ads

বুধবার , ৩১ জুলাই ২০১৯ | ২রা ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

শ্যামলবাংলা২৪ডটকম’র জন্মদিনে শুভকামনা ॥ আলহাজ্ব এম এ হাকাম হীরা

শ্যামলবাংলা ডেস্ক
জুলাই ৩১, ২০১৯ ২:০৫ অপরাহ্ণ

প্রযুক্তির নতুন নতুন উদ্ভাবন জীবনকে নিত্যদিনই নতুন গতি দেয়। পরিবর্তন আসে প্রতিদিনকার অভ্যাসেরও। আমাদেরও অভ্যাসের পরিবর্তন এসেছে। আগে একদিনের বাসি খবর নিয়ে ডাকযোগে পত্রিকা আসতো। ছাপার অক্ষরের সে খবরগুলোই ছিল আমাদের জানার একমাত্র উপায়। এরপর রেডিও এলো। টেলিভিশনের আগমনে হারিয়ে গেল। বর্তমানে অবশ্য এফএম রেডিও রেডিওর হারানো জনপ্রিয়তা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে। নতুন নতুন উদ্ভাবনের ফলে এদের সঙ্গে পাল্লা দিতে আরও একটি মাধ্যম পেলাম আমরা। সেটি হচ্ছে অনলাইন সংবাদ মাধ্যম। কিছুদিন আগেও অনলাইনকে ‘ফিউচার মিডিয়া’ বলা হতো। আজ তা নাম পেয়েছে ’নিউ মিডিয়া’ হিসেবে।
বাংলাদেশে প্রথম অনলাইন মাধ্যমটি চালু হয় ২০০৪ সালে। নাম বিডিনিউজ২৪.কম। এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান সম্পাদক ছিলেন আলমগীর হোসেন। যাত্রার এক বছরের মাথায় বিডিনিউজ দেশবিদেশে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। এক্সক্লুসিভ, স্পেশাল রিপোর্ট প্রকাশের মধ্য দিয়ে অর্জন করে ব্যাপক জনপ্রিয়তা। দ্রুত ও সঠিক খবর প্রকাশের মাধ্যমে টেলিভিশন ও সংবাদপত্রের দ্রুত খবর পাওয়ার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য প্রতিষ্ঠান হয়ে দাঁড়ায়। পরে অবশ্য মালিকানা পরিবর্তন হয়। তবে এখনো টিকে আছে বিডিনিউজ। আলমগীর হোসেন ২০১০ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে শুরু করেন নতুন অনলাইন নিউজপোর্টাল বাংলানিউজটোয়েন্টিফোর.কম। এছাড়াও অনেকটা সমসাময়িক সময়ে শীর্ষ নিউজ.কম, নতুনবার্তা.কম নামে আরও দু’টি অনলাইন সংবাদ মাধ্যম চালু হয়। আরও পরে আসে বাংলামেইল ২৪.কম, দ্যা রিপোর্ট ২৪. কম, প্রাইম নিউজ.কম নামে কয়েকটি নিউজ মিডিয়া। আর সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে এখন সারা দেশে হাজার হাজার অনলাইন সংবাদ মাধ্যম গড়ে উঠেছে। পত্রিকায় দেখলাম অনলাইন সংবাদ মাধ্যম হিসেবে নিবন্ধনের জন্য আবেদন করা হয়েছে প্রায় চব্বিশ হাজার।
অনলাইন কেন নিউ মিডিয়া : অনলাইন ২৪ ঘন্টার সংবাদ মাধ্যম। অনলাইনকে বলা হয় ২৪/৭ অর্থাৎ সপ্তাহের সাতদিনই খোলা। আর প্রতিদিনই ২৪ ঘন্টা। অনলাইনের দৈনিক কোন ভার্সন নেই। কোনো বাছবিচারে অনলাইন চলে না। অনলাইনের শ্রেষ্ঠতম গুণ হচ্ছে তাৎক্ষণিকতা। বার্তাকক্ষে সারাক্ষণই নতুন খবর আসে, সারাক্ষণই তা পুরোনো হয়। আজকের খবর কালকে বাসি বলে সংবাদপত্রে যে কথাটি প্রচলিত আছে। সেটি অনলাইনের ক্ষেত্রে হিসাব হয় ঘন্টা, মিনিট সেকেন্ড হয়ে। দুপুরের খবর আর কেউ রাতে জানতে চায় না। সকালের খবর দুপুরেই বাসি হয়ে যাচ্ছে। তাই প্রতিদিন চায়ের কাপে চুমুক দিয়ে, বিশ্বের কোথায় কি ঘটছে তা জানার জন্য সংবাদপত্র খুলে বসার অভ্যাসটিও অতীত হয়ে যাচ্ছে। কারণ এখন হাতের মুঠোয় রয়েছে ২৪ ঘন্টার সংবাদ মাধ্যম। সারাক্ষণই এর পাঠক আসছে, যাচ্ছে। বাঁধা সময় নেই। যখন তখন।
সাংবাদিকতাকে বলা হয় ’দৌড়ের উপর সাহিত্য’। আর অনলাইনে এই দৌড়টা আরো বেশি প্রযোজ্য। যে কোন ঘটঁনা ঘটাঁর সঙ্গে সঙ্গেই অনলাইনে প্রকাশ করা হয়। তবে এখানে চ্যালেঞ্জের বিষয়টি হচ্ছে এর সাহিত্যগুণের জায়গাটি নিশ্চিত করা। সংবাদপত্রে একটি খবর প্রকাশের ক্ষেত্রে যে সাংবাদিকতার চর্চা করা হয়, তার একটা ডেডলাইন থাকে। পরের দিনের সংখ্যায় খবরটি পরিবেশনের জন্য কিছুটা হলেও সময় থাকে। তারপরও কাজটি দ্রুততার সঙ্গেই করতে হয়। এ কারণেই সাংবাদিকতাকে দ্রুততার সাহিত্য বলা হয়। তাই সাহিত্যমান ঠিক রেখে অনলাইনে সাংবাদিকতা চর্চা অনেক সময় কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। তবে অনলাইন সংবাদ মাধ্যমের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে অনলাইন সামাজিক মাধ্যম। তাই অনলাইন সংবাদ মাধ্যমকে পাঠক ধরে রাখতে এ মাধ্যমকে আকর্ষণীয় খবরের উপর ভর করতে হবে। আবার অনেকে অনলাইনকে বলেন সবুজ-বান্ধব সংবাদ মাধ্যম। কারন এতে কাগজের ব্যবহার নেই। তাই সংবাদপত্রের মতো কাগজের জন্য হাজার হাজার গাছ কাটার প্রয়োজন হয় না। ব্যাবহার করতে হয় না এমন কোন প্রযুক্তি বা মেশিনারি, যা চালাতে ব্যবহার করতে হবে জ্বালানি। তাদের মতে জলবায়ু পরিবর্তনের ইস্যু যতই গুরুত্ব পাবে, অনলাইন সংবাদ মাধ্যমের গুরুত্ব ততই বাড়বে।
এটা বলার অপেক্ষা রাখে না, একসময়ে যা সচল, পরবর্তীতে তা অচল। আমাদের সাংবাদিকতার শুরুতে আমাদের খবর পাঠাতে হতো নিউজপ্রিন্টের কাগজে হাতে লিখে ডাকযোগে, টেলিফোনে। পরে ফ্যাক্সে। বর্তমানে ইন্টারনেট। ইমেইল। অনলাইনের প্রতি আগ্রহ বাড়াতে মূল ভূমিকা বাড়াচ্ছে ইন্টারনেট। পাশাপাশি স্মার্টফোন, প্যাড আর ট্যাবের মতো ডিভাইসগুলো। সারা দেশেই এখন অনলাইনের অগ্রযাত্রা। তাহলে আমাদের শেরপুর পিছিয়ে থাকবে কেন? না পিছিয়ে নেই। ইতোমধ্যেই বেশ কয়েকটি অনলাইন সংবাদমাধ্যম বেশ পাঠকপ্রিয়তা পেয়েছে। এদের মধ্যে শ্যামলবাংলা২৪ডটকম অন্যতম। শেরপুরে এই অনলাইন সংবাদ মাধ্যমটি শুরু হয়েছিল ২০১৩ সালের ৩১ জুলাই। এর প্রতিষ্ঠাতা ও সম্পাদক হলেন অ্যাডভোকেট রফিকুল ইসলাম আধার। মননশীলতাই যিনি একজন সৃজনশীল এবং বহুগুণে গুণান্বিত একজন মানুষ। এই মানুষটিই শ্যামলবাংলা২৪ নিয়ে যাত্রা শুরু করেন। তার বিশ্বস্ত ও দক্ষ সহযোদ্ধা ছিলেন শাহ আলম বাবুল। তিনি ২০১৫ সালের ১১ ফেব্রুয়ারী চলে গেছেন না ফেরার দেশে। এখন আছেন মোহাম্মদ জুবায়ের রহমান। তিনি নির্বাহী সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। সেদিন বটতলায় ছোট্ট পরিসরে এর উদ্বোধন করেছিলেন তৎকালীন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাকীর হোসেন। ছিলেন তৎকালীন পৌরসভার মেয়র হুমায়ুন কবীর রুমান, ছিলেন তৎকালীন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মহিবুল ইসলাম খান। ছিলেন স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীসহ অনেক সুধীজন।
অনলাইনই হোক আর প্রিন্টই হোক যে কোন পত্রিকা চালানো যে কত কঠিন, তা যারা চালান, তারা বোঝেন। ছয় বছরে সফলতা, ব্যর্থতা যাই থাকুক, শ্যামলবাংলা২৪ডটকম মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে হৃদয়ে ধারণ করে ’ মা-মাটি ও মানুষের কথা বলে’ এই শ্লোগানকে সামনে রেখে যেভাবে এগিয়ে চলছে, সে এগিয়ে চলা হোক আরও সুন্দর। শুভ কামনা মান্যবর সম্পাদকসহ সকল সহযোদ্ধাদের। ‘কানেক্ট’, ’কমিউনিকেট’ এবং ’কনজিউম’- তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির এই তিনটি আলোচিত শব্দ প্রতিফলিত হোক শ্যামলবাংলা২৪ডটকমের মাধ্যমে।
লেখক : সিনিয়র সাংবাদিক ও কলামিস্ট, শেরপুর।

Need Ads

সর্বশেষ - ব্রেকিং নিউজ

Shamol Bangla Ads
error: কপি হবে না!