স্টাফ রিপোর্টার ॥ শেরপুরের নালিতাবাড়ীর চাঞ্চল্যকর কৃষক ইদ্রিস আলী হত্যা মামলায় ৩ আসামির রিমাণ্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। ৫ মে রবিবার দুপুরে উভয় পক্ষের শুনানী শেষে রিমাণ্ড মঞ্জুর করেন জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আল মামুন। এরা হচ্ছেন প্রধান আসামি ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান হবির ছেলে আজাহারুল ইসলাম রিয়াদ (২৫), আত্মীয় রাহুল মিয়া (২২) ও মাজব আলী ওরফে মাজু মিয়া (৩৫)। এদের মধ্যে আজাহার ইসলাম রিয়াদের ৩ দিন এবং রাহুল মিয়া ও মাজু মিয়ার ২ দিনের রিমাণ্ড মঞ্জুর করা হয়। একই সাথে ইউপি চেয়ারম্যান হবির স্ত্রী আমেলা খাতুন ওরফে ঝর্ণা (৩০) এর রিমাণ্ডের আবেদন নামঞ্জুর করা হয়। তার সাথে রয়েছে দুগ্ধপোষ্য ২ শিশু সন্তান শ্রাবণ (৪) ও সিয়াম (৩)। তবে ওই হত্যাকা-ে ব্যবহৃত বিদেশি পিস্তল উদ্ধারের ঘটনায় অস্ত্র আইনে দায়ের করা পৃথক মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।
অন্যদিকে অস্ত্র আইনের মামলায় প্রধান আসামি ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান হবির রিমাণ্ড শুনানীর তারিখ ধার্য করা হয়েছে সোমবার।
ওই রিমাণ্ড মঞ্জুর-নামঞ্জুরের তথ্য নিশ্চিত করে নবাগত কোর্ট ইন্সপেক্টর খন্দকার শহিদুল হক জানান, আগামী ১২ মের মধ্যে ওই ৩ আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছেন আদালত। এখন তদন্ত কর্মকর্তা ইচ্ছে করলেই আদেশ মোতাবেক তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে যেতে পারবেন।
এ বিষয়ে নালিতাবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আবুল খায়ের জানান, রিয়াদসহ রিমাণ্ড মঞ্জুর হওয়া ৩ আসামিকে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করলে পলাতক আসামীদের অবস্থান, অজ্ঞাতনামা আসামীদের শনাক্তকরণসহ ইদ্রিস আলী হত্যার মূল রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হতে পারে। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সহসাই তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে আসা হবে।
উল্লেখ্য, জমিজমা নিয়ে বিরোধের জের ধরে গত ২৫ এপ্রিল দুপুরে যোগানিয়া ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান হবি দলবল নিয়ে পার্শ্ববর্তী কুত্তামারা গ্রামে কৃষক ইদ্রিস আলীর বাড়িতে হামলা চালায়। এক পর্যায়ে ইউপি চেয়ারম্যানের লাইসেন্সবিহীন পিস্তলের গুলিতে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারায় কৃষক ইদ্রিস আলী। ওই ঘটনায় ২৭ জনকে আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের হয়। ওই হত্যা মামলায় শুরু থেকে দ্বিতীয় দফায় ৯ জনকে এবং সর্বশেষ বৃহস্পতিবার রাতে সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার ফতেহপুর এলাকা থেকে প্রধান আসামি ইউপি চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান হবিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে ইউপি চেয়ারম্যান হবির দেওয়া তথ্য মোতাবেক ওই হত্যাকা-ে ব্যবহৃত বিদেশী পিস্তলটি ম্যাগজিনসহ উদ্ধার হওয়ায় তাকেসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে থানায় অস্ত্র আইনে আরও একটি মামলা রেকর্ড হয়।




