• মঙ্গলবার, ১৮ মে ২০২১, ০৮:১১ পূর্বাহ্ন

কোটি টাকার সৌরচালিত পাতকুয়ায় সুফল পাচ্ছেন না কৃষকরা

মইনুল হোসেন প্লাবন, স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশকাল : বুধবার, ২১ এপ্রিল, ২০২১

শেরপুরের নালিতাবাড়ী ও নকলা উপজেলায় প্রান্তিক কৃষকদের সেচ সুবিধার জন্য স্থাপন করা হয়েছিল সৌরচালিত পাতকুয়া। প্রায় ২ কোটি ২৬ লাখ টাকা ব্যয়ে স্থাপন করা ওই ২৩ টি পাতকুয়ার কোনো সুফলই পাচ্ছেন না স্থানীয় কৃষকরা। বিস্তর টাকা ব্যয়ে সেচের পানি সংগ্রহ করতে হচ্ছে তাদের। বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন বিশেষ ওই ‘ক্ষুদ্র সেচ প্রকল্প’ বাস্তবায়ন করে। এরপর কৃষি বিভাগ সেচ কাজের মাধ্যমে ফসল উৎপাদনে সহায়তা করে আসছিল। কিন্তু বছর যেতে না যেতেই ওইসব পাতকুয়া থেকে পানি ওঠা বন্ধ হয়ে যায়।
জানা যায়, সাবেক কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরীর নির্বাচনি এলাকা নকলা ও নালিতাবাড়ীতে কৃষকদের সুবিধা বিবেচনায় ডাগওয়েল বা পাতকুয়া স্থাপনের উদ্যোগ নেন। ২০১৬ সাল থেকে ৩ টি অর্থবছরের ‘কাজের বিনিময়ে টাকা’ (কাবিটা) প্রকল্পে প্রায় ২ কোটি ২৬ লাখ টাকা ব্যয়ে স্থাপন করা হয় ২৩ টি পাতকোয়া। এক-একটি পাতকোয়া ৪১ জন কৃষককে পানি দিতে সক্ষম ছিলো। মূলত বিনা খরচে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষিরা যেন সবজি ও ইরি ধান চাষে সেচ কাজ চালাতে পারেন সেজন্য সৌরবিদ্যুত চালিত ওই কুয়াগুলো স্থাপন করা।
এদিকে, প্রকল্পের শুরুতে প্রতিটি পাতকুয়ার রক্ষণাবেক্ষনের জন্য ৪১ জন করে কৃষক নিয়ে একটি করে সমিতি গঠন করা হয়। ওই সমিতির ম্যাধমে তারা প্রতিমাসে ৫ টাকা করে জমিয়ে নিজ নিজ পাতকোয়ার দেখভাল করতেন। কৃষকদের অভিযোগ, ৪১ জন তো নয়ই, একটি পাতকোয়া থেকে এখন দু’জন কৃষকও ঠিকমতো পানি পায় না। তাই অন্য কৃষকরাও সমিতিতে টাকা দেয়া বন্ধ করে দিয়েছেন।
সরেজমিনে গেলে কথা হয় নালিতাবাড়ীর মানিককুড়া গ্রামের কৃষক হযরত আলীর সাথে। তিনি জানান, ওই পাতকুয়া দিয়ে ১ বছর বালাই পানি বাইর অইছে। এহন নষ্ট। এহন আমরা টেহা দিয়ে পানি নিয়ে আইয়া আবাদ করতাছি। এডা এহন কেউ দেকবারও আহে না। পানিই দিবার পাইনা, টেহা দিবো কেডা।
নকলার রামপুড় গ্রামের পাতকোয়া কৃষক সমিতির সভাপতি রফিকুল ইসলাম জানান, ‘এখানে ৪১ জনকে পানি দেয়ার কথা ছিল। কিন্তু পানি তো ঠিকমতো ওঠেনা। তাই কেউ চাঁদাও দেয়না। যে উদ্দেশ্যে এটা করা হয়েছিল, তা পূরণ হয় নাই। দেখাশুনার কেউ না থাকায় এটা আস্তে আস্তে শেষ হইয়া যাইতাছে।’
বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (ক্ষুদ্র সেচ) শেরপুরের সহকারী প্রকৌশলী মেহেদী আল বাকী বলেন, ‘পাতকুয়াগুলোর টেকনিক্যাল কাজগুলো আমরা করেছি। সৌর প্যানেল ও ব্যাটারিসহ সব দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কোম্পানী। এটির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব আমাদের নেই। এগুলোর জন্য আমাদের কোনো বাজেটও নেই।’
শেরপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক ড. মুহিত কুমার দে বলেন, ‘এটি পুরাতন পদ্ধতি, তবে সিস্টেমটা ভালো। কিন্তু ব্যবস্থাপনা সঠিক না থাকায় এটি কাজে আসছে না। এখনও রক্ষণাবেক্ষণ করা হলে পাতকুয়াগুলো সচল করা সম্ভব।’ তিনি আরও জানান, এই কাজটি কাবিটার এককালীন টাকা দিয়ে নির্মিত। ওইসময় রক্ষণাবেক্ষণের জন্য কোনো বরাদ্দ রাখা হয়নি। স্থানীয় কৃষকদের সল্প পরিমাণ চাঁদা কৃষকদের নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছিল। কিন্তু তারা চাঁদা ঠিকমত না দেয়ায় এগুলো রক্ষণাবেক্ষণ করা সম্ভব হচ্ছে না।


এই বিভাগের আরও খবর