• মঙ্গলবার, ১৮ মে ২০২১, ০৭:৫৩ পূর্বাহ্ন

শ্রীবরদীতে গৃহবধূর গোসলের দৃশ্য দেখার প্রতিবাদ করায় বাড়িতে হামলা ॥ আহত ৬

রেজাউল করিম বকুল
/ ৯৩২ বার পঠিত
প্রকাশকাল : রবিবার, ২ মে, ২০২১

শেরপুরের শ্রীবরদীতে এক গৃহবধূর গোসলের দৃশ্য দেখার প্রতিবাদ করায় ওই গৃহবরূর বাড়িতে হামলার ঘটনায় ৬ জন আহত হয়েছে। ওই সময় ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ ওঠেছে। গত ২৮ এপ্রিল বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার রাণীশিমুল ইউনিয়নের ভায়াডাঙ্গা বালুরচর গ্রামে ওই হামলার ঘটনা ঘটে। আহতরা উপজেলা সদর ও ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ওই ঘটনায় শনিবার রাতে থানায় একটি মামলা হয়েছে। এদিকে ঘটনার ৩ দিন পরও আহতদের পরিবারের লোকজন হামলাকারীদের আতঙ্কে বাড়িতে যেতে পারছে না। ফলে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন হামলার শিকার ৪টি পরিবার।

জানা যায়, ভায়াডাঙ্গা বালুচর গ্রামে হতদরিদ্র আব্দুল বারিকের বাড়িতে কিছুদিন যাবত টিউবওয়েল থেকে পানি আসছে না। এজন্য ওই বাড়ির লোকজন পার্শ্ববর্তী আব্দুর রহিমের বাড়িতে গিয়ে সেচ পাম্পের পানিতে গোসল করে। গত ২৮ এপ্রিল বুধবার দুপুরে ওই বাড়ির এক গৃহবধূ ও তার কিশোরী মেয়ে সেচ পাম্পে গোসল করতে গেলে প্রতিবেশী লিটন মিয়ার ছেলে উসমান (২৮) চুপি চুপি কাছে গিয়ে তাদের গোসলের দৃশ্য দেখে। ভেজা কাপড় বদলানোর সময় উসমানকে দেখতে পায় তারা। ওইসময় গৃহবধূ তাকে ধমক দিলে উসমান ক্ষিপ্ত হয়ে গৃহবধূ ও তার মেয়ের শ্লীলতাহানীর চেষ্টা করে। পরে চিৎকার-চেচামেচি শুনে বাড়ির লোকজন এগিয়ে গেলে উসমান ঘটনাস্থল থেকে সরে যায়। এদিকে ওই ঘটনায় ক্ষিপ্ত হয়ে ওইদিন বিকেলে উসমান শ্লীলতাহানির শিকার গৃহবধূর শ্বশুর সাবদুলকে বেদম মারপিট করে। এতে গুরুতর আহত হন সাবদুল। পরে তার পরিবারের লোকজন তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। ওইদিন রাত সাড়ে ৯ টার দিকে আবারও উসমান, অপু মিয়া (২৪), লিটন মিয়া (৫৫), মনির (২৩) ও ফজল (৫৫)সহ ৭/৮ জন ওই গৃহবধূর বাড়িতে ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। ওইসময় বাড়ির মালামাল ও গরু-ছাগল লুটপাটসহ ঘরের জানালা-দরজা ভাঙচুর করে তারা। বাড়ির লোকজন বাঁধা দিতে গেলে গুরুতর আহত হন ওই গৃহবধূ, তার স্বামী, ভাসুর, দেবর, দেবরের স্ত্রী, শ্বশুর ও শ্বাশুড়ি। এদের মধ্যে একজনের অবস্থার অবনতি হওয়ায় শনিবার বিকেলে তাকে জেলা সদর হাসপাতাল থেকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
ওই ঘটনায় আহত গৃহবধূর দেবর বাদী হয়ে উসমানসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছেন। তিনি বলেন, ঘটনার পর থেকে আমরা তাদের হুমকি-ধামকিতে বাড়িতে যেতে পারছি না। ৪টি পরিবারের সবাইকে মেরে বাড়ির সব মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে। আমরা এর বিচার চাই।
এ ব্যাপারে কথা হয় উসমান এর কাকা ফজল মিয়ার সাথে। তিনি হামলার কথা স্বীকার করলেও লুটপাটের কথা অস্বীকার করে বলেন, বিষয়টি আপোস-মিমাংসার কথা হচ্ছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে এসআই নাজমুল বলেন, আসামিদের গ্রেফতারে চেষ্টা চলছে। এদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আনোয়ার হোসেন বলেন, একজনের অবস্থা আশংকাজনক। এ জন্য তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রেফার করা হয়েছে।


এই বিভাগের আরও খবর