• মঙ্গলবার, ১৮ মে ২০২১, ০৭:১২ পূর্বাহ্ন

শেরপুরে ঐতিহ্যবাহী পৌষ মেলা অনুষ্ঠিত

শ্যামলবাংলা ডেস্ক
/ ১২৫৮ বার পঠিত
প্রকাশকাল : শুক্রবার, ১০ জানুয়ারি, ২০২০

স্টাফ রিপোর্টার ॥ বাংলার ঐতিহ্যবাহী পৌষ মেলা বসেছিল শেরপুরে। ১০ জানুয়ারি শুক্রবার বিকেলে শেরপুর পৌর এলাকার নবীনগর মহল্লার ফসলি জমির মাঠে বসেছিল ওই মেলা। স্থানীয় এলাকাবাসী প্রায় বহু বছর যাবত ওই মেলার আয়োজন করে আসছে।
মেলায় বিভিন্ন পিঠা, মিষ্টি, সাজ, মুখরোচক খাবারসহ বাংলার ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন মজাদার খাবারের পসরা বসে। এছাড়া শিশুদের বিভিন্ন ধরনের খেলনা, মাটির তৈরী বিভিন্ন আসবাবপত্র, মেয়েদের প্রসাধনী ও চুড়ি-মালার দোকানের পসরাও সাজিয়ে বসে দোকানীরা। বেচা-বিক্রিও চলে বেশ। মেলায় গ্রামের সাধারণ মানুষের পাশাপাশি শহরের বিভিন্ন শ্রেণী পেশার হাজার হাজার নারী-পুরুষ ভিড় জমায়।

এদিকে মেলার আশেপাশে স্থানীয় গ্রামবাসীর ঘরে ঘরে চলে পিঠা-পায়েশ খাওয়ার উৎসব। এ উৎসবকে ঘিরে প্রতি বাড়িতেই দূর-দূরান্তের আত্মিয়রা ছুটে আসে পিঠা খেতে এবং মেলা দেখতে। একসময় বাঙালির ঐতিহ্য ধরে রাখতে পূর্ব পুরুষদের রেওয়াজ অনুযায়ী গ্রামের মানুষ ভোরে উঠে হলুদ ও সর্ষে বাটা দিয়ে গোসল করতেন এবং বাড়ীর মেয়েরা ব্যস্ত থাকেন পিঠা-পায়েস তৈরীতে। দিনব্যাপী চলতো অতিথি আপ্যায়ন এবং বিকেলে ছুটে যায় গ্রামের মেলার মাঠে।
মেলায় গাঙ্গি খেলা (কুস্তি) ও সাইকেল রেস এর পাশপাশি জেলাসহ আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে ঘোড় দৌড় প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে আসে ২০ জন ঘোড়সওয়ার। খেলা শেষে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করেন শেরপুর পৌরসভার কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম। এসময় আয়োজকদের মধ্যে জয়েন উদ্দিন মাহমুদ জয়, জেলা ছাত্রলীগ সম্পাদক রেজাউল করিম রেজা, গোলাম মোস্তফা, সোহেল রানা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
শহরের অদূরে এবং পৌর এলাকার মধ্যে এ মেলার আয়োজন করা হলেও কোন রকম প্রচারণা চালানো ছাড়াই উপচে পড়া ভিড় হয় মেলায়। কত বছর পূর্বে এ মেলার প্রচলন হয়েছিল তা কেউ সঠিক করে বলতে না পারলেও প্রায় এক শত বছরের উপরে বলে স্থানীয় বয়োবৃদ্ধ ও গ্রামবাসী মনে করেন।
এ মেলা মূলত ৩০ পৌষ ১৩ জানুয়ারী অর্থাৎ পৌষ সংক্রান্তির মেলা হলেও এবার মেলার স্থানে কৃষকরা তাদের বোরো আবাদ করার জন্য মাঠ তৈরী প্রস্তুতি’র জন্য মেলার তারিখ দুই দিন আগে নির্ধারণ করা হয়। মেলায় প্রতি বছর অন্যতম আকর্ষন ঘোড়দৌড়ের পাশপাশি গাঙ্গি খেলা ও সাইকেল রেস হলেও এবার র‌্যাফেল ড্র ও মিউজিক্যাল চেয়ার খেলা বৃদ্ধি করা হয়েছে। দিন দিন এ মেলার আকর্ষন ও লোক সমাগমও বাড়ছে বলে আয়োজকরা জানায়।


এই বিভাগের আরও খবর