ads

সোমবার , ৯ জুলাই ২০১৮ | ২৮শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

শেরপুরে যানজট নিরসনে ব্যতিক্রমী কার্যক্রম শুরু ॥ একদিন পর পর চলবে সাদা ও কমলা রঙের ইজিবাইক

শ্যামলবাংলা ডেস্ক
জুলাই ৯, ২০১৮ ৮:২৪ অপরাহ্ণ

নবাগত পুলিশ সুপারের উদ্যোগে আশান্বিত সচেতন মহল

স্টাফ রিপোর্টার ॥ সড়ক-মহাসড়কে জাতীয় সমস্যা যানজট নিরসনে সরকারের পাশাপাশি নগর-মহানগরে কাজ করছে দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষসহ স্থানীয় প্রশাসন। কিন্তু এরপরও উত্তরণ ঘটানো যাচ্ছে না সেই সমস্যা থেকে। সমস্যাটি সীমান্তবর্তী জেলা শহর শেরপুরের ক্ষেত্রেও প্রকট আকার ধারণ করেছে। জেলা প্রশাসনের সদিচ্ছায় আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভাসহ বিভিন্ন সভা-সমাবেশে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত নিয়েও যখন তা নিরসন করা যাচ্ছে না- ঠিক তখন এবার নবাগত পুলিশ সুপার কাজী আশরাফুল আজীমের উদ্যোগে ব্যতিক্রমী কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ওই কার্যক্রমের আওতায় রবিবার থেকে ইজিবাইক ও ব্যাটারীচালিত রিক্সার লাইসেন্স গ্রহণ ও পুরাতন লাইসেন্সের নবায়নে শেরপুর পৌরসভা ও সদর উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নে একযোগে মাইকিং প্রচারণা শুরু হয়েছে। চলতি মাসব্যাপী চলবে ওই প্রচারণা।
শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আমিনুল ইসলাম শহরের যানজট নিরসনে ওই ব্যতিক্রমী কার্যক্রম চালু হওয়ার বিষয়ে বলেন, গত ৭ জুন নবাগত পুলিশ সুপার কাজী আশরাফুল আজীম শেরপুরে যোগদানের পরপরই ছোট্ট শহর শেরপুরে যানজটে মানুষের ভোগান্তির কথাটি চিন্তা করে সম্প্রতি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে একটি মতবিনিময় সভা করেন। ওই মতবিনিময় সভায় বিভিন্ন নগর-মহানগর এলাকার মডেলের আদলে পুলিশ সুপারের ভাবনা উপস্থাপন করা হলে সকলেই তা সাদরে গ্রহণ করেন এবং ওই বিষয়ে সহযোগিতার আশ্বাস দেন। তারই আলোকে শেরপুর পৌরসভায় ১৫শ ও ১৪টি ইউনিয়নে ১৪শ ইজিবাইক ও ব্যাটারিচালিত রিক্সার লাইসেন্স গ্রহণ ও পুরাতন লাইসেন্সের নবায়নের কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ওই কার্যক্রম শেষ হলে ১ আগস্ট থেকে নিবন্ধিত ইজিবাইক ও ব্যাটারিচালিত রিক্সার সামনে ও পেছনের বর্ডারে দেওয়া হবে জোড়-বেজোড় সংখ্যা অনুযায়ী সাদা ও কমলা রঙ। রঙ লাগানোর কাজটি করবে লাইসেন্স প্রদানকারী কর্তৃপক্ষ অর্থাৎ পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ। লাইসেন্স নম্বরের বেজোড় সংখ্যার গাড়িগুলো বেজোড় তারিখে ও জোড় সংখ্যার গাড়িগুলো জোড় তারিখে রাস্তায় যাতায়াত করবে। এর মধ্যে শহরসহ ১৪টি ইউনিয়নেই ইজিবাইকগুলো মুক্ত থাকবে। অর্থাৎ শহরের ইজিবাইকগুলো শহর ছাড়াও ইউনিয়ন পর্যায়ে ও ইউনিয়নের ইজিবাইকগুলো ইউনিয়ন ছাড়াও শহরে যাতায়াত করতে পারবে। তবে কেবলমাত্র শহরের পার্শ্ববর্তী ৫টি ইউনিয়ন ভাতশালা, লছমনপুর, বাজিতখিলা, চরশেরপুর ও পাকুড়িয়া ইউনিয়নের ব্যাটারিচালিত রিক্সাগুলো শহরে যাতায়াত করতে পারবে। এক্ষেত্রে অন্য ৯টি ইউনিয়নের ব্যাটারিচালিত রিক্সাগুলো শহরে যাতায়াত করতে পারবে না।
উল্লেখ্য, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘ডেমোক্রেসি ইন্টারন্যাশনাল’ এর এক সমীক্ষায় দেখা যায়, কেবল যানজটের কারণে শেরপুর শহরেই প্রতিদিন নাগরিকদের অন্তত ৫০ হাজার শ্রমঘণ্টা অপচয় হচ্ছে। এ কারণে শেরপুর এখন জনদুর্ভোগের শহরে পরিণত হয়ে বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়ছে। প্রতিদিন সকল পর্যায়ের মানুষ প্রতিনিয়ত অসংখ্য সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। তার মধ্যে সময়মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পৌঁছতে না পারা, কর্মস্থলে বিলম্বে পৌঁছা, মুমূর্ষ রোগীকে সঠিক সময়ে চিকিৎসা সেবা প্রদান করতে না পারা, ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি ও অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি ভিত্তিতে সেবা প্রদানে গাড়িসমূহ সঠিক সময়ে গন্তব্যে পৌঁছতে না পারাসহ হাজারও সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
এদিকে যানজট নিরসনে নবাগত পুলিশ সুপারের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক ড. মল্লিক আনোয়ার হোসেন। রবিবার সকালে জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভায় তিনিসহ বিভিন্ প্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ ওই উদ্যোগে সন্তোষ প্রকাশ করে স্ব-স্ব অবস্থান থেকে সহযোগিতার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। এছাড়া পুলিশ সুপারের ওই উদ্যোগকে আরও স্বাগত জানিয়েছেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর রুমান, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ছানুয়ার হোসেন ছানু, জেলা মুক্তিযোদ্ধা ইউনিটের সাবেক কমান্ডার নুরুল ইসলাম হিরু, চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মোঃ মাছুদ, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এডভোকেট রফিকুল ইসলাম আধার, জেলা মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান রাজিয়া সামাদ ডালিয়া, শহর কমিউনিটি পুলিশের সভাপতি আব্দুল ওয়াদুদ অদু, জেলা কমিউনিটি পুলিশের সাধারণ সম্পাদক দেবাশীষ ভট্টাচার্য, শহর কমিউনিটি পুলিশের সাধারণ সম্পাদক কাজী মতিউর রহমান মতি ও প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদক সাবিহা জামান শাপলা, জনউদ্যোগ সভাপতি আবুল কালাম আজাদসহ বিভিন্ন মহল।
শহরের যানজট নিরসনে নতুন কার্যক্রম প্রসঙ্গে শেরপুর পৌরসভার মেয়র গোলাম মোহাম্মদ কিবরিয়া লিটন বলেন, যানজটজনিত সমস্যায় দিনদিন মানুষের দুর্ভোগ বেড়েই যাচ্ছিল। ওই অবস্থায় নবাগত পুলিশ সুপারের উদ্যোগে আমরা আশান্বিত যে উদ্যোগটি সফল হলে মানুষের দুর্ভোগ লাঘব হবে।
জেলা ইউপি চেয়ারম্যান ফোরামের সভাপতি রফিকুল ইসলাম বলেন, যানজট নিরসনে পুনঃপুন আলোচনা-সিদ্ধান্ত এবং কোন কোন ক্ষেত্রে পৃথক কমিটি গঠন করেও কোন কাজে লাগেনি। কাজেই পুলিশ সুপারের কার্যকর উদ্যোগটি নিঃসন্দেহে ব্যতিক্রমী। সেই উদ্যোগে আমরা সহযোগিতা করছি। আশা করছি এর মধ্য দিয়ে মানুষের দুর্ভোগের অবসান ঘটবে।
এ ব্যাপারে নবাগত পুলিশ সুপার কাজী আশরাফুল আজীম বলেন, যন্ত্রচালিতের মতো ব্যস্ত মানুষের ক্রমবর্ধমান কষ্টের কথাটি চিন্তা করে বিবেক আর দায়বদ্ধতার জায়গা থেকেই সবাইকে নিয়ে যানজট নিরসনে ওই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উদ্যোগটি সফল হলে তার ফল ভোগ করবে আমজনতাসহ শেরপুরবাসী। এজন্য তিনি স্থানীয় প্রশাসনসহ জনপ্রতিনিধি, সুশীল সমাজ ও সচেতন মহলের সহযোগিতা কামনা করেন।

error: কপি হবে না!