ads

বৃহস্পতিবার , ৭ জুন ২০১৮ | ৩১শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

এবার কবুতরের প্রতি শেরপুরে জেলা প্রশাসকের ভালোবাসা

শ্যামলবাংলা ডেস্ক
জুন ৭, ২০১৮ ৪:৪৪ অপরাহ্ণ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ শেরপুর কালেক্টরেট ভবনের ছাদের পশ্চিম পাশে দীর্ঘদিন ধরে বেশকিছু কবুতর বাসা ছাদের কার্ণিশ সহ বিভিন্ন স্থানে বসবাস করছে। স্থানীয় একজন লোক ওই কবুতরগুলোকে কিছু খাবার দিয়ে যাচ্ছে। প্রতিদিন সন্ধ্যায় কবুরতরগুলোকে নিয়ম করে তিনি খাবার দিয়ে যাচ্ছেন। এভাবেই চলছিলো। অনেকেই বিষয়টি দেখেছেন, কিন্তু কেউ সেভাবে খেয়াল করেননি। সম্প্রতি জেলা প্রশাসক ড. মল্লিক আনোয়ার হোসেন কালেক্টরেট চত্বরের নানা উন্নয়ন কর্মকান্ড বাস্তবায়ন করার সময় বিষয়টি তাঁর নজরে আসে। দেখতে পান, একজন লোক প্রতিদিন সন্ধ্যায় নিয়ম করে কালেক্টরেট ভবনের পশ্চিম পাশে কিছু কবুরতরকে খাবার দিয়ে যাচ্ছেন। মনের আনন্দে কবুতরগুলো সেই খাবার খেয়ে আবার কালেক্টরেট ভবনের ছাদে-কার্ণিশে, এখানে সেখানে বসবাস করছে। ঝড়-বাতাস, বৃষ্টি-বাদলেও কবুতরগুলো সেভাবেই বসবাস করে আসছে। একপর্যায়ে জেলা প্রশাসক ওই লোকটিকে ডেকে জিজ্ঞেস করলেন, কেন তিনি এভাবে কবুতরকে খাবার দিয়ে যাচ্ছেন। ওই লোক জেলা প্রশাসককে জানান, কবুতরগুলো ‘জালালি কবুতর’। তার বাবাও ওই কবুতরগুলোকে এভাবে খাবার দিয়েছেন। বাবার নির্দেশে তিনিও দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত এ কাজটি করে যাচ্ছেন। ঘটনাটি জেনে জেলা প্রশাসক কিছুটা বিস্মিত হন। একপর্যায়ে তিনি সহকর্মীদের সাথে আলাপ আলোচনা করে ওই কবুতরগুলো যেহেতু কালেক্টরেট ভবনে রয়েছে সেজন্য তাদের নিরাপদ বাসস্থান নিশ্চিত করার সিদ্ধান্ত নেন। সেই ভাবনা থেকে ছোট ছোট খোপ করে কবুতরের বাসোপযোগী টিনের চালা সহ কাঠের তৈরী ছোট ঘর নির্মাণ করেন। প্রাথমিকভাবে ১০টি ঘর বানানো হয়, যার প্রত্যেকটিতে ৯টি করে কবুতর নিজের মতো করে বসবাস করতে পারবে। প্রায় তিন শতাধিক কবুতর সেখানে রয়েছে বলে জানা যায়। প্রাথমিকভাবে ৯০টি কবুতরের ঘর বানানো হলেও পর্যায়ক্রমে আরও ঘর বানানো হবে বলে নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) মোস্তাফিজুর রহমান জানিয়েছেন। গত ৫ জুন মঙ্গলবার বিশ^ পরিবেশ দিবসে জেলা প্রশাসক ড. মল্লিক আনোয়ার হোসেন অতিথিদের নিয়ে কবুতরের জন্য বানানো ঘরগুলো উদ্বোধন করেন এবং বসবাসের স্থানে স্থাপন করেন। ওই সময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) জন কেনেডি জাম্বিল, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সাইয়্যেদ এম. মুরশিদ আলী, সমাজকর্মী রাজিয়া সামাদ ডালিয়া, জেলা মহিলা পরিষদ সভানেত্রী জয়শ্রী দাস লক্ষ্মী, ওয়ার্ল্ডভিশন শেরপুর এলাকা প্রকল্প ব্যবস্থাপক লিমা হান্না, উদীচী জেলা সভাপতি তপন সারোয়ার, কলেজ শিক্ষক ফাউন্ডেশনে সাধারণ সম্পাদক শওকত হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। জেলা প্রশাসকের নিজস্ব ফেসবুকে ওয়ালে এ সংক্রান্ত ছবি সহ একটি পোস্ট দেওয়ার জন্য অনেকেই এতে লাইক, কমেন্ট এবং শেয়ার করে জেলা প্রশাসক ড. মল্লিক আনোয়ার হোসেনকে অভিনন্দন জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক ড. মল্লিক আনোয়ার হোসেন বলেন, বেশ কয়েক বছর ধরে শতাধিক কবুতরের বসবাস শেরপুর জেলা প্রশাসকের অফিস ভবনে। বংশ বৃদ্ধি হয় প্রতিনিয়ত। বসবাসের ভাল ব্যবস্থা না থাকার কষ্টে দিন কাটে তাদের। বিশ্ব পরিবেশ দিবসে কবুতরগুলির বসবাসের ব্যাবস্থার জন্য নতুন ঘর করে দেওয়া হল। আশা করি তারা নিরাপদে বসবাস করতে পারবে। তিনি বলেন, একজন মানুষ প্রতিদিন নি:স্বার্থভাবে কবুতরের খাবার যোগাচ্ছে, আর আমি কবুতরগুলোর জন্য নিরাপদ আবাস দিতে পারবো না, তাতো হতে পারেনা। এজন্য কবুতরের বাসা বেঁধেছি।
পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন পবা’র শেরপুর জেলা সমন্বয়কারি সমাজকর্মী রাজিয়া সামাদ ডালিয়া বলেন, কবুতর হল শান্তির দূত। শ’ তিনেক কবুতরের বাকবাকুম জেলা প্রশাসন প্রাঙ্গণকে মুখরিত করে রেখেছে বহুদিন ধরে। তাদের জন্য নিরাপদ নিজস্ব আশ্রয় তৈরি হল, শান্তির পায়রারা নিরাপত্তা পেল। এই শান্তির বারতা প্রতিটি ঘরে ঘরে পৌঁছে যাক। এজন্য আন্তরিক ধন্যবাদ ড. মল্লিক আনোয়ার হোসেন জেলা প্রশাসক মহোদয়কে।
উল্লেখ্য, শিশু পরিবারের এতিমদের প্রতি জেলা প্রশাসক ড. মল্লিক হোসেনের ভালোবাসা এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করে।

error: কপি হবে না!