• মঙ্গলবার, ১৮ মে ২০২১, ০৮:০৫ পূর্বাহ্ন

অবশেষে হেফাজতের কমিটি বিলুপ্ত : ৫ সদস্যের আহবায়ক কমিটি ঘোষনা

শ্যামলবাংলা ডেস্ক
/ ১৯৭ বার পঠিত
প্রকাশকাল : সোমবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২১

নানা ধরনের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে কোণঠাসা হয়ে অবশেষে কেন্দ্রীয় কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেছে হেফাজতে ইসলাম। ২৫ এপ্রিল রবিবার রাত ১১টার দিকে হেফাজতের আমির মাওলানা জুনাইদ বাবুনগরী ফেসবুকে এক ভিডিও বার্তায় ওই কমিটি বিলুপ্তির ঘোষনা দেন। ওইসময় জুনায়েদ
বাবুনগরী বলেন, ‘দেশের বর্তমান সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বড় অরাজনৈতিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হলো। দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে কেন্দ্রীয় কমিটির গুরুত্বপূর্ণ কয়েকজন সদস্যের সঙ্গে পরামর্শক্রমে ওই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইনশাআল্লাহ, আগামীতে আহ্বায়ক কমিটির মাধ্যমে আবার হেফাজতে ইসলামের কার্যক্রম শুরু হবে।’

এর আগে, চট্টগ্রামের হাটহাজারী মাদরাসায় হেফাজতের কেন্দ্রীয় জ্যেষ্ঠ নেতাদের এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সন্ধ্যার পর থেকে মাদরাসাটি ঘিরে রাখে বিপুলসংখ্যক র‌্যাব-পুলিশ। ওইসময় গ্রেফতার অভিযানের আশঙ্কাও তৈরি হয়। তবে রাতে বৈঠকের পর কমিটি বিলুপ্ত করার ঘোষণা এলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা মাদরাসা থেকে দূরে সরে আবস্থান নেন।

জানা যায়, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীর অনুষ্ঠান উপলক্ষে গত মাসের শেষ দিকে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফরের বিরোধিতা করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া, হাটহাজারীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ ও সহিংসতা চালায় হেফাজত। সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয় রিসোর্টে এক নারীসহ হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হক অবরুদ্ধ হওয়ার পর তার সমর্থকরা ব্যাপক ভাঙচুর ও সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে। এর পরই নাশকতায় জড়িত হেফাজত নেতাদের বিরুদ্ধে হার্ডলাইনে যায় সরকার। এরই মধ্যে মামুনুল হকসহ বেশ কয়েকজন কেন্দ্রীয় নেতা গ্রেফতার হয়েছেন। এরই মধ্যে হেফাজতের পক্ষ থেকে সরকার ও প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে সমঝোতার চেষ্টা করে বৈঠকের খবরও প্রকাশ পেয়েছে। গত সোমবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) কর্মকর্তাদের সঙ্গে দেখা করে হেফাজত নেতাদের একটি প্রতিনিধিদল গ্রেফতার বন্ধ করে সমঝোতার প্রস্তাব দেয়। আলোচনায় মামুনুল হকসহ রাজনৈতিক নেতাদের সংগঠন থেকে বাদ দিয়ে নতুন কমিটি গঠন ও রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণমুক্ত কওমি মাদরাসা পরিচালনাসহ ৩ টি শর্ত দেওয়া হয় হেফাজতকে। এরপর পদবঞ্চিত অরাজনৈতিক নেতারা সক্রিয় হয়ে ওঠার পাশাপাশি নতুন কমিটি গঠনের গুঞ্জনও শোনা যাচ্ছিল। গতকালই কওমী মাদরাসাগুলোর সর্বোচ্চ সংস্থা আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামি’আতিল কওমীয়া বাংলাদেশ ঘোষণা দেয়, কওমী মাদরাসায় ছাত্র-শিক্ষিকরা রাজনীতিতে যুক্ত থাকতে পারবেন না।

একটি সূত্র জানায়, গত সোমবার সমঝোতার আলোচনার পর বিভিন্ন পর্যায় থেকে আবার বসার প্রস্তাব দিয়েছে হেফাজত। গতকালও ঢাকায় একটি আলোচনার চেষ্টা করা হয়। এসব আলোচনায় প্রধান তিনটি শর্ত না মানলে হেফাজতের সঙ্গে কোনো বৈঠক হবে না বলে কড়াভাবে জানানো হয়েছে। গতকাল পর্যন্ত ঢাকায় ১৯ জন কেন্দ্রীয় নেতাসহ সারা দেশে হেফাজতের ৪ শতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। নতুন কমিটিতে পদবঞ্চিত শফীপন্থী নেতারা আসতে পারেন বলে জানা গেছে। আহ্বায়ক কমিটিও রাজনৈতিক নেতাদের বাদ দিয়ে করার নির্দেশনা আছে।

এদিকে, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণার সাড়ে ৩ ঘন্টার মাথায় ৫ সদস্যবিশিষ্ট আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। ২৬ এপ্রিল সোমবার রাত ৩ টার দিকে ফেসবুক লাইভে ওই তথ্য জানানো হয়।
আহ্বায়ক কমিটির সদস্যরা হলেন- প্রধান উপদেষ্টা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরী, আমীর জুনায়েদ বাবুনগরী, মহাসচিব নুরুল ইসলাম, সদস্য সালাহ উদ্দিন নানুপুরী ও সদস্য অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান।

উল্লেখ্য, ২০১০ সালে প্রথম কমিটির পর ২০২০ সালের ১৫ নভেম্বর জুনাইদ বাবুনগরীকে আমির করে ১৫১ সদস্যের কমিটি করা হয়। পরে এই কমিটি ২০১ সদস্যে বাড়ানো হয়। গত বছরের ১৩ ডিসেম্বর মহাসচিব নূর হোসাইন কাসেমী মারা গেলে নায়েবে আমির মাওলানা নুরুল ইসলাম জিহাদীকে মহাসচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়।


এই বিভাগের আরও খবর