• মঙ্গলবার, ১৮ মে ২০২১, ০৭:৫০ পূর্বাহ্ন

শেরপুরে কিশোর রোকনের স্বপ্ন জুতার কালিতে ঢাকা !

মইনুল হোসেন প্লাবন, স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশকাল : সোমবার, ১২ এপ্রিল, ২০২১

রোকনের অনেক স্বপ্ন। সমবয়সীরা খেলাধুলা করে। বই, খাতা কলম নিয়ে স্কুলে যায়। তাকে করতে হচ্ছে মুচির কাজ। মাত্র ১০ বছর বয়সেই হাল ধরতে হয়েছে সংসারের। বাবার অসুস্থতার জন্য তাকে বসতে হচ্ছে ফুটপাতের মুচির দোকানে। ফাল্গুনের দুপুরের কড়া রোদে খোলা আকাশের নিচে বসে কাজ করছে। জুতার কালিতে ডাকা পড়ছে তার জীবনের স্বপ্নগুলো। দুপুরে শেরপুরের শ্রীবরদী উপজেলার ঝগড়ারচর বাজারে ফুটপাতে বসা ওই শিশুর সাথে কথা হয়। রোকন জানায়, তার পড়ালেখা করার ইচ্ছা ছিল। কিন্তু তার বাবার অসুস্থতার কারণে তাকেই করতে হচ্ছে মুচির কাজ।

জানা যায়, উপজেলার ভেলুয়া ইউনিয়নের চকবন্দি গ্রামের হতদরিদ্র নাইকা রবিদাসের ছেলে রোকন। তারা ২ ভাই, ২ বোন। বড় বোনের বিয়ে হয়েছে। এখন ৫ সদস্যের এই পরিবারে একমাত্র আয়ের পথ মুচির কাজ। স্থানীয় ঝগড়ারচর মধ্য বাজারে প্রধান সড়কের পাশে ফুটপাতে বসে জুতা সেলাই আর কালি করে সংসার চালাত নিকাই। কিন্তু গত বছর করোনার প্রথম থেকেই কমে যায় জুতা সেলাই ও কালি দেওয়ার কাজ। এরপর থেকেই তাদের সংসারে দেখা দেয় টানাপড়েন। একবেলা খাবার জুটলেও আরেক বেলায় থাকতে হয় না খেয়ে।

সম্প্রতি অসুস্থ হয়ে পড়ে আছেন একাই। বন্ধ উপার্জন। সংসারে বেড়ে যায় অভাব-অনটন। চরম সংকটে পড়ে তার পরিবার। এ সংকট থেকে উত্তরণে হাল ধরে রোকন। সকাল থেকে কাজ করে জুতা সেলাইয়ের। দিনে ২০০ হতে আড়াই শ টাকা আয় হয়। তা দিয়ে কোনো মতে চলে তাদের সংসার। অথচ রোকন স্কুলে পড়ালেখা করত। তার বাবার এ অবস্থার কারণে এখন পড়ালেখাও বন্ধ। এ সময় রোকন বলতে থাকে, খাইতে পাই না। পড়া লেহা করমু ক্যামনে। মা, বাবা, ভাই, বোন না খাইয়া থাহলে কি পড়ালেহা করণ যাইবো?

তার মা সাথিয়া রবিদাস জানান, আমরা অহন মেলা কষ্টে আছি। পোলাডারে পড়ালেহা করবার চাইছিলাম। ঠেহাই ছাড়ে না। তিনি আরও বলেন, মেম্বার চেয়ারম্যানরা কত কিছু দেয়। আমগোরে কিছুই দেয় না। কেউ কিছু দিলে পোলাডারে পড়ালেহা করাইতাম। ওই পরিবারটির বিত্তবান ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতা প্রয়োজন। এমনটাই মনে করেন স্থানীয় সচেতন মহল।


এই বিভাগের আরও খবর