ads

রবিবার , ৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯ | ৫ই ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

বাবু -সুলতানুল আরেফীন আদিত্য

শ্যামলবাংলা ডেস্ক
সেপ্টেম্বর ৮, ২০১৯ ৭:৫২ অপরাহ্ণ

স্টেশনে বসে আছি। ট্রেন আসতে প্রায় একঘণ্টা বাকী। আমি একটা পত্রিকা পড়ছি। গোলাম মওলা রনি’র কলাম। বেচারা ইদানীং বেশ ভালই লিখছেন। উনাকে আমি রাজনৈতিক ব্যক্তি হিসেবে চিনতাম। তার বাইরে উনি যে একজন ভাল কলামিস্ট, তা জানতাম না। আমার কাঁধে হেলান দিয়ে বসে আছে কণিকা। আমার স্ত্রী। কণিকা বাসে ওঠলেই বমি করে, যে কারণে ট্রেনে যাওয়া। ওর নাকি ট্রেন জার্নি বেশ লাগে। হঠাৎ খেয়াল করলাম কণিকার চোখে পানি। আমি কাঁধে হাত দিয়ে বললাম, এই কাঁদছো কেন?
কণিকা টিস্যু দিয়ে চোখ মুছতে মুছতে বলল, কই কাঁদছি না ‘তো ।
– চোখে পানি কেন?
– চোখে হয়তো কিছু গেছে। এই দেখছো
ঐ পিচ্চিটা কত্ত কিউট!
.
আমি তাকালাম। সামনের বেঞ্চিতে একটা পিচ্চি ওর মা’র কোলে বসে আছে। আমি খেয়াল করলাম, পিচ্চিটা কণিকার দিকে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে আছে।
– এই শোন, বাবুটাকে একটু এনে দাও না, কোলে নেব।
আমি জানতাম কণিকা এরকম একটা বায়না ধরে বসবে। আমি বললাম, পিচ্চির মাকে কি বলবো?
– কিচ্ছু জানি না। আমাকে এনে দাও পাঁচ মিনিট কোলে নিয়ে থাকবো। জাস্ট পাঁচ মিনিট।
.
.
গত বছরের মাঝামাঝি সময়কার কথা। কণিকাকে চেকআপ করাতে নূর ডায়াগনস্টিক ক্লিনিকে নিয়ে গেলাম গাইনী ডাক্তার শারমিন আক্তারকে দেখানোর জন্য। এই ভদ্রমহিলার সকাল দশটায় চেম্বারে বসার কথা থাকলেও তিনি নাকি বারোটার আগে চেম্বারে আসেন না। আমি ক্লিনিকের রিসিপশনিস্ট কে বললাম, ডাক্তার আসতে কতক্ষণ লাগবে? রিসিপশনিস্ট বললেন, বারোটার আগে আসবে না। মহিলা মানুষ সংসারের টুকটাক কাজ করেই সম্ভবত আসেন। তাছাড়া শুক্রবার। ফ্যামিলিকেও সময় দিতে হয়। অন্যদিকে ক্লিনিকের মালিকরাও ডাক্তারদের কাছে অসহায়।একটা ডাক্তার যদি বলে বসে আসবো না। জোর করে আনার কোন উপায় নেই। আমি কণিকাকে রেখে একটু বাইরে গেলাম। বললাম, ডাক্তার আসলে ফোন দিও। কিছুক্ষণ পর কণিকার ফোন, এই কই তুমি?
– এইতো ক্লিনিকের সামনেই আছি।
– একটা ম্যাঙ্গো জুস আর একটা চিপস নিয়ে আসো। বাবুকে খাওয়াবো।
– বাবু কোথায় পেলে?
– যা বলছি, তাই করো।
– ওকে ম্যাডাম।
আমি ম্যাঙ্গো জুস আর চিপস নিয়ে আসলাম। কণিকার কোলে বাবু। তার পাশে বসে থাকা আপার ছেলে। কণিকা অনেকটা আগ্রহ নিয়ে খাওয়াচ্ছে। মনে হচ্ছে ছেলেটা তারই। কিছুক্ষণের মধ্যেই ডাক্তার শারমিন আক্তার এসে পড়লেন। কণিকাকে দেখে বেশ কিছু টেস্ট লিখলেন।
আল্ট্রাসনোগ্রাফী, RBS.CRP.blood grouping, Cerum Creatinine.S. Uric Acid সহ সাথে আমারও একটা পরীক্ষা লিখলেন। সবগুলা টেস্ট করার পর ডাক্তার কিছু মেডিসিন লিখে দিয়ে আমাকে তার ভিজিটিং কার্ড দিয়ে বললেন, মেডিসিন চলতে থাকুক। সমস্যা হলে যোগাযোগ করবেন।
.
.
আমি এক সপ্তাহ পর ডাক্তারকে ফোন দিলাম,
-হ্যালো আসসালামু আলাইকুম।
– ওয়া আলাইকুম আস সালাম।
– আপা কেমন আছেন?
– জ্বী ভাল আছি। আপনি?
– আলহামদুলিল্লাহ। আপা আমি আহসান হাবীব। আপনার পেশেন্ট কণিকার হাজব্যান্ড।
– জ্বী চিনতে পেরেছি।
– সেদিন টেস্ট দেখে তো কিছু বললেন না।
– কি আর বলবো? আপনাদের দুজনেরই কিছু প্রবলেম আছে। আপনারা কতদিন হয় বিবাহ করেছেন?
– এইতো প্রায় ছ’বছর হবেই।
– আপনাদের কিছু ভুল হয়েছে প্রথমদিকে যদি একটু সচেতন হতেন তাহলে এই প্রবলেম ফেস করতে হতো না। তবে প্রাথমিক এই সমস্যা তাদের- ই হয়, বিশেষ করে যেসব মেয়েদের জরায়ুতে টিউমার হওয়ার পর তারা সন্তান ধারন ক্ষমতা হাঁরিয়ে ফেলে। মেডিকেল ভাষায় এটাকে বলে Cystitis.আর পুরুষদের স্পার্ম যদি ৮০% এর নিচে থাকে সে ক্ষেত্রে সেসব পুরুষরা বাবা হতে পারেনা। যাকে বলে Azoostermia……ভাল থাকবেন আহসান হাবীব সাহেব।
– ধন্যবাদ। আপনিও ভাল থাকবেন।
ফোন কাঁটার পর লুকিং গ্লাসের সামনে দাঁড়াতেই দেখতে পেলাম চোখ বেয়ে পানি পড়ছে। দেখার চেষ্টা করছি চোখে ময়লা, টয়লা পড়ছে কি না। এ কথা এখনো কণিকাকে বলিনি। ভাবছি, ও যদি নিরবে কাঁদতে পারে, আমি পারবোনা কেন? ?
.
.
*********
– কি হলো চুপ করে কি ভাবছো? যাও বাবুকে নিয়ে আসো খানিকটা সময় কোলে নিয়ে থাকি।
– ও আচ্ছা। যাচ্ছি।
আমি হাঁটিহাঁটি পা পা করে বাবুটার দিকে এগুতে থাকলাম। বাবুটার মা, বাবুকে নিয়ে খেলা করছে। আমি বললাম, এক্সকিউজ মি!
ভদ্রমহিলা আমার তাকিয়ে বললেন, আমাকে বলছেন?
আমি একটু কাঁপা কাঁপাস্বরে, জ্বী।
-বলুন।
– এই বল্টুটার নাম কি?
– আপনিই তো বললেন।
– সরি আপু।আমি বলবো বাবুটার নাম কি, মুখ ফসকে বের হইছে বল্টু ।
– ইটস্ ওকে। ওর নাম জিসান। আরও কিছু বলবেন?
– জিসানকে একটু পাঁচ মিনিটের জন্য দেবেন। কণিকা একটু কোলে নেবে।
ভদ্রমহিলা এরকমভাবে তাকালেন। মনে হচ্ছে, আমি শিশু পাচারকারী।
– কণিকা কে?
– আমার স্ত্রী। আপনার সামনের বেঞ্চিতে যে মেয়েটা বসে আছে। ওও ই কণিকা। সো। না হয় দিয়ে আসুন, খানিকটা সময় কোলে নিয়ে থাকুক।
.
.
কণিকা জিসানকে পেয়ে খুশিতে আত্মহারা। অনেকটা বাকবাকুম টাইপের খুশি। ট্রেন আসার আগ পর্যন্ত অনেকটা সময় জিসানকে কোলে নিয়েছিল কণিকা ।
ট্রেন আসার পর কণিকার মুখ শুকিয়ে গেল, কারণ জিসানের আম্মুর টিকিট কামড় ছিল খ. নম্বর। আর আমাদেরটা চ . নম্বর কামড়ায়। কণিকার কোল থেকে যখন জিসানের আম্মু জিসান কে নিয়ে নিল, তখন হয়তো কণিকা মনে মনে বলল, ‘ট্রেন তুই বড্ড খারাপ’ আসার আর সময় পেলি না।
*********

Need Ads

সর্বশেষ - ব্রেকিং নিউজ

Shamol Bangla Ads
error: কপি হবে না!