শ্যামলবাংলা ডেস্ক : এবার বাংলাদেশ বা ভারতের পশ্চিমবঙ্গে হামলার পরিকল্পনা করা হচ্ছে উল্লেখ করে তথাকথিত মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস) এর সমর্থনকারী এক টেলিগ্রাম চ্যানেল একটি পোস্টার প্রকাশ করেছে, যেখানে বাংলায় লেখা রয়েছে ‘শীঘ্রই আসছি’
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়া আইএসের বাংলায় লেখা ওই পোস্টারের বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদন বাংলাদেশ এবং পশ্চিমবঙ্গে সম্ভাব্য হামলার কথা জানিয়েছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে আইএসের ‘শীঘ্রই আসছি, ইনশাল্লাহ…’ লেখা ওই পোস্টারটি প্রকাশিত হয়েছে।
বাংলায় লেখা সেই পোস্টারে মুরসালাত নামে আইএসের একটি শাখা সংগঠনের লোগো আছে। শ্রীলঙ্কায় ভয়াবহ হামলার পর গোয়েন্দা সংস্থা এই পোস্টারটিকে যথেষ্ট গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে। তবে টাইমস অব ইন্ডিয়া আইএসের বাংলায় লেখা সেই পোস্টারটি তাদের প্রতিবেদনে প্রকাশ করেনি।
আইএসের সহায়তায় স্থানীয় ন্যাশনাল তাওহীদ জামাত (এনটিজে) এর মাধ্যমে শ্রীলঙ্কায় ভয়াবহ হামলার পর গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এই পোস্টারটিকে যথেষ্ট গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে।
টাইমস অব ইন্ডিয়া বলছে, আইএসের কেন্দ্র থেকে পরিচালিত স্থানীয় জঙ্গি সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদীনের (নব্য জেএমবি) মাধ্যমে বাংলাদেশে ইতিমধ্যে আইএসের একটি শক্ত অবস্থান তৈরি হয়েছে। নতুন সদস্য নিয়োগ এবং আত্মগোপনের জন্য জেএমবি সদস্যদের মাঝেমধ্যেই ভারতের কলকাতা ও পশ্চিমবঙ্গের অন্যত্র যাতায়াত রয়েছে।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে কলকাতার বাবুঘাট এলাকা থেকে আরিফুল ইসলাম নামের এক জেএমবি সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২০১৮ সালের বুদ্ধগয়া বিস্ফোরণের অন্যতম সহযোগী ছিলো সে।
এই বিস্ফোরণ ঘটানোর আগে, গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরা ভারতের আসামের চিরাঙ জেলায় স্থাপিত একটি জঙ্গি প্রশিক্ষণ শিবিরে প্রশিক্ষণ নেওয়ার কথা স্বীকার করে বলে জানান এক গোয়েন্দা কর্মকর্তা।
এছাড়াও, গত জুলাইয়ে বর্ধমান রেলস্টেশন থেকে পশ্চিমবঙ্গ সিআইডির হাতে গ্রেপ্তার আইএস-জেএমবি সদস্য মোহাম্মদ মুশিরুদ্দিন ওরফে মুসাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছিলো যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে কলকাতার বাবুঘাট এলাকা থেকে আরিফুল ইসলাম নামে এক জেএমবি সদস্যকে গ্রেফতার করে দেশটির পুলিশ। গ্রেফতার আরিফুল ২০১৮ সালের বুদ্ধগয়া বিস্ফোরণের অন্যতম অভিযুক্ত।
গত রোববার খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বীদের ইস্টার সানডে চলাকালে গির্জা ও বিলাসবহুল হোটেলে আত্মঘাতী বোমা হামলার ঘটনায় তিন শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন। ইসলামিক স্টেট (আইএস) এই হামলার দায় স্বীকার করেছে।




