স্টাফ রিপোর্টার ॥ ফেসবুকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে শেরপুর থেকে অপহরণের দীর্ঘ ৩ মাস ১১ দিন পর উদ্ধার হয়েছে এক কলেজছাত্রী। ২৩ জুন রবিবার সন্ধ্যায় কুমিল্লার ইপিজেড এলাকা থেকে ওই অপহৃতা কলেজছাত্রীকে উদ্ধার করে শেরপুরের পুলিশ। একইসাথে প্রতারক অপহরণকারী রবিউল ইসলাম নোমান (২৫) কে গ্রেফতার করা হয়। রবিউল ইসলাম নোমান পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলার টেংরাখালী গ্রামের আব্দুল লতিফ সরদারের ছেলে। সোমবার বিকেলে গ্রেফতারকৃত নোমানকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন মামলায় আদালতে সোপর্দ করা হয়। সেইসাথে উদ্ধারকৃত কলেজছাত্রীর ডাক্তারি পরীক্ষা ও আদালতে জবানবন্দি গ্রহণে পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
জানা যায়, শেরপুর শহরের খোয়ারপাড় এলাকার এক দরিদ্র সবজি ব্যবসায়ীর কলেজছাত্রী মেয়ে (১৭) কে গত ১৩ মার্চ ফেসবুকের মাধ্যমে প্রেমের ফাঁদে ফেলে প্রতারক প্রেমিক রবিউল ইসলাম নোমান নামে এক যুবক অপহরণ করে বিভিন্ন স্থানে রেখে দৈহিক সম্পর্ক গড়ে তুলে। পরে ওই কলেজছাত্রীর বাবা-মাসহ আত্মীয়-স্বজন বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির এক পর্যায়ে শেরপুরের পুলিশ সুপার কাজী আশরাফুল আজীম পিপিএম’র দ্বারস্থ হন। পরে তিনি ওই কলেজছাত্রীকে উদ্ধারের জন্য সদর থানা পুলিশকে আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেন। ওইসময় সদর থানায় গ্রহণ করা হয় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা। এরপর থেকেই তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আনছার আলী শেরপুর অঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় অনুসন্ধান চালিয়ে যাওয়ার এক পর্যায়ে অবশেষে রবিবার সন্ধ্যায় কুমিল্লার ইপিজেড এলাকা থেকে অপহৃতা ভিকটিমকে উদ্ধারসহ অপহরণকারী প্রেমিক নোমানকে গ্রেফতার করেন।
সোমবার দুপুরে সদর থানা হেফাজতে থাকা উদ্ধার হওয়া কলেজছাত্রী সাংবাদিকদের জানায়, মোবাইল ফোনে ও ফেসবুকের মাধ্যমে প্রতারক রবিউল ইসলাম নোমান তার সাথে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। সে বলে উচ্চ শিক্ষিত, পুরাতন ঢাকায় তাদের বাড়ী এবং সেখানেই বড় হয়েছে। পরে সে খ্রিষ্টান থেকে মুসলমান হয়েছে। তার বাবা মধ্যপ্রাচ্য রয়েছে এবং খ্রিষ্টান থেকে মুসলমান হওয়ায় তাকে বাড়ি থেকে বিতাড়িত করেছে। প্রতারক নোমান তাকে ফেসবুকে কথার মধ্যে প্রেমের গল্প এবং প্রলোভনে ফেলে দিনের পর দিন মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে এক পর্যায়ে প্রেমে মত্ত করে ফেলে। এরই এক পর্যায়ে গত ১৩ মার্চ নোমান তাকে কৌশলে শেরপুর শহর থেকে সিএনজিযোগে ফুসলিয়ে অপহরণ করে প্রথমে জামালপুর ও পরে ঢাকা থেকে কুমিল্লায় নিয়ে যায়। পরে নোমান জাল-জালিয়াতি আশ্রয়ে কাবিননামা সৃজনের মাধ্যমে ওই ছাত্রীর সাথে স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতে থাকে। কলেজছাত্রী নোমানের উপযুক্ত শাস্তি দাবি করেন।
এ ব্যাপারে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, প্রেমের ফাঁদে ফেলে কলেজছাত্রীকে অপহরণের ঘটনায় পূর্বেই থানায় নিয়মিত মামলা রুজু হয়েছে। বিলম্বে হলেও অপহৃতা কলেজছাত্রীকে উদ্ধারের পাশাপাশি অপহরণকারী প্রতারককেও গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে। এখনও দ্রুতই তদন্ত শেষ করে তাকে বিচারের মুখোমুখি করা হবে।




