শ্যামলবাংলা ডেস্ক : রাজধানীর মিরপুর রূপনগর চলন্তিকা ঝিলপাড় বস্তিতে ভয়াবহ অগ্নিকান্ডে প্রায় ১০ হাজার বস্তিঘর পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আগুনের লেলিহান শিখা পার্শ্ববর্তী একটি বহুতল ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। এতে প্রায় ১০ জন আহত হয়েছে। ৪ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে নিহতের কোন খবর পাওয়া যায়নি। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ২৪টি ইউনিট ঘটনাস্থলে এসে প্রায় সাড়ে ৩ ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। এদিকে আগুন নিয়ন্ত্রণ আনতে এক পর্যায়ে পানি সঙ্কট পড়লে ১১৫ জনের ফায়ার সার্ভিস কর্মীকে বেশ বেগ পেতে হয়। পরে তারা বহুতল ভবনের রিজার্ভ ট্যাঙ্কিতে পানির পাইপ লাগিয়ে মেশিনের সাহায্যে পানি অগ্নিকাণ্ডস্থলে পৌঁছানোর চেষ্টা করে। ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, বাতাসের তীব্রতায় আগুন নেভাতেও তাদের বেগ পেতে হয়। এমনকি অবৈধ গ্যাস সংযোগের কারণেই আগুন আরও তীব্র হয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টা ২২ মিনিটে মিরপুর ৭ নম্বর সেকশনের ঝিলপাড় বস্তিতে এই আগুনের সূত্রপাত হয়।

এদিকে আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের পাশিপাশি র্যাব, পুলিশ, ওয়াসার সদস্য এবং বস্তিবাসীরা এগিয়ে আসে। ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুন লাগতে পারে। রাত প্রায় ১২টায় আগুন নিয়ন্ত্রণের পর ফায়ার সার্ভিসের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ জন্য কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। পুরো আগুন নিয়ন্ত্রের জন্য পোড়া স্থলে কাজ শুরু করছে ফায়ার সার্ভিস। তবে নিহতের কোন খবর পাওয়া যায়নি বলে ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়।
ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষে দায়িত্বরত কর্মকর্তা এরশাদ হোসেন জানান, শুক্রবার সন্ধ্যার ৭টা ২২ মিনিটে রূপনগর থানার পেছনের রূপনগর ঝিল পাড় বস্তিতে অগ্নিকান্ডের খবর পেয়ে প্রথমে ফায়ার সার্ভিসের সাতটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করে। আগুনের ব্যাপকতা দেখে পরে তাদের সঙ্গে আরও ১৭টি ইউনিট যোগ দেয়। এই ২৪ ইউনিট টানা সাড়ে তিন ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণ আনেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বস্তিতে আগুন নেভাতে পানি সরবরাহে বেগ পেতে হয় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীদের। পরে বহুতল ভবনের রিজার্ভ ট্যাঙ্কিতে পানির পাইপ লাগিয়ে মেশিনের সাহায্যে পানি অগ্নিকাণ্ডস্থলে পৌঁছানোর চেষ্টা করে ফায়ার কর্মীরা। আগুন লাগার পর চলন্ত মোড়ের সবকটি রাস্তায় সাধারণ যান চলাচল বন্ধ করে দেয় পুলিশ। বস্তিতে লাগা আগুন পর তীব্র বাতাসের কারণে তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এতে হতাহতের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। ঘটনার পর ওই এলাকার বিদ্যুত সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়।
এদিকে আগুন থেকে বাঁচতে দুই মেয়ে মরিয়ন ও সামিয়াকে নিয়ে বাইরে বের আসেন সাথী আক্তার। তার স্বামী সোহাগকে খুঁজে পাচ্ছেন না। তার স্বামীর ভাঙ্গাড়ির ব্যবসা করেন। তিনি কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার স্বামী সোহাগ আমাদের বের করে দিলেও এখন তাকে খুঁজে পাচ্ছি না। জানি না সে কোথায় আছে। আমাদের সব শেষ। আমি নিঃস্ব হয়ে গেছি। সাথীর পাশেই সাইদুর রহমান নামে একজন একটি টিভি নিয়ে বসে কাঁদছেন। সাইদুর নামে ওই যুবক জানান, পেশায় তিনি রিক্সাচালক। সাইদুর রহমানও টিভিটি ছাড়া আর কিছুই বের করতে পারেননি। তিনি জানান, আমার ঘরে ফ্রিজ, কাপড় চোপড় কিছুই আনতে পারিনি। শুধু টিভিটা কাঁধে নিয়ে বের হয়েছি। আমার রিক্সাটিও আনতে পারিনি। সেটিও পুড়ে গেছে। রিক্সাচালক সাইদুর জানান, এখানে চাচাত ভাই মিলে ১০ জন থাকি। সবারই একি অবস্থা। কেউ কিছু নিয়ে বের হতে পারেনি। আমরা গরিব মানুষ। জানি না এখন আমাদের কোথায় ঠাঁই হবে।




