স্টাফ রিপোর্টার ॥ সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম শেরপুর জেলা শাখার সভাপতি মুক্তিযুদ্ধের ছাত্র সংগঠক আমজাদ হোসেনের নামাজে জানাযা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে। ১ সেপ্টেম্বর রবিবার সকাল ১০টায় শেরপুর পৌর ঈদগাহ মাঠে নামাজে জানাযা শেষে চাপাতলি পৌর কবরস্থানে লাশ দাফন করা হয়।
জানাযার নামাজের পূর্বে মরহুম আমজাদ হোসেনের স্মৃতিচারণ করে বক্তব্য রাখেন জাতীয় সংসদের হুইপ বীর মুক্তিযোদ্ধা আতিউর রহমান আতিক এমপি, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর রুমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) তোফায়েল আহমেদ, নকলা পৌর মেয়র হাফিজুর রহমান লিটন বক্তব্য রাখেন। ওইসময় আরও বক্তব্য রাখেন জেলা মুক্তিযোদ্ধা সাবেক কমান্ডার নুরুল ইসলাম হিরু, শেরপুর পৌরসভার ভারপ্রাপ্ত মেয়র আতিকুর রহমান মিতুল, চেম্বার সভাপতি আছাদুজ্জামান রওশন, সেক্টর কমান্ডার্স ফোরাম জেলা কমিটির উপদেষ্টা মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মওলা, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ আখতারুজ্জামান, সাবেক পৌর চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান মোহন, প্রেসক্লাব সভাপতি শরিফুর রহমান, চালকল মালিক সমিতির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক শামীম হোসেন, ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি নেতা আসম নাসিম নয়ন, হারেজ আলী প্রমুখ। জানাযায় বিভিন্ন স্তরের জনপ্রতিনিধি, সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা, মুক্তিযোদ্ধা, ব্যবসায়ী, সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ সহ সর্বস্তরের জনসাধারণ অংশগ্রহণ করেন। জানাযার পূর্বে জেলা প্রশাসন, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, সাংবাদিক বিপ্লবী রবি নিয়োগী সভাকক্ষ পরিচালনা পর্ষদ, শেরপুর চেম্বার, রবি নিয়োগী স্মৃতি পরিষদ, সেক্টর কমান্ডার্স ফোরাম, শেরপুর জেলা কমিটি ও একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটি সহ বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে মরহুম আমজাদ হোসেনের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করে কফিনে পুষ্পস্তবক অর্পন করা হয়।
ব্রেইন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে ৩১ আগস্ট শনিবার দুপুরে জননেতা আমজাদ হোসেন মৃত্যুবরণ করেন। তিঁনি রাজনীতির পাশপাশি ব্যবসা এবং সমাজসেবামূলক কর্মকান্ডে নেতৃত্ব দিয়েছেন। মুক্তিযুদ্ধ, স্বৈরাচারবিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলন, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার এবং সাধারণ মানুষের অধিকার আদায়ের আন্দোলন-সংগ্রামে তিঁনি সবসময় সামনে থেকে নেতৃৃত্ব দিয়েছেন। স্বাধীনতা পূর্ববর্তী সময়ে অবিভক্ত জামালপুর জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭০ সালে শেরপুর কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি নির্বাচিত হন। ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা সংগ্রামে সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। স্বাধীনতা পরিবর্তী সময়ে তিঁনি শেরপুর পৌরসভার ভাইস চেয়ারম্যান, শেরপুর চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি, সেক্টর কমান্ডারস ফেরামের সভাপতি, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগ, বঙ্গবন্ধু পরিষদ ও রোটারী ক্লাবের সভাপতি এবং জেলা যুবলীগ, রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি, জেলা চালকল মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।




