই মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়ার মতো দশা হলো আমার। ওই দুঃসংবাদ শোনার পর নিথর-নিস্তব্ধ পাথরে পরিণত হওয়ার অবস্থায় পতিত হয়ে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে পড়ি।

হ্যা, ওই দুঃসংবাদটি ছিল আমাদের শেরপুরের ইদ্রিস গ্রুপ অব কোম্পানীজের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোঃ ইদ্রিস মিয়ার মৃত্যু সংবাদ। আর ১২ এপ্রিল ওই কোম্পানীর চেয়ারম্যানের সাথে আইন উপদেষ্টাদের মত বিনিময় সভা ছিল শহরের নারায়ণপুরস্থ তারই জিহান ভবনে। সভা স্থগিতের বিষয়ে জানান দিতে মোবাইল করে ছিলেন কোম্পানীর ডিজিএম (প্রশাসন) কামরুজ্জামান রিপন। আর তিনিই জানিয়ে ছিলেন দুঃসংবাদটিও। অবশেষে ১ মে বিকেলে প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যানের অনুপস্থিতিতে ওই সভা করতে হয়েছে তারই সহধর্মিনী আলহাজ্ব মিসেস রেহানা ইদ্রিস ও একমাত্র পুত্র গুলজার ইয়াহহিয়া জিহানের সাথে।
সত্যিই শিল্পপতি ইদ্রিস মিয়ার ওই মৃত্যু সংবাদে আমার মতো লাখো শুভানুধ্যায়ী খুবই মর্মাহত হলেও প্রকৃতির অমোঘ নিয়মের ধারাবাহিকতায়ই তার চলে যাওয়া। তবে আমাদের শেরপুরের অতি পরিচিতজন আলহাজ্ব মোঃ ইদ্রিস মিয়ার চলে যাওয়াটা যেন অনেকটা হঠাৎ করেই ও খুব অসময়ে। জন্মসূত্রের অধিবাসী হিসেবে তিনি কেবল শেরপুরের নয়, খোদ বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলসহ দেশের অধিকাংশ এলাকায় ছিল তার পরিচিতি ও সুখ্যাতি।
রশিদা বিডির ফ্যাক্টরী থেকে ব্যবসায় উত্থান এবং ধাপে ধাপে আরও বিভিন্ন ক্ষেত্রে আকাশ ছোঁয়া সফলতায় দেশের অন্যতম পরিচিত শিল্পপতি-ক্রোড়পতি বনে গিয়ে আলহাজ্ব মোঃ ইদ্রিস মিয়া ছিলেন ইদ্রিস গ্রুপ অব কোম্পানীজ এর চেয়ারম্যান। আর ওই কোম্পানীর অধিভূক্ত প্রতিষ্ঠান ছিল রশিদা বিড়ি ফ্যাক্টরী, রসিদা জর্দা, জিহান অটো রাইস মিল, জিহান ডেইরী ফার্ম, জিহান অটো ব্রিকস, জিহান মিল্ক, সাপ্তাহিক নতুগ যুগ, অনলাইন নিউজপোর্টাল নতুনযুগডটকম, সম্পদ প্লাজা (শেয়ার) এবং রেহানা ইদ্রিস মডেল একাডেমীসহ প্রায় ১০/১২টি উল্লেখযোগ্য প্রতিষ্ঠান। কাজেই হাজার-হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীর ওই বিশাল কর্মযজ্ঞের ক্ষেত্র চালনা একজন কর্ণধার হিসেবে তার পক্ষে মোটেই সহজ ছিল না। তদুপরি ব্যবসার বিশাল ক্ষেত্র পরিচালনা আর ব্যস্ততার পরও সেই অঙ্গন ছাপিয়ে শিক্ষানুরাগী, ধর্মানুরাগী ও একজন দানবীর-মানব দরদী হিসেবেও তার যথেষ্ট পরিচিতি ও খ্যাতি রয়েছে সর্বমহলে। কাজেই করোনা মহামারীর এই দুঃসময়ে তার চলে যাওয়া হাজার-হাজার অসহায়দের পাশাপাশি বিভিন্ন অঙ্গনকেই শোকাহত করে তুলেছে নিঃসন্দেহে।

অন্য একাধিক বিড়ির কোম্পানীতে চাকুরীর সুবাদে দক্ষ কারিগরের অভিজ্ঞতা অর্জন এবং সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে নিজের প্রতিষ্ঠিত রশিদা বিড়ি ফ্যাক্টরী থেকেই আলহাজ্ব মোঃ ইদ্রিস মিয়ার উত্থান ও অভাবনীয় সফলতার পর থেকে তার আর পিছু ফিরে তাকাতে হয়নি। সফলতার ধারাবাহিকতায় যে কর্মেই তিনি হাত দিয়েছেন, সেখানেই পেয়েছেন সফলতা। সত্যিই তিনি নতুন কিছু করার ও গড়ার যেমন স্বপ্ন দেখতেন এবং সেইসব ক্ষেত্রে পেতেন কাক্সিক্ষত সফলতা, তেমনি অনুসারী শুভানুধ্যায়ী মানুষকেও দেখাতেন তিলেতিলে গড়ে উঠা আর সফলতার স্বপ্ন। অর্থাৎ তিনি নিজে যেমন সুন্দর গড়ার স্বপ্ন দেখতেন, তেমনিই অন্যকেও দেখাতেন সফলতার সেই স্বপ্ন। আর এজন্য তাকে একজন সফল স্বপ্নসারথিই বলা যায়।
শহরের নারায়ণপুর এলাকায় রেহানা ইদ্রিস একাডেমী নামে মনোরম পরিবেশে বহুতল ভবনে প্রতিষ্ঠিত আধুনিক প্রাইভেট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শেখহাটি এলাকায় জেলার অন্যতম প্রধান ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ইদ্রিসিয়া কামিল মাদ্রাসা, কামারিয়া এলাকায় বাবর আলী উচ্চ বিদ্যালয় ও জিহান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি নারায়ণপুর (বাগবাড়ী) ফ্যাক্টরি মোড়ে পিতার নামে দৃষ্টিনন্দন বাবর আলী মসজিদই কেবল নয়, শেরপুরসহ তার ব্যবসার বিভিন্ন অধিক্ষেত্র এলাকায় গড়ে তুলেছেন বা গড়ে তুলতে সহায়তা করেছেন শত শত ধর্মীয়, শিক্ষাসহ সামাজিক সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানের। ওইসব প্রতিষ্ঠানগুলো বাড়িয়েছে ইদ্রিস মিয়ার সুনাম ও মর্যাদা। এছাড়া তার জীবনে কত যে ধর্মীয়-সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের সহায়তা দিয়েছেন তার হিসেব করাই কঠিন। এইতো বেশিদিন আগের কথা নয়, কবছর আগেও শেরপুরের বিভিন্ন এলাকায় তার কোম্পানীর সৌজন্যে বিভিন্ন এলাকায় ঐতিহ্যবাহী হাডুডু, ক্রিকেট ও ফুটবল টুর্নামেন্টের জমজমাট আয়োজন হতো। বিশেষ করে শহরের বিসিক মাঠে প্রায় দুই যুগ পূর্বে আয়োজিত হাডুডু খেলাটি এখনও ভুলেনি এই অঞ্চলের হাজার-হাজার মানুষ। আর ওই খেলা নিয়ে একটু স্মৃতি চারণ করতে গিয়ে বলতে হয়, ওই খেলায় ফাইনাল পর্বে খেলার সুযোগ হয়েছিল আমার নিজ এলাকার (দমদমা কালিগঞ্জ) টিমের। আর সেই টিমের ম্যানেজার হিসেবে ফাইনাল খেলায় অনেকটাই মসিবতে পড়তে হয়েছিল আমাকে। কারণ আমাদের টিমের অধিনায়ক ছিলেন কালা পাহাড় খ্যাত দেশের এক সেরা খেলোয়াড় এবং প্রতিদ্বন্দ্বী দলের (আন্তঃজেলা ট্রাকচালক-শ্রমিক ইউনিয়ন) অধিনায়ক ছিলেন উমেদ আলী নামে আরেক আলোচিত খেলোয়াড়। কিন্তু আমাদের দলের অবস্থা তুলনামূলকভাবে ভাল থাকার পরও কেবল তারা একই অঞ্চলের হওয়ায় শেষ পর্যায়ে খেলাটি পাতানো খেলায় পরিণত হয় এবং তাতে ফাইনাল খেলাটা ড্র হয়ে যায়। ফলে পরদিন খেলতে হলে যে অর্থের প্রয়োজন তা তৎকালে আমার তরফ থেকে এবং এলাকার তরফ থেকে যোগান দেওয়া সম্ভব নয় বলেই পরের দিনের বা ফাইনালের শেষ পরিণতি আঁচ করতে পেরে নিজের সমস্যা একান্তে খুলে বলি খেলা পরিচালনা কমিটির সভাপতি পৌরসভার তৎকালীন বৃহত্তর ৩নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মোকছেদুর রহমান তালুকদারকে। অতঃপর তার পরামর্শে কয়েকজনকে নিয়ে কথা বলি খেলার ডোনার প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোঃ ইদ্রিস মিয়ার সাথে। তিনি আমার কথাসহ পূর্বাপর অবস্থা বুঝতে পেরে উভয় দলকে যুগ্ম চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করে সন্ধ্যায় ট্রফি তুলে দেন উভয় দলের হাতে। আর তাতে হাঁফ ছেড়ে যেন বাঁচি আমরা।
মিশুক প্রকৃতি আর সাধাসিধে ও রসালো কথা-বার্তা ছিলো ইদ্রিস মিয়ার জীবনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। সঙ্গত কারণে সভা-সমাবেশে নিজের স্বভাবসুলভ কথাবার্তায় মানুষকে খুবই হাসাতেন তিনি। সেটা কোন আলোচনা সভা হোক বা হোক ধর্মসভা।
এ কথা বলার অবকাশ রাখে না যে, শেরপুরের একজন প্রধান প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী হিসেবে তার কদরের পাশাপাশি সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন অঙ্গনেই তার ডাক পড়তো। ওইসব অঙ্গনেও তিনি তার স্বভাবসুলভ কথা-বার্তায় অনেকের কাছে নিজের ভিন্নতর পরিচিতির অবস্থান করে নিতেন। আর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানগুলোতে উৎসাহ-উদ্দীপনা যোগানোর পাশাপাশি তিনি নিজেও অনেকটাই উদ্বেলিত হয়ে পড়তেন। প্রায় ছ’মাস পূর্বে জিহান ভবনে আয়োজিত এক ঘরোয়া সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে তিনি আনন্দের আতিশয্যে মঞ্চের বেষ্টনীতে উল্টে পড়ে সামান্য আহত হয়ে অতিথি হাইকোর্টের মান্যবর বিচারপতি আশীষ রঞ্জন দাসসহ উপস্থিত সবাইকে আতঙ্কিত করে তুলেছিলেন। কেবল তাই নয়, জাতীয় অনুষ্ঠানাদিতে তার থাকতো ব্যতিক্রমী উপস্থিতি। বিজয় দিবস বা স্বাধীনতা দিবসের খেলাধূলায় শহীদ দারোগ আলী পৌর পার্ক মাঠে তাকে যেমন দেখা গেছে বেশ নাটকীয়তায়, তেমনি একবার তার এক কানাডা প্রবাসী বন্ধু হামিদুল ইসলাম মাসুদের সাথে যেমন খুশি তেমন সাজোতে অংশ নিয়ে প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাসহ উপস্থিত হাজার হাজার দর্শক-শ্রোতাকে তাক লাগিয়েছিলেন।
তবে সামাজিক ও ব্যবসায়িক স্বার্থে তাকে সকল রাজনৈতিক সরকারের মেয়াদেই সকল অনুষ্ঠানাদিতে থাকতে হয়েছে। এ নিয়ে তার আদর্শিকতার প্রশ্নে মৃদু বিতর্ক থাকলেও মূলতঃ তিনি ছিলেন দলনিরপেক্ষ তথা স্বতন্ত্র আর স্বাতন্ত্র্যবোধে আচ্ছন্ন। সাম্প্রতিককালে জাতীয় সংসদের হুইপ বীর মুক্তিযোদ্ধা আতিউর রহমান আতিক এমপি ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাডভোকেট চন্দন কুমার পাল পিপির সাথে সুসম্পর্কের পাশাপাশি একসময় সাবেক হুইপ প্রয়াত জাহেদ আলী চৌধুরী, জেলা বিএনপির সভাপতি প্রয়াত এ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম কালাম ও সাবেক পৌরপতি প্রয়াত আব্দুর রাজ্জাক আশীষের সাথেও ছিল তার একই সম্পর্ক। এছাড়া রাজনীতিক বিপ্লবী রবি নিয়োগী থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক প্রয়াত নিজাম উদ্দিন আহমদ, প্রয়াত এ্যাডভোকেট আব্দুস সামাদ, সাবেক এমপি শাহ রফিকুল বারী চৌধুরী, সাবেক এমপি ও জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান প্রয়াত খন্দকার খুররম, সাবেক পৌরপতি লুৎফর রহমান মোহন, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ইলিয়াস উদ্দিন, মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক প্রয়াত সৈয়দ এমদাদুল হক হীরা ও প্রয়াত আব্দুর রশিদ, জেলা মুক্তিযোদ্ধা ইউনিটের সাবেক কমান্ডার নুরুল ইসলাম হিরুর সাথে সামাজিক সম্পর্কের পাশাপাশি ব্যবসায়িক ও সামাজিকভাবে নিবিড় সম্পর্ক ছিল চেম্বার অব কমার্সের সাবেক সভাপতি প্রয়াত আমজাদ হোসেন, জেলা মুক্তিযোদ্ধা ইউনিটের সাবেক কমান্ডার প্রয়াত আবু বক্কর, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল ওয়াদুদ অদু, আলহাজ্ব মোঃ জয়নাল আবেদীন ও দিলীপ পোদ্দারের মতো অহিংস অনেকের সাথেই। তাছাড়া হাইকোর্টের বিচারপতি আশীষ রঞ্জন দাস ও সদ্য অবসরে যাওয়া পুলিশের ডিআইজি নিবাস চন্দ্র মাঝিসহ উচ্চ পর্যায়ের অনেকের সাথেই ছিল তার পারিবারিক সম্পর্ক। কাজেই এ কথা স্বীকার করে নিতেই হবে যে, সবকিছুর উর্ধ্বে তিনি ছিলেন অসাম্প্রদায়িক চেতনার। শহরের মুসলিমদের পাশাপাশি হিন্দু ব্যবসায়ী আর অন্যান্য ধর্মাবলম্বী মানুষের সাথে তার কেবল ব্যবসায়িক নয়, সামাজিক সম্পর্কও ছিল বিরল। যে কারণে পিতার মৃত্যুবার্ষিকীর পাশাপাশি প্রতিবছর তিনি নিজ উদ্যোগে নিজের বাসায় তার প্রয়াত উস্তাদ জ্ঞানেন্দ্র মোহন দত্ত ওরফে পেতু দত্তের বার্ষিক শ্রাদ্ধানুষ্ঠানও করে আসছিলেন নিয়মিত।
তিনি আপাদমস্তক একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ীর পাশাপাশি ছিলেন একজন নিঃস্বার্থ সমাজ সংগঠক। তিনি জেলা ব্রিক ফিল্ড মালিক সমিতি ও আন্তঃজেলা ট্রাক মালিক সমিতির দীর্ঘদিনের সফল সভাপতির পাশাপাশি আরও অনেক প্রতিষ্ঠানের মূল দায়িত্বে থাকা সত্ত্বেও তার জীবনের একটি অপূর্ণতা ছিল, তিনি স্থানীয় ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন চেম্বার অব কমার্সের নির্বাচনে একাধিকবার অংশ নিয়েও ওই সময়ে চলে আসা ‘পারিবারিক সিন্ডিকেট’ ও মামলা-মোকদ্দমার বেড়াজালে ওই প্রতিষ্ঠানের সভাপতির আসন অলংকৃত করতে পারেননি। তারপরও সকল শ্রেণি-পেশার ব্যবসায়ীদের প্রতি ছিল তার অগাধ শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা। গণমাধ্যম কর্মীদের সাথেও ছিল তার নিবিড় সম্পর্ক।
কাজেই আলহাজ্ব মোঃ ইদ্রিস মিয়ার মতো একজন সাদা মনের মানুষ, সফল ব্যবসায়ী-স্বপ্নসারথি ও মানবদরদী মানুষের চলে যাওয়া শেরপুরবাসীর জন্য নিঃসন্দেহে এক অপূরণীয় ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি এখন শায়িত আছেন শহরের নারায়ণপুর-বাগবাড়ী মোড়স্থ নিজের সদ্য প্রতিষ্ঠিত দৃষ্টিনন্দন বাবর আলী জামে মসজিদের পাশে। আজ পরিবর্তিত অবস্থায় তার প্রতিষ্ঠিত বিভিন্ন শিল্প-কারখানাগুলো তার অনুসৃত নীতি-দর্শনে পরিচালিত হোক, ওইসব প্রতিষ্ঠানের তরফ থেকে ইদ্রিস মিয়ার মতোই বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাড়ানো থাকুক সহায়তার হাত এবং তার মধ্য দিয়েই তিনি বেঁচে থাকুন যুগ যুগান্তরে, প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরেÑ এই প্রত্যাশা আমাদের।

লেখক : সাংবাদিক, কলামিস্ট ও আইনজীবী, শেরপুর।


এই বিভাগের আরও খবর