• বৃহস্পতিবার, ১৫ এপ্রিল ২০২১, ০৪:০৫ পূর্বাহ্ন

লবণাক্ত সহিঞ্চু সরিষার তিনটি নতুন জাত উদ্ভাবন বাকৃবি’র

শ্যামলবাংলা ডেস্ক
/ ১০১ বার পঠিত
প্রকাশকাল : সোমবার, ২২ মার্চ, ২০২১

লবণাক্ত সহিঞ্চু ও স্বল্প সময়ে উৎপাদনকৃত উচ্চফলনশীল তিনটি সরিষার জাত উদ্ভাবন করেছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি)। কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশনের অর্থায়নে বাকৃবির উদ্ভাবিত তিনটি সরিষার জাত হলো ‘বাউ সরিষা-১’, ‘বাউ সরিষা-২’ এবং ‘বাউ সরিষা-৩’। উদ্ভাবিত জাতগুলো ১২ ডেসিসিমেন্স পর্যন্ত লবণ সহনশীল। বাকৃবি কৃষি অনুষদের সম্মেলন কক্ষে ২১ মার্চ দুপুরে ‘স্বল্প মেয়াদে লবণ সহনশীল র‌্যাপসীড জাতের সরিষার বিকাশ’ শীর্ষক এক কর্মশালায় এসব তথ্য জানানো হয়।

বাকৃবি উপাচার্য এবং কৌলিতত্ত্ব ও উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের অধ্যাপক ড. লুৎফুল হাসান জানান, বাকৃবির উদ্ভাবিত এই তিনটি সরিষার জাত থেকে লবণাক্ত মাটিতে প্রতি হেক্টরে ২ দশমিক ৫ মেট্রিক টন এবং অন্যান্য মাটিতে প্রতি হেক্টরে ৩ মেট্রিক টন ফলন পাওয়া যাবে। এছাড়াও এই জাতগুলো থেকে ৪০-৪১ শতাংশ তেল পাওয়া যাবে। উদ্ভাবিত জাতগুলো অলবণাক্ত ও লবণাক্ত উভয় এলাকায় চাষ করা যায় বলে দেশে সরিষা উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। উদ্ভাবিত তিনটি জাত ইতিমধ্যেই জাতীয় বীজ বোর্ড থেকে নিবন্ধিত হয়েছে।
জাতীয় কৃষি প্রযুক্তি প্রকল্পের পিএইচডি প্রোগামের আওতায় বাকৃবি এবং বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএআরআই) যৌথভাবে জাতগুলো উদ্ভাবনে কাজ করেন। গবেষণায় বাকৃবি উপাচার্য এবং কৌলিতত্ত্ব ও উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের অধ্যাপক ড. লুৎফুল হাসানের তত্ত্বাবধানে প্রধান গবেষক হিসেবে ছিলেন বিএআরইয়ের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. ফেরদৌসী বেগম। এছাড়াও সহকারী গবেষক হিসেবে ছিলেন বাকৃবির কৌলিতত্ত্ব ও উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আশরাফুল হক ও কৃষি অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সিরাজুল ইসলাম এবং বিএআরআইয়ের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. রোজিনা আফরোজ।
কর্মশালায় কৌলিতত্ত্ব ও উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক শরীফ আর রাফির সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি উপস্থিত ছিলেন বাকৃবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. লুৎফুল হাসান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কৃষি গবেষণা ফাউন্ডেশনের কার্যনির্বাহী পরিচালক ড. জীবন কৃষ্ণ বিশ্বাস, কৃষি অনুষদীয় ডিন অধ্যাপক ড. আব্দুর রহিম, উচ্চ শিক্ষা ও গবেষণা কমিটির সহ-সমন্বয়ক ড. মো. রফিকুল ইসলাম, বাকৃবি রিসার্চ সিস্টেমের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. আবু হাদী নূর আলী খান।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে বাংলাদেশে ভোজ্য তেলের চাহিদা প্রায় ৫১ দশমিক ২৭ লাখ মেট্রিক টন যার মধ্যে ৪৬ দশমিক ২১ লাখ মেট্রিক টন আমদানি করতে হয়। এর মূল্য প্রায় ২৩ দশমিক ২০ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশে সরিষা, তিল ও সূর্যমুখী থেকেই সাধারণত ভোজ্য তেল তৈরী করা হয়। দেশের মানুষ গড়ে প্রতিদিন ২০ থেকে ২২ গ্রাম করে তেল খায়। দেশে মোট ৪ দশমিক ৪৪ লাখ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদ করা হয়, যা থেকে ৬ দশমিক ৫ লাখ মেট্রিক টন সরিষা এবং এই সরিষা থেকে ২ দশমিক ৫০ লাখ টন তেল উৎপন্ন হয়।

 


এই বিভাগের আরও খবর