• মঙ্গলবার, ১৮ মে ২০২১, ০৭:৩৫ পূর্বাহ্ন

নকলায় ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে মৌসুমি ফল তরমুজ !

জাহাঙ্গীর হোসেন, নকলা
প্রকাশকাল : বুধবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২১

শেরপুরের নকলায় রমজানের শুরু থেকেই চড়ামূল্যে ওজনে বিক্রি হচ্ছে মৌসুমি ফল তরমুজ। এখানে প্রতিটি তরমুজের দাম বর্তমানে দ্বিগুণেরও বেশি। পবিত্র রমজান মাসকে সামনে রেখে পিস হিসেবে তরমুজ কিনে ওজনে বিক্রি করায় দোকানিরা দ্বিগুণ লাভবান হলেও ঠকছেন সাধারণ ক্রেতারা। গরমের দিনে তৃষ্ণা নিবারণে ও শরীরকে একটু সতেজ করতে তরমুজের জুড়ি নেই। চলছে পবিত্র মাহে রমজান। সেই সাথে দিনের তাপমাত্রারাও অতীতের সকল রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। সুতরাং সারাদিন রোজা রাখার পর ইফতারিতে এক ফালি তরমুজ না হলে কি চলে! কিন্তু সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের কারণে সহজলভ্য এ মৌসুমি উপাদেয় ফলটি এখন আর সাধারণের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে নেই।
জানা যায়, নকলায় এই প্রথম ওজনে তরমুজ বিক্রি হওয়ায় ক্রেতা-বিক্রেতার মধ্যে বচসা সবসময় লেগেই আছে। আর ১ কেজি তরমুজের দাম যদি ৬০ টাকা হয়, আর তা যদি হয় রমজান মাস শুরু হওয়ার আগের সময়ের চেয়ে দামে দ্বিগুণেরও বেশি তাহলে বচসা না হয়ে উপায় আছে কি? অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিন অনুসন্ধানকালে দেখা যায়, নকলা পৌর শহরের কাচারি মোড়ে রয়েছে বেশ কয়েকটি তরমুজের দোকান। রমজানের আগে ওইসব দোকানে ৭/৮ কেজি ওজনের একটি তরমুজ বিক্রি হয়েছে ১৭৫/২০০ টাকায়। বর্তমানে তা ৬০ টাকা কেজি হিসেবে বিক্রি হচ্ছে ৪২০/৪৮০ টাকায়।

ক্রেতারা বলছেন রমজান মাসকে পুঁজি করে বেশি মুনাফার জন্য এক শ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ি পিস হিসেবে তরমুজ কিনে তা কেজিতে বিক্রি করে সাধারণ ক্রেতাদের পকেট খালি করছে। নকলা কাচারি মোড়ের তরমুজ ব্যবসায়িরা বলছেন, হঠাৎ করে পায়কারি বাজারে তরমুজের দাম বেড়ে যাওয়ায় তাদেরকেও বেশি দামে তরমুজ কিনে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। কিন্তু তারা যে তরমুজ কেজি হিসেবে কিনেননি এটা অকপটে স্বীকার করেছেন।
তরমুজ একটি রসালো ও পুষ্টিকর ফল। এতে রয়েছে প্রচুর পুষ্টি, ভিটামিন ও খনিজ। প্রাকৃতিকভাবে এতে কোন চর্বি থাকেনা। তরমুজের পটাসিয়াম শরীরের ফ্লুইড ও মিনারেলের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখে। তরমুজের ভিটামিন দৃষ্টি শক্তি উন্নত রাখে। বলা হয়ে থাকে মস্তিষ্ক থেকে পায়ের পাতা পর্যন্ত প্রতিটি সেলকে কার্যকরী করে তুলে তরমুজ। তরমুজের একটি বিশেষ উপাদান হার্টের কার্যক্ষমতা বাড়ায়। এর ভিটামিন ‘সি’ ক্যারোটিন ও পটাসিয়াম শরীরের কোলেস্টেরল কমাতে সহায়তা করে। তাছাড়া তরমুজে রয়েছে প্রচুর এন্টিঅক্সিডেন্ট।
ষাটোর্ধ বয়সের ওমর আলী শহরে এসেছিলেন তরমুজ কিনতে। কিন্তু ওজনে তরমুজ বিক্রি হয় এটা শুনে তো তার মাথা চড়কগাছ। তিনি জানান, তরমুজের কেজি ৬০ টাকা শুনে তিনি আর তরমুজে হাত বুলাতে সাহস পাননি। নকলা পৌরশহরের কাচারি মোড়ের ৩ জন তরমুজ ব্যবসায়ী জানালেন, তারা তরমুজ কিনেছেন পিস হিসেবে। কিন্তু কেজি হিসেবে বিক্রি কেন? ওই প্রশ্নের উত্তর তাদের কাছে নেই। প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে প্রশাসনের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন এলাকাবাসি। এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদুর রহমান জানান, বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


এই বিভাগের আরও খবর