• মঙ্গলবার, ১৮ মে ২০২১, ০৭:২৩ পূর্বাহ্ন

শেরপুরে সাফল্যের সাথে ‘অনাহারীর আহার’র ৮ মাস পূর্তি

মইনুল হোসেন প্লাবন, স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশকাল : সোমবার, ১২ এপ্রিল, ২০২১

‘অনাহারীর আহারের পর মাসব্যাপী ইফতার আয়োজনে শেরপুরের নৃ ফাউন্ডেশন’

“সবার সুখে হাসব আমি, কাঁদব সবার দুখে, নিজের খাবার বিলিয়ে দিব, অনাহারীর মুখে।” অনাহারীর মুখে আহার তুলে দেয়ার প্রত্যয়ে সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশের বিভিন্ন এলাকায় সামর্থ অনুসারে খাবার বিতরণ কার্যক্রম চলমান আছে। ‘ব্রহ্মপুত্রের উত্তর পাড়ে গাড়ো পাহাড় সীমা করে’ শের আলী গাজী’র শেরপুরের দরিদ্য মানুষের মুখে খাবার জোগানোর এই ব্রত নিয়ে নৃ ফাউন্ডেশনের স্বপ্ন যাত্রা “অনাহারীর আহার” বিনামূল্য খাদ্য বিতরন কার্যক্রম শেরপুর শহরের পৌর পার্কে শুরু হয় ১৫ আগষ্ট ২০ইং তারিখে। গত ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২১ ইং তারিখে নৃ ফাউন্ডেশনের প্রথম প্রয়াস অনাহারীর আহার -এর সফলতার ৬ মাস পূর্ণ করে বর্তমানে ৮ মাসে পা রাখতে যাচ্ছে।

শুরুতে প্রতিদিন দুপুরে ২৫ জন অসহায়, হতদরিদ্র মানুষের জন্য ডিম, ডাল ও ভাতের সরবরাহ নিশ্চিত করে কার্যক্রম চলতে থাকে। পঁচিশ জনের প্রত্যেকের জন্য আলাদা থালা ও গ্লাসের ব্যবস্থা করা হয় । জীবানুমুক্ত রাখার জন্য ব্যবহার শেষে সাথে সাথে সাবান পানিতে ভিজিয়ে রাখা হয়। হাত ধোয়ার জন্য নিরাপদ পানি ও সাবানের ব্যবস্থা করা হয়। যারা খাবার বিতরণের মহান দায়িত্বে নিয়োজিত আছেন তাদের মাস্ক, চশমা, ফেস শিল্ড, গ্লাব্স, গাউন দেয়া হয়। দৈনিক ১০৫০- ১১০০ টাকার খরচে এ সময় শুধুমাত্র উদ্যাক্তাদের নিজস্ব অর্থায়নেই কার্যক্রমটি চলমান ছিলো। সেই সাথে মাঝে মাঝে চলতো বিশেষ কোন দিবস উপলক্ষে উন্নত খাবারের ব্যবস্থা। ক্রমবর্ধমান চাহিদার প্রেক্ষিতে ১ মাস অতিবাহিত হওয়ার পর পরই ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২০ খ্রিস্টাব্দ হতে উপকারভোগীর সংখ্যা ২৫ জন থেকে ৩০ জনে উন্নিত করা হয় এবং দৈনিক খরচ গিয়ে দাঁডায় ১৩৫০ টাকা । চাহিদার তুলনায় এ বৃদ্ধি অপ্রতুল। সেখানে কখনো কখনো ৫০-৬০ জন মানুষ খাবার গ্রহন করে থাকে। উদ্যোক্তারা মনে করেন সম্মিলিত এ প্রয়াস একদিন চাহিদা আর যোগানের ভারসাম্য করতে পারবে এ প্রত্যাশা নিয়েই এগিয়ে যাচ্ছে অনাহারীর আহার। শুধুমাত্র মানব সেবার উদ্দেশ্যে পরিচালিত ও উদ্যোক্তাদের নাম প্রকাশের অনিহায় শুরুতে অনেকটা নীরবে নিভৃতে চলতে থাকে অনাহারীর আহারের কার্যক্রম। ধীরে ধীরে এই সেবাধর্মী ও অনুসরনীয় কাজটি শেরপুরের বেশ সাড়া ফেলেছে।

বিগত ২৪০ দিনে ১১০০০ জন মানুষের খাবারের ব্যবস্থা হয় অনাহারীর আহার কর্মসুচীতে । করোনা ভাইরাসের প্রকোপের মধ্যে চলমান কার্যক্রমে মানা হয় যাথাযথ স্বাস্থ্যবিধি। নিয়মিত পরিচ্ছনতা পরামর্শের পাশাপাশি কয়েক দফায় উপকারভোগীদের মাঝে বিতরন করা হয় কাপড়ের তৈরী মাস্ক যার বৃহদাংশ আসে অনুদানের মাধ্যমে। তীব্র শীতের মধ্যে কয়েক দফায় নৃ ফাউন্ডেশনের পক্ষ হতে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়।
এছাড়াও বছরের শুরুতেই নৃ ফাউন্ডেশন ইংরেজী নববর্ষের ক্যালেন্ডার প্রস্তুত করে ও বিতরনের মাধ্যমে শুভেচ্ছা বিনিময় করে সুধী মহলের সাথে যা এই কার্যক্রমের পরিচিতি বাড়াতে সহায়তা করছে।

নৃ ফাউন্ডেশনের এ অগ্রযাত্রাকে সাফল্যমন্ডিত করতে মূখ্য ভুমিকা রাখছে একদল মানবপ্রেমী ও প্রচারবিমূখ বন্ধুমহল। যারা প্রতিমাসে একটি নির্দিষ্ট পরিমান অর্থ অনাহারীর আহারে অনুদান দিচ্ছেন এবং একই সাথে নৃ ফাউন্ডেশনের সাথে সম্পৃক্ত প্রতিটি সদস্য যার যার সাধ্যমতো নিজেদের ও পরিচতজনদের কাছ থেকে অনুদান সংগ্রহ করে চলছেন খাদ্য ব্যায়ের যোগান নিশ্চিত করতে। এছাড়াও অনেকে তাদের ফেসবুক পেইজ ফলো করে সপ্রনোদিত হয়ে অনুদান দিতে আগ্রহী হয়। ইতোমধ্যে অনাহারীর আহার’ কর্মসূচীকে সাফল্যমন্ডিত করতে ও ধারাবাহিকভাবে কার্যক্রম পরিচালনায় উৎসাহ যোগাতে শেরপুর পৌরসভার পক্ষ হতে ২০,০০০/-(বিশ হাজার টাকা) বিশেষ অনুদান প্রদান করেন শেরপুর পৌরসভার সুযোগ্য মেয়র জনাব গোলাম মোহাম্মদ কিবরিয়া লিটন। জানা যায় সম্মানিত মেয়র মহোদয় কর্মসূচীর শুরু থেকেই এ সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচীকে সাফল্যমন্ডিত করার বিষয়ে পরামর্শ ও উৎসাহ দিয়ে আসছেন। নৃ ফাউন্ডেশন-তাদের এ অগ্রযাত্রায় বিশেষ করে কৃতজ্ঞতা স্বীকার করছে হয় জনাব মোহাম্মদ ফিরোজ আল মামুন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার, শেরপুর সদর মহোদয়ের প্রতি যিনি ২১ ডিসেম্বর ২০২০ খ্রি. অনাহারীর আহার কর্মসূচী পরিদর্শন করেন। ওইসময় তিনি নৃ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত শীতবস্ত্র বিতরণ কর্মসূচীতে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশগ্রহন করেন এবং ফাউন্ডেশনের কার্যক্রমকে উৎসাহিত করতে গরীব ও দুস্থদের জন্য ৫০ টি কম্বল ও ৩০ প্যাকেট খাবার অনুদান হিসেবে প্রদান করেন। শেরপুরের স্বনামধন্য সমাজসেবক ও মানবাধিকারকর্মী ডালিয়া সামাদ অনাহারীর আহার কার্যক্রমের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করে শীতার্তদের মাঝে বিতরণ করেছেন শীতবস্ত্র। ওই কার্যক্রমে মালালার মতো ৫ বছররের মেয়েও মায়ের চাকুরিসূত্রে ৬৭৫ টাকা বৃত্তির পুরোটাই অনুদান হিসেবে প্রদান করে উৎসাহ দান করেছে।

দেশের বাইরে থেকেও তাদের অনেক শুভাকাংঙ্খী সহায়তা করছেন অনাহারীর খাবার যোগোতে। আবার নিজের বা পরিবারে বা প্রিয়জনের জন্মদিন, বিবাহবার্ষিকী, আপনজনের মৃত্যুবার্ষিকী কিংবা অসুস্থতায় এমনকি নতুন বাসার উদ্ভোধন উপলক্ষেও অনকে অনাহারীর আহারে আয়োজন করেন বিশেষ খাবেরের। ‘মানবপ্রেম ও সকলের সহযোগিতাইকেই নৃ ফাউন্ডেশন তাদের মূলধন হিসেবে বিবেচনা করে’ । ভবিষ্যতে মানু্ষের কল্যাণে আরও প্রকল্প নিয়ে শেরপুরের সামনে হাজির হবার প্রত্যয় ব্যক্ত করছে ‘নৃ ফাউন্ডেশন’।


এই বিভাগের আরও খবর