রেজাউল করিম বকুল, শ্রীবরদী (শেরপুর) ॥ শেরপুরের শ্রীবরদীতে বয়সা বিলের পাশে বাঁধ নিয়ে ইজারাদারদের সাথে স্থানীয় জমির মালিকদের মধ্যে বিরোধ দেখা দিয়েছে। এ বিষয়ে ২৯ জুন শনিবার ইজারাদারদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা প্রশাসন ঘটনাস্থলে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে সৃষ্টি হয় উত্তেজনা। পরে তা প্রশমিত হলেও এখনও রয়েছে সংঘর্ষের আশংকা।
বয়সা বিলের আশপাশের গ্রামবাসী ও জমির মালিকদের অভিযোগ, বয়সা বিলের পাশে জমির মালিক মামদামারী ও শেখদিসহ কয়েকটি গ্রামের অনেকে। প্রতি বছর বর্ষা এলে তাদের জমির ওপর দিয়ে বন্যার পানি প্রবাহিত হয়। এতে পানির সাথে বয়সা বিলের মাছ এসে তাদের জমির ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। এ জন্য এবার তারা ফসল রক্ষার জন্যে বয়সা বিলের পাশ ঘেঁষে জমির সীমানা দিয়ে বাশের খুটি, বেড়া ও জাল দিয়ে বাঁধ নির্মাণ করেছে। এরই প্রতিবাদে বয়সা বিলের মাছ বেড়ে ওঠা ও মাছ চাষ বাঁধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে উপজেলা প্রশাসনের বরাবর অভিযোগ দেন ইজারাদার সততা মৎসজীবী সময়বায় সমিতি।
ওই অভিযোগের প্রেক্ষিতে শনিবার বয়সা বিলে যান উপজেলা চেয়ারম্যান এডিএম শহিদুল ইসলাম, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেঁজুতি ধর, উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) মঞ্জুর আহসান ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (তদন্ত) মনিরুল ইসলাম ভূঁইয়া। ওই সময় তারা ইজারাদার ও জমির মালিকদের সাথে কথা বলেন। এক পর্যায়ে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে পুলিশি হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। পরে ওই বাঁধ নিয়ে সৃষ্ট পরিস্থিতি সমাধানে উপজেলা প্রশাসন উভয় পক্ষকে উপজেলা পরিষদের বসার আহবান জানান।
এ ব্যাপারে জমির মালিকদের পক্ষ থেকে আবু সাইদ বলেন, যাতে বন্যার পানিতে আমাদের ফসলের কোনো ক্ষতি না হয় এ জন্য আমরা নিজেদের জমির ওপর বাঁধ নির্মাণ করেছি। এই বাঁধ যাতে ভেঙে দেয়া না হয় এ জন্য শ্রীবরদী সহকারি জজ আদালতে একটি অভিযোগ দাখিল করেছি। ্অপরদিকে সততা মৎসজীবী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক ইউসুব আলী অভিযোগ করে বলেন, এটি বয়সা বিলের সাথে সম্পৃক্ত। এই বাঁধ নির্মাণে বয়সা বিলের মাছ চাষে সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেজুতি ধর বলেন, বিষয়টি মিমাংসার জন্যে উভয় পক্ষকে বসার আহবান করা হয়েছে। দ্রুতই সমাধান করা হবে।




