ads

মঙ্গলবার , ২২ মে ২০১৮ | ৩১শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপ ॥ শেরপুরে বিভেদ ভুলে ঐক্যের পথে আওয়ামী লীগ

শ্যামলবাংলা ডেস্ক
মে ২২, ২০১৮ ৮:২৩ অপরাহ্ণ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ শেরপুরে কেন্দ্রীয় নির্দেশনা উপেক্ষা করে কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরী ও স্থানীয় সাংসদ প্রকৌশলী একেএম ফজলুল হক চাঁনসহ দলের ৬ নেতার বিরুদ্ধে শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়কে কেন্দ্র করে প্রকাশ্য রূপ ধারণ করা বিবদমান দু’গ্রুপের বিভেদ অবশেষে কেন্দ্রীয় হস্তক্ষেপে থেমে গেছে। ২২ মঙ্গলবার বিকেলে রাজধানী ঢাকায় দু’গ্রুপের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ সমঝোতা বৈঠক করায় ওই বরফ গলে। এর মধ্য দিয়ে এখন শেরপুরে বিভেদ ভুলে ঐক্যের পথে আওয়ামী লীগ অগ্রসর হবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।
জানা যায়, দীর্ঘদিন যাবত শেরপুর-২ (নকলা-নালিতাবাড়ী) আসনের সংসদ সদস্য, আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরীর সাথে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি, সদর আসনের সংসদ সদস্য হুইপ আতিউর রহমান আতিকের স্নায়ুবিক দ্বন্দ্বসহ দূরত্ব চলে আসছিল। বিগত পৌর নির্বাচনের পরপরই সেই দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে গড়ায়। এরপর জেলা পরিষদ নির্বাচনে দলের প্রার্থী এডভোকেট চন্দন কুমার পালের ভরাডুবিতে সেই দ্বন্দ্বে যোগ হয় নতুন মাত্রা। এরই ধারাবাহিকতায় শেরপুরে বিভক্ত হয়ে পড়ে দলীয় নেতা-কর্মীরা। একদিকে আতিক-চন্দন এবং অন্যদিকে মতিয়া চৌধুরীর অনুসারী হিসেবে আলোচিত জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর রুমান ও সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ছানুয়ার হোসেন ছানু পৃথক পৃথকভাবে দলীয় কার্যক্রম শুরু করেন। মতিয়া চৌধুরীকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়া কৃষিবিদ বদিউজ্জামান বাদশা হুইপ আতিক বলয়ের সাথে মিশে গেলেও হুইপ আতিককে বয়কট করে চলছিলেন নকলা ও নালিতাবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতারা। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯ মে সন্ধ্যায় জেলা আওয়ামী লীগের নির্বাহী পরিষদের এক সভায় কৃষিমন্ত্রী বেগম মতিয়া চৌধুরীকে শেরপুর থেকে প্রত্যাহার এবং সাংসদ প্রকৌশলী একেএম ফজলুল হক চাঁনসহ ৫ নেতাকে বহিস্কার, নালিতাবাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের কার্যক্রম বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর প্রতিবাদে পরদিন দুপুরে দলের বিক্ষুদ্ধ নেতা-কর্মীরা শহরে হুইপ আতিকের কুশপুত্তলিকা দাহ ও ঝাড়– মিছিলসহ সংবাদ সম্মেলন করে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আতিউর রহমান আতিককে ‘দুর্নীতিবাজ, অযোগ্য ও রাজাকারের সন্তানদের আশ্রয়-প্রশ্রয়দাতা’ হিসেবে উল্লেখ করে অবিলম্বে তাকে দলীয় দায়িত্বসহ জাতীয় সংসদের হুইপ পদ থেকে অপসারণ দাবি করা হয়। অন্যদিকে ২১ মে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করে আতিক-চন্দন অনুসারীরা। ওই অবস্থা জেলায় দলীয় দ্বন্দ্ব-বিভেদ প্রকাশ্য রূপ ধারণসহ সংঘাত-সংঘর্ষের দিকে ধাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এমপির নির্দেশনায় হঠাৎ কেন্দ্রে তলব পড়ে আতিক-চন্দনসহ শাস্তি পাওয়া নেতাদের।
মঙ্গলবার বিকেলে ধানমন্ডিস্থ প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত ওই সভায় সভাপতিত্ব করেন দলের কেন্দ্রীয় প্রেসিডিয়াম সদস্য কৃষিবিদ ড. আব্দুর রাজ্জাক এমপি। ওইসময় কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডাঃ দীপুমনি এমপি ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক অসীম কুমার উকিল উপস্থিত ছিলেন। বিবদমান দু’গ্রুপের নেতাদের মধ্যে একদিকে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি হুইপ আতিউর রহমান আতিক, সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট চন্দন কুমার পাল পিপি, জাতীয় পরিষদ সদস্য মোঃ খোরশেদুজ্জামান ও নির্বাহী সদস্য কৃষিবিদ বদিউজ্জামান বাদশাসহ কয়েকজন এবং অন্যদিকে সংসদ সদস্য প্রকৌশলী একেএম ফজলুল হক চাঁন, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ছানুয়ার হোসেন ছানু, নকলা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান, শাস্তি পাওয়া শামছুন্নাহার কামাল, জিয়াউল হোসেন মাস্টার, শফিকুল ইসলাম জিন্নাহ ও ফজলুল হকসহ কয়েকজন উপস্থিত ছিলেন। ওই সভাসূত্র জানায়, কেন্দ্রীয় নেতারা জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে সকল বিভেদ-দ্বন্দ্ব ভুলে ঐক্য প্রতিষ্ঠার উপর জোর দিয়েছেন। ঐক্যের প্রশ্নে উভয় পক্ষ একমত পোষণ করায় জেলা আওয়ামী লীগের নির্বাহী সভায় গৃহীত মতিয়া চৌধুরীসহ ৬ নেতার শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ থেকে পিছু হটেন আতিক-চন্দন। সেইসাথে জেলা আওয়ামী লীগের নির্বাহী পরিষদের পরবর্তী সভাগুলোতে সংশ্লিষ্ট সকলের উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ এবং দলীয় পৃথক অফিস একীভূত করার উপর গুরুত্বারোপ করা হয়। অন্যদিকে কয়েকজন নেতার দলের কেন্দ্রীয় ট্রাইব্যুনালে করা রিভিউ নিষ্পত্তির বিষয়ে বলা হয়, সেটা একান্তই দলীয় প্রধানের বিষয় এবং সেই ট্রাইব্যুনাল এখনও গঠিত হয়নি। কাজেই এখন দলের জেলা ও উপজেলা কমিটিগুলো যেভাবেই আছে, সেভাবেই তাদের কার্যক্রম চলবে।
কেন্দ্রের তলবে হাজির থাকা জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আনোয়ারুল হাসান উৎপল ওই সভার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মতিয়া চৌধুরীসহ জেলা আওয়ামী লীগের ৬ নেতার বিষয়ে নেওয়া সিদ্ধান্ত রিভিউ করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। দলের অফিসও একটি রাখার কথা বলা হয়েছে। এছাড়া যারা দলের প্রার্থীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছিলেন, তাদের সাংগঠনিক পদ থাকবে না বলেও ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে অপর বলয়ের নেতা সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ছানুয়ার হোসেন ছানু বলেন, মতিয়া চৌধুরীসহ ৬ নেতার বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত গ্রহণসহ সংবাদ সম্মেলনে থাকা বেশ ত্রুটি-বিচ্যুতিই নেতারা তুলে ধরেছেন। তবে ঐক্য ও সমঝোতার প্রশ্নে আমরা সহমত পোষণ করেছি। এখন তাদের আন্তরিকতার উপর নির্ভর করছে পরবর্তী অবস্থান। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জেলা আওয়ামী লীগের নেওয়া শাস্তিমূলক সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে উদ্ভুত অবস্থায় কার বা কোন বলয়ের বিজয় হল- তা বলার প্রয়োজন না হলেও এ কথা পরিস্কার যে, ওই শাস্তির সিদ্ধান্ত আর আলোর মুখ দেখছে না।

error: কপি হবে না!