• মঙ্গলবার, ১৮ মে ২০২১, ০৮:০৮ পূর্বাহ্ন

নালিতাবাড়ীতে পঙ্গু আজিবরের দিনকাটে ভিক্ষা করে, জুটেনি প্রতিবন্ধী ভাতা

খোরশেদ আলম, ঝিনাইগাতী
প্রকাশকাল : রবিবার, ২ মে, ২০২১

বাধ্য হয়ে ভিক্ষাবৃত্তির পথ বেছে নিয়েও পঙ্গু আজিবরের দিন কাটে অনাহারে-অর্ধাহারে। সহায় সম্বলহীন আজিবর (৬০) শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার নন্নী ইউনিয়নের বনকুড়া গ্রামের মৃত মজিবর রহমানের ছেলে। কিন্তু দুর্ঘটনায় পঙ্গু হওয়ার দীর্ঘ ১০ বছরেও তার ভাগ্যে জুটেনি কোন প্রতিবন্ধী ভাতা।
জানা যায়, আজিবর রহমান পেশায় একজন রিক্সাচালক ছিলেন। তিনি রাজধানী ঢাকার গাজীপুরায় রিক্সা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। রিক্সা চালিয়ে তার যা আয় হতো তা দিয়ে ভালই কাটছিল ৩ ছেলে ও স্ত্রীসহ ৫ সদস্যের পরিবার। কিন্তু ২০১১ সালে আজিবর রিক্সায় যাত্রী নিয়ে যাওয়ার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতরভাবে আহত হয়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। চিকিৎসা করে কিছুটা সুস্থ্য হলেও তার দু’পা অবশ হয়ে যায়। নষ্ট হয়ে যায় বাকশক্তি। চিকিৎসা শেষে পঙ্গু আজিবরকে গ্রামের বাড়িতে আনা হয়। এরপর থেকে পঙ্গু আজিবর কর্মহীন হয়ে পড়ে। ছেলে শাহিন (১৮) শান্ত (১৪) ও ১ বছরের শিশু হৃদয়কে রেখে তার স্ত্রী অন্যত্র চলে যান। সে আর ফিরে আসেনি। পরবর্তীতে স্ত্রী ফিরে না আসলেও নানীর সাংসারিক অবস্থা ভাল না থাকায় শিশু হৃদয়ও চলে আসে পঙ্গু বাবার কাছে।

আজিবর জানান, ভিটেমাটি ছাড়া অন্য কোন সহায়সম্বল না থাকায় বাধ্য হয়ে ভিক্ষাবৃত্তির পথ বেছে নেন তিনি। তার চলাচলের হুইল চেয়ারটিও ভিক্ষার টাকা দিয়ে কেনা। তিনি জানান, আমি একটি পঙ্গু ভাতার কার্ডের জন্য মেম্বারের কাছে গেছি। হাত দিয়ে হুইল ঠেলে ঠেলে নন্নী চেয়ারম্যানের কাছেও গেছি, তারা আমাকে পাত্তা দেয় না। তিনি আরও জানান, এ পর্যন্ত সরকারি বে-সরকারি কোন প্রকার সাহায্য সহযোগিতা জুটেনি তার ভাগ্যে। ভিক্ষাবৃত্তি করে যা পায় তাই দিয়ে কোন রকমে খেয়ে না খেয়ে চলে তার সংসার। একদিন ভিক্ষাবৃত্তি করতে বের না হলে সেদিন তাদের থাকতে হয় অনাহারে অর্ধাহারে।
নন্নী ইউনিয়নে ৯ নং ওয়াডের ইউপি সদস্য শফিকের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, কয়েক টার্ম থেকে মেম্বার হিসেবে আছি। বিষয়টা আমি দেখবো, আপনারা পত্রিকায় লিখবেন না, এতে আমার সুনাম ক্ষুন্ন হবে। এতদিন কেন তাকে কোন সাহায্য সহযোগিতা করা হয়নি জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, তার বউ নেই, তাই তার নামে বরাদ্দ দেয়া সম্ভব হয়নি।
এ ব্যাপারে নন্নী ইউপি চেয়ারম্যান একেএম মাহবুবুর রহমান রিটন বলেন, পঙ্গু আজিবরের বিষয়টি তার জানা ছিল না। আগামীতে বরাদ্দ এলে তার ভাতা প্রদানে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।


এই বিভাগের আরও খবর