• মঙ্গলবার, ১৮ মে ২০২১, ০৬:৫৩ পূর্বাহ্ন

শেরপুর সীমান্তে বন্যহাতির তাণ্ডব ॥ ফসল রক্ষায় দিশেহারা এলাকাবাসী

জুবাইদুল ইসলাম, স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশকাল : শনিবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২১

শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার সীমান্তবর্তী পাহাড়ি গ্রামগুলোতে বন্যহাতির তাণ্ডব শুরু হয়েছে। এতে চলতি বোরো ফসল নিয়ে আতঙ্কে রয়েছেন ওই এলাকার কৃষকরা। ফসল রক্ষায় গত কয়েক দিন ধরে মশাল জ্বালিয়ে নির্ঘুম রাত কাটছে এলাকাবাসীর।

জানা যায়, নালিতাবাড়ী উপজেলার ডালুকোনা ও খলচান্দা এলাকার পাহাড়ের টিলা থেকে সন্ধ্যা হলেই হাতির দল খাবারের সন্ধানে নেমে আসে পাকা ধান ক্ষেতে। বোরো ফসল রক্ষায় এলাকাবাসী হাতি তাড়াতে মশাল জ্বালিয়ে নিজের জমিতে অবস্থান করছেন। ঢাকঢোল পিটিয়ে শব্দ করে হাতির দল তাড়াতে চেষ্টা করছেন স্থানীয়রা।
খলচান্দা গ্রামের পরিমল কোচ জানান, বর্তমানে পাহাড়ের সমতলে বোরো ধান পাকা শুরু হয়েছে। প্রতিবছরই ধান ও কাঁঠাল পাকার মৌসুমে হাতির পালটি সন্ধ্যার দিকে খাদ্যের সন্ধানে লোকালয়ে চলে আসে। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ২০-২৫টি বন্য হাতির পাল উপজেলার আন্ধারুপাড়া গ্রামের ডালুকোনা এলাকার পাহাড় ধান ক্ষেতে নেমে আসে। স্থানীয়রা সীমান্ত এলাকায় মশাল জ্বালিয়ে ও হৈ-হুল্লোড় করে হাতি তাড়িয়ে দেয়। দিনের বেলা হাতিগুলো সীমান্তের শুন্য রেখায় পাহাড়ে অবস্থান করে আর সন্ধ্যা হলেই সমতলে ধান ক্ষেতে নেমে আসে।

স্থানীয় পোড়াগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজাদ মিয়া জানান, প্রায় ১৫/২০ বছর আগে বন্যহাতির দল ভারতের মেঘালয়ের পিক পাহাড় থেকে দলছুট হয়ে বাংলাদেশের গারো পাহাড়ে চলে আসে। ভারত সীমান্তের কাঁটাতারের বেড়া ও ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফের বাধার কারণে হাতিগুলো পুনরায় তাদের আবাসস্থলে ফিরে যেতে পারেনি। প্রথম দিকে গারো পাহাড়ে অবস্থান নেওয়া ওই হাতির সংখ্যা ছিল ২০-২৫টি। বর্তমানে এ সংখ্যা ৫০-৬০টির বেশি। এই দলটি সীমান্ত এলাকা চষে বেড়ায়। তিনি আরও বলেন, ক’দিন ধরে পাহাড়ি গ্রামের মানুষের ঘুম নাই। সন্ধ্যা হলে ফসল রক্ষার জন্য লোকজন নিয়ে মশাল জ্বালিয়ে ক্ষেতেই রাত কাটায়। ধান পাকলেই প্রতিবছর আমরা এভাবেই ধান ক্ষেত রক্ষা করি। আমরা ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি।
এ বিষয়ে নালিতাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হেলেনা পারভীন বলেন, খবর পেয়ে আমি ওই এলাকায় গিয়েছিলাম। বন্যহাতি তাড়ানোর জন্য মশাল জ্বালাতে ৫১ জনের মাঝে ৫ লিটার করে কেরোসিন তেল বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকাও করা হচ্ছে।


এই বিভাগের আরও খবর