শ্যামলবাংলা ডেস্ক : জাতীয় পার্টি চাইলে রংপুর-৩ আসনের উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী প্রত্যাহারের বিষয়টি বিবেচনা করা যেতে পারে বলে মন্তব্য করেছেন ক্ষমতাসীন দলটির সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। বৃহস্পতিবার রাজধানীর বনানীর সেতু ভবনের মিলনায়তনে কোরিয়া এপপ্রেসওয়ে করপোরেশনের (কেইসি) সঙ্গে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের সমঝোতা সই অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।
সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিষ্ঠান কোরিয়া এপপ্রেসওয়ে পদ্মা বহুমুখী সেতুর পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ ও টোল আদায় কার্যক্রম সমন্বয় করবে। এতে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের পক্ষে পরিচালক (প্রশাসন) মো. রেজাউল হায়দার এবং কেইসির পক্ষে ব্যবস্থাপনা পরিচালক শিন ইয়ং সুক স্বাক্ষর করেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন সেতু বিভাগের সিনিয়র সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম, পদ্মা বহুমুখী সেতু প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম, বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের প্রধান প্রকৌশলী কাজী মো. ফেরদাউস, ঢাকা আশুলিয়া এলিভেটেড এক্স প্রেসওয়ে প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক মো. শাহাবুদ্দিন খান প্রমুখ।
বিরোধীদলীয় নেতা এইচ এম এরশাদের মৃত্যুতে শূন্য হওয়া রংপুর-৩ আসনটি আওয়ামী লীগ এবারও জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দেবে কি না- সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে কাদের বলেন, রংপুরের আসন এরশাদ সাহেবের। এটি জোটের নিয়ম অনুযায়ী জাতীয় পার্টির ছিল। এখন জাতীয় পার্টি সংসদে বিরোধী দল। তারা আলাদাভাবে নির্বাচনে আসলে আসতে পারে, সেটা তাদের ব্যাপার। আর যদি জোটগতভাবে আমাদের কাছে আসনটি চায়… তখন আমরা বিবেচনা করব। এই মুহূর্তে আমাদের প্রার্থী আছে। যতক্ষণ পর্যন্ত না আলোচনা হচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত কিছু বলা যাচ্ছে না।
মহাসড়কে টোল বসানোর বিষয়ে বিএনপি নেতাদের সমালোচনা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় থাকার সময় দেশে চার লেনের কোনো রাস্তাই ছিল না। মহাসড়ক চার লেন করার কোনো অভিজ্ঞতাই নেই তাদের। পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল এসব তারা স্বপ্নেও দেখেনি। সে কারণে মহাসড়কে টোল আদায় সম্পর্কেও তাদের কোনো ধারণা নেই। এ নিয়েও বিএনপি তাই মিথ্যাচার করছে।
ওবায়দুল কাদের বলেন, সবেমাত্র সেতুর টোল আদায়ে সমঝোতা সই হয়েছে। এটা চুক্তি পর্যন্ত গড়াতে আরও সময় লাগবে। টোল নির্ধারণ দূরে থাক, এখনও এ নিয়ে আলোচনাও হয়নি। তাই টোল দ্বিগুণ হবে- এমন সংবাদের কোনো বাস্তবতা নেই, যৌক্তিকতা নেই। তবে অন্যান্য দেশে যে টোল আদায় হয়, এটা বিএনপি জেনেও না জানার ভান করছে। রাস্তা করলেও তা ব্যবহার উপযোগী রাখতে হয়, রক্ষণাবেক্ষণ করতে হয়। তাই টোলও আদায় করতে হয়।
সেতুমন্ত্রী জানান, পদ্মা সেতুর বাস্তব কাজের অগ্রগতি ৮৩ দশমিক ৫০ ভাগ। আর্থিক অগ্রগতি ৭৩ দশমিক ৩৭ ভাগ। নদীশাসন কাজের বাস্তব অগ্রগতি ৬২ দশমিক ৫০ ভাগ। সংযোগ সড়কের অগ্রগতি ১০০ ভাগ।




