ads

বৃহস্পতিবার , ৭ জুন ২০১৮ | ৩১শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

‘সমৃদ্ধ আগামীর পথযাত্রায় বাংলাদেশ’

শ্যামলবাংলা ডেস্ক
জুন ৭, ২০১৮ ১:১৩ অপরাহ্ণ

শ্যামলবাংলা ডেস্ক : জাতীয় সংসদে বৃহস্পতিবার চলতি ২০১৭-১৮ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেট এবং আগামী ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট পেশ করছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।
‘সমৃদ্ধ আগামীর পথযাত্রায় বাংলাদেশ’ শীর্ষক এ বাজেট বক্তৃতার শুরুতেই অর্থমন্ত্রী তার দ্বাদশ বাজেট এই মহান সংসদে পেশ করার সুযোগ পাওয়ায় মহান আল্লাহতায়ালার কাছে শুকরিয়া আদায় করেন।
সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, জাতির পিতা শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে তিনি বলেন, ‘তিনি এই দেশটি প্রতিষ্ঠা করে আমার মত একজনকে দ্বাদশবারের মত দেশের বাজেট প্রণয়নের সুযোগ করে দিয়েছেন।’
ওই সময় মুহিত শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য সহকর্মী জাতীয় চার নেতা শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম, শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ, শহীদ ক্যাপ্টেন মনসুর আলী এবং শহীদ এ এইচ এম কামরুজ্জামানকে। তিনি স্মরণ করেন মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে নির্যাতিত কিন্তু নির্ভীক মুক্তিযোদ্ধা ও মা-বোনদের। আরও স্মরণ করেন পঁচাত্তর এর ১৫ আগস্টে শাহাদাত বরণকারী বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিবসহ বঙ্গবন্ধুর স্বজন ও অন্যান্য শহীদদের। স্মরণ করেন ভাষা আন্দোলন, ৬ দফা আন্দোলন, ‘৬৯-র গণআন্দোলন এবং অন্যান্য গণতান্ত্রিক আন্দোলনসহ জনগণের অধিকার আদায়ের দাবিতে জীবন উৎসর্গকারী শত-সহস্র শহীদদের।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সাফল্যের মাহেন্দ্রক্ষণে এবারের বাজেট উপস্থাপন করছেন জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, এ বাজেট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপর্যুপরি দ্বিতীয় মেয়াদের সর্বশেষ বাজেট। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান একটি সুখী, সমৃদ্ধ, শোষণমুক্ত ও বৈষম্যহীন সোনার বাংলার স্বপ্ন দেখেছিলেন। এ স্বপ্ন ছিল মানুষের জন্য অফুরান ভালবাসা, বাঙালীদের জন্য মমত্ববোধ, অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা এবং বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার অনুপম বোধ থেকে উৎসারিত। ১৯৭১ সালে ৯ মাসব্যাপী রক্তাক্ত এক মুক্তিযুদ্ধে জয়লাভ করে ১৬ ডিসেম্বরে আমাদের নবযাত্রা শুরু হয়; বঙ্গবন্ধু পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে এসে ১৯৭২ সালের ১১ জানুয়ারি এই যুদ্ধবিধ্বস্ত এবং অর্থনীতিতে পশ্চাৎপদ দেশটির নেতৃত্ব গ্রহণ করেন। অত্যন্ত অল্প সময়ে তিনি দেশটিকে উপহার দেন আধুনিক ও অগ্রসর একটি সংবিধান এবং মাত্র সাড়ে তিন বছরে দেশটির পুনর্বাসন ও পুনর্গঠনের কাজ সম্পন্ন করেন।’
তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের বিধ্বস্ত দেশে পুনর্বাসন এবং পুনর্গঠন কাজ যখন সম্পন্ন করে এনেছি, সে সময়েই ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট দেশশত্রু কতিপয় কুচক্রী জাতির পিতাকে হত্যা করে আমাদের অগ্রগতি রুদ্ধ করার ঘৃণ্য পদক্ষেপ নেয়। এই কুচক্রীদের দেশবিরোধী কার্যকলাপ আমাদের ১৬টি বছরের জন্য জিম্মি করে রাখে। কিন্তু অপ্রতিরোধ্য এই জাতি প্রায় বিনা রক্তে বিপ্লব সাধন করে এদেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করে। এই গণতন্ত্রকে সুসংহত ও সুসংগঠিত করতে ২১ বছর পরে যাদের নেতৃত্বে দেশটি স্বাধীন হয়, সে আওয়ামী লীগ সরকার এবং বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা দেশরত্ন জননেত্রী শেখ হাসিনা দেশের নেতৃত্বের দায়িত্ব নেন। দেশটির বাধাপ্রাপ্ত অগ্রযাত্রা আবার শুরু হয়।’
একবিংশ শতাব্দীর শুরুতেই এই অগ্রযাত্রা সামান্য ব্যাহত হয় উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘তবে, সেটা ছিল সাময়িক বিচ্যুতি। অতঃপর ২০০৯ সাল থেকে আমাদের অগ্রযাত্রা বিগত ১০টি বছর ধরে অব্যাহত রয়েছে। জননেত্রী শেখ হাসিনা আমাদের সামনে লক্ষ্যমাত্রা ঘোষণা করলেন যে, ২০২১ সালে এই দেশটি মধ্যম আয়ের দেশে উত্তীর্ণ হবে। আমাদের সৌভাগ্য যে, আমরা ২০১৫ সালেই সেই উত্তরণটি করতে সক্ষম হই। অতঃপর ২০১৮ সালের মার্চ মাসে জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি আমাদের স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের যোগ্যতা অর্জনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। আমরা আশা করছি যে, অচিরেই আমরা উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশ হব।’
তিনি বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের পরবর্তী লক্ষ্যমাত্রা স্থির করে দিয়েছেন। আমাদের টার্গেট হলো ২০৪১‌ সালে আমরা হব সুখী, সমৃদ্ধ একটি উন্নত দেশ। ২০১১ থেকে ২০২০ পর্যন্ত বিস্তৃত আমাদের দু’টি পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার ছকমত আমরা ঈপ্সিত পথে অগ্রসর হচ্ছি। একবিংশ শতাব্দীতে এ যাবৎ আমাদের গড় প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৬.৬ শতাংশ এবং বিগত ২ বছর ধরে এ প্রবৃদ্ধির হার হয়েছে ৭ শতাংশের ঊর্ধ্বে।’
অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘চলতি ২০১৭ ১৮ অর্থবছরে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সাময়িক হিসাবমতে আমাদের প্রবৃদ্ধি হবে ৭.৬৫ শতাংশ। আমরা এখন এই মজবুত ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে আমাদের প্রেক্ষিত পরিকল্পনা ২০২১-২০৪১ প্রণয়নের কাজ শুরু করেছি। এছাড়াও একটি সমন্বিত দীর্ঘমেয়াদি ‘বাংলাদেশ ব-দ্বীপ পরিকল্পনা, ২১০০’ এর খসড়াও আমরা প্রণয়ন করছি। সারা পৃথিবী আমাদের সফল উন্নয়ন কৌশল ও কার্যক্রমের স্বীকৃতি ইতোমধ্যেই দিয়েছে।’

error: কপি হবে না!