ads

রবিবার , ২২ অক্টোবর ২০১৭ | ৩১শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

শেরপুরে বিস্ফোরক মামলার প্রধান আসামী কাশেম গ্রেফতার

শ্যামলবাংলা ডেস্ক
অক্টোবর ২২, ২০১৭ ১০:০৮ অপরাহ্ণ

•জেএমবি কানেকশনে রাসায়নিক পদার্থ মজুদের তথ্য স্বীকার

স্টাফ রিপোর্টার ॥ শেরপুরের নকলায় জঙ্গীদের বিস্ফোরক তৈরির বিপুল পরিমাণ রাসায়নিক পদার্থ উদ্ধারের মামলায় ১৭ দিন পর পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছে প্রধান আসামী আবুল কাশেম (২২)। গোপন সূত্রে সংবাদের ভিত্তিতে প্রযুক্তিগত সহায়তায় অভিযান চালিয়ে ২২ অক্টোবর রবিবার দুপুরে টাঙ্গাইলের কালিহাতী থানার এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ড থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। সে নব্য জেএমবির সক্রিয় সদস্য এবং তার সাংগঠনিক নাম আবু মোসাব। রাত ৯টায় পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে স্থানীয় প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ার প্রতিনিধিদের ওই তথ্য জানানো হয়। সেইসাথে জানানো হয়, সোমবার ৭ দিনের পুলিশ রিমান্ডের আবেদনসহ গ্রেফতার হওয়া আবুল কাশেমকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।
প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার রফিকুল হাসান গণি জানান, গ্রেফতার হওয়া আবুল কাশেম প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে সে জেএমবির সদস্য এবং তার সাংগঠনিক নাম আবু মোসাব। জিজ্ঞাসাবাদে সে জানিয়েছে, ২০১৫ সালের ডিসেম্বর মাসে ফেসবুকে ২ জন নতুন বন্ধুর ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট একসেপ্ট করে। কিছুদিন ফেসবুকিং করে ঘনিষ্ঠতার এক পর্যায়ে ওই দু’জন তাকে এক জঙ্গী সংগঠনের কার্যক্রম সম্পর্কে ধারণা দেয় এবং ইসলামের শত্রুদের নিধনের জন্য তার সদস্য হওয়ার অনুরোধ জানায়। তাদের অনুরোধে প্রাথমিকভাবে সে সাড়া দিলে তারা তাকে ফেসবুক ছেড়ে একটি বিশেষভাবে এনকোডেড মোবাইল অ্যাপসের মাধ্যমে যোগাযোগ অব্যাহত রাখার নির্দেশ দেয়। পরে ওই সংগঠনের সিনিয়রদের নির্দেশে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে সে চন্দ্রকোনা বাজারে ফয়েজ উদ্দিনের ভাড়াকৃত ঘরটি মাসিক ৬শ টাকা ভাড়ায় সাবলেট নেয়। জঙ্গী সংগঠনের এক সদস্য গত মার্চ মাসের কোন এক রাতে ছোট ট্রাকে করে বিস্ফোরক তৈরীর জন্য ১৯ কন্টেইনার রাসায়নিক তরল পদার্থ চন্দ্রকোনা বাজারে নিয়ে ওই ভাড়াকৃত দোকানে মজুদ করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী বড় কোন জনসমাগমে সুবিধাজনক সময়ে বিস্ফোরণ ঘটানোর পরিকল্পনা ছিল তাদের। তবে কোরবানীর ঈদ ও দুর্গাপূজা উৎসবের পূর্ব থেকেই পুলিশের নিশ্চিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকায় তাদের কার্যক্রম পিছিয়ে দেয় এবং পরবর্তীতে আরও সুবিধাজনক সময়ে ওই কার্যক্রম পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেয়। তিনি আরও জানান, রবিবার ভোরে আবুল কাশেম চাপাইনবাবগঞ্জ থেকে তার সংগঠনের সদস্যদের নিয়ে ঢাকায় রওনা হবে- পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের প্রযুক্তিগত সহায়তায় শেরপুর জেলা পুলিশের আভিযানিক দল ওই তথ্য পায়। পরে বিশেষ আভিযানিক দলটি প্রযুক্তিগত সহায়তায় তার যাত্রাপথ মনিটরিংয়ের মাধ্যমে কালিহাতী থানার এলেঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে দুপুর পৌণে ১টার দিকে তাকে গ্রেফতার করে। তাকে পুলিশ রিমান্ডে নিয়ে ব্যাপকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করলে নব্য জেএমবি কানেকশনের আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিস্ফোরক তৈরীর রাসায়নিক পদার্থ উদ্ধারের পরপরই আবুল কাশেম আত্মগোপনে চলে যাবার পরও নব্য জেএমবি কানেকশনেই ছিল এমনটিই ধারণ করা হচ্ছে।
প্রেস ব্রিফিংকালে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আমিনুল ইসলাম, ডিবির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কামরুজ্জামান তালুকদার, সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম, নকলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খান আব্দুল হালিম সিদ্দিকী, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও চন্দ্রকোনা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ আমিনুর রহমান উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, ৫ অক্টোবর রাতে নকলা উপজেলার চন্দ্রকোনা বাজারে জঙ্গিদের বিস্ফোরক তৈরির রাসায়নিক পদার্থের গোডাউনের সন্ধান এবং ওই গোডাউন থেকে নাইট্রিক এসিড, সালফারিক এসিড, ক্লোরোফর্ম ও ডাইক্লোমেথিনসহ বিস্ফোরক তৈরির প্রায় ৬শ লিটারের বিপুল পরিমাণ রাসায়নিক তরল পদার্থ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই ঘটনায় শনিবার নকলা থানায় গোডাউনের ভাড়াটে আবুল কাশেম (২২) ও ফয়েজ উদ্দিন (৩৩) এবং মালিক মিনারা বেগম (৩২)সহ স্বনামে ৩ জন ও অজ্ঞাতনামা বেশ কয়েকজন জঙ্গীকে আসামী করে ১৯০৮ সালের বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের ৪/৫/৬ ধারায় একটি মামলা রেকর্ড হয়। ওই মামলার সাথে সাথেই গোডাউনের মালিক মিনারা বেগম ও প্রথম ভাড়াটে ফয়েজ উদ্দিন গ্রেফতার হলেও এতদিন পলাতক ছিল প্রধান আসামী আবুল কাশেম। সে নকলা উপজেলার চন্দ্রকোনা ইউনিয়নের হুজুরীকান্দা গ্রামের মৃত ছাফিল উদ্দিনের ছেলে ও দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী।

error: কপি হবে না!