ads

বুধবার , ১৮ অক্টোবর ২০১৭ | ৩১শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

দেশে ফিরেছেন খালেদা জিয়া

শ্যামলবাংলা ডেস্ক
অক্টোবর ১৮, ২০১৭ ৭:৫৮ অপরাহ্ণ

শ্যামলবাংলা ডেস্ক : দেশে ফিরেছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। তিন মাসের বেশি সময় যুক্তরাজ্যের লন্ডনে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে অবস্থান শেষে ১৮ অক্টোবর বুধবার বিকেল সোয়া ৫টায় এমিরেটস এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন তিনি। খালেদা জিয়াকে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দর এলাকায় বিএনপির বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত হয়।
চোখ ও হাঁটুর চিকিৎসা নিতে গত ১৫ জুলাই লন্ডন যান খালেদা জিয়া। সেখানে বড় ছেলে তারেক রহমানের বাসায় ছিলেন তিনি।
বিএনপি চেয়ারপারসনকে শুভেচ্ছা জানাতে নেতাকর্মীরা দুপুর থেকেই বিমানবন্দর এলাকার রাস্তার দুই পাশে অবস্থান নেন; এতে দুপুরের পর থেকেই ওই সড়কে যানজট দেখা দেয়। চেয়ারপারসনকে শ্লোগানের পর শ্লোগান দিয়ে করতালির মাধ্যমে শুভেচ্ছা জানান নেতাকর্মীরা।
এদিকে, বৃহস্পতিবার খালেদা জিয়া গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হওয়া মামলাগুলোতে জামিন নিতে আদালতে যাবেন। দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাদের নেত্রীর বিরুদ্ধে সরকার রাজনৈতিক মনোভাবে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে। গ্রেফতারি পরোয়ানাকে দেশনেত্রী ভয় পান না। আমাদের নেত্রী আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়েই তিনি আদালতে গিয়ে আত্মসমর্পণ করে ওইসব মামলায় জামিন নেবেন।’ জামিনের ব্যাপারে সরকার কোনো ভুল করবে না বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বিমানবন্দর থেকে খালেদা জিয়া সরাসরি তার গুলশানের বাসা ‘ফিরোজা’য় যান। একই ফ্লাইটে ফিরেছেন তার একান্ত সচিব এবিএম আবদুস সাত্তার ও গৃহকর্মী ফাতেমা আখতার।
বিমানবন্দর এলাকা থেকে বিএনপি চেয়ারপারসনের বাসা পর্যন্ত বিভিন্ন পয়েন্টে দলের নেতাকর্মীরা ব্যানার, ফেস্টুন ও প্লাকার্ড নিয়ে রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে হাত নেড়ে ও বিভিন্ন শ্লোগান দিয়ে তাকে স্বাগত জানায়। তবে বিমানবন্দর সংলগ্ন এলাকায় নেতাকর্মীদের ভিড় ছিল বেশি।
খালেদা জিয়াকে বিমানবন্দরে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বাড়তি নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও সাবেক আইজিপি আবদুল কাইয়ুম, খালেদা জিয়ার দেহরক্ষী মাসুদ রানা ও গুলশান কার্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা জসিম উদ্দিন ছাড়া অন্যদের বিমানবন্দরের ভিআইপি লাউঞ্জের ভেতরে প্রবেশ করতে দেয়নি।
৪ জন ছাড়া জ্যেষ্ঠ নেতাসহ অন্য কাউকে বিমানবন্দরে প্রবেশ করতে না দেয়ায় গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিএনপি নেতাকর্মীরা। ভিআইপি লাউঞ্জে পুলিশ বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতাদের প্রবেশ করতে না দেয়ায় তারা বিমানবন্দর মসজিদের কাছে সড়কের এক পাশে সারিবদ্ধভাবে দাঁড়ান এবং খালেদা জিয়াকে বহনকারী গাড়ি আসার পর ফুল দিয়ে নেত্রীকে শুভেচ্ছা জানান। সেখানে ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, ড. আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী প্রমুখ নেতৃবৃন্দ।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ ও মির্জা আব্বাস সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করেন, ‘তাদের নেতা-কর্মীদের শান্তিপূর্ণভাবে দাঁড়াতে পুলিশ বাধার সৃষ্টি করেছে। দলের চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া দেশে ফিরছেন বলে দলের নেতাকর্মীরা তাকে শুভেচ্ছা জানাতে এসেছে। অথচ আপনারা দেখবেন পুলিশ কতভাবে তাদেরকে বাধা দিচ্ছে। বিমানবন্দর সড়কে গণপরিবহন বন্ধ করে দেয়া হয়েছে যাতে লোক সমাগম না হয়। তারপরও ব্যাপক মানুষের উপস্থিতি প্রমাণ করে জনগণ দেশনেত্রীর আগমনে শুভেচ্ছা জানাতে প্রস্তুত।’
বিমানবন্দরে দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন আবদুল্লাহ আল নোমান, এয়ার ভাইস মার্শাল (অব.) আলতাফ হোসেন চৌধুরী, আবদুল মান্নান, মীর নাসির, অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন, বরকত উল্লাহ বুলু, এজেডএম জাহিদ হোসেন, নিতাই রায় চৌধুরী, গিয়াস কাদের চৌধুরী, শামসুজ্জামান দুদু, অ্যাডভোকেট আহমেদ আজম খান, মেজর জেনারেল (অব.) রুহুল আলম চৌধুরী, আমানউল্লাহ আমান, মিজানুর রহমান মিনু, আবদু সসালাম, লুৎফর রহমান খান আজাদ, রুহুল কবির রিজভী, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, হাবিব-উন নবী খান সোহেল, ফজলুল হক মিলন, নজরুল ইসলাম মঞ্জু, বিলকিস জাহান শিরিন, সানাউল্লাহ মিয়া, হাবিবুল ইসলাম হাবিব, শহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, মাসুদ আহমেদ তালুকদার, তাইফুল ইসলাম টিপু, বেলাল আহমেদ।
এ ছাড়া সহযোগী সংগঠনের নেতা আফরোজা আব্বাস, হেলেন জেরিন খান, সাইফুল ইসলাম নিরব, সুলতান সালাহউদ্দিন টুকু, শফিউল বারী বাবু, আবদুল কাদের ভূঁইয়া জুয়েল, রাজীব আহসান, আকরামুল হাসান, আশরাফউদ্দিন আহমেদ উজ্জ্বল, হেলাল খান, শায়রুল কবির খান, শাহরিয়ার ইসলাম শায়লাসহ কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে, বিমানবন্দর থেকে বনানীর কাকলী মোড় পর্যন্ত বিভিন্ন স্থানে মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুল, জহিরউদ্দিন স্বপন, দিলদার হোসেন সেলিমসহ দলের নেতাকর্মীরা নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকার ঢাকায় বসবাসকারী নেতাকর্মীদের নিয়ে ‘মাদার অব ডেমোক্রেসি’ ব্যানার হাতে খালেদা জিয়াকে শুভেচ্ছা জানান।
খালেদা জিয়ার আগমন উপলক্ষে বিমানবন্দর মোড় থেকে বনানীর কাকলী মোড় পর্যন্ত সড়কের এক পাশে বিএনপির হাজার হাজার নেতাকর্মীর সমবেত হয়। বিমানবন্দরের ভেতরে ও বাইরে ব্যাপক পুলিশও মোতায়েন করা হয়। জলকামানের দুটি গাড়ি, প্রিজনভ্যানসহ পুলিশের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। বিমানবন্দরের ভেতরে পুলিশ ছাড়াও সোয়াত, ব্যাটালিয়ান পুলিশ সদস্যের দেখা গেছে। নেতাকর্মীদের সারিবদ্ধভাবে ফুটপাত দিয়ে চলাচল করতে বারবার পুলিশ মাইকে ঘোষণা দেয়। রাস্তায় নামলে কঠোর ব্যাবস্থা নেয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেয় পুলিশ।
খালেদা জিয়াকে শুভেচ্ছা জানতে সড়কে হাজার হাজার বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা জড়ো হওয়ায় ওই সড়কে যান চলাচলের গতি একেবারেই কমে যায়। সৃষ্টি হয় ব্যাপক যানজট। একপর্যায়ে যান চলাচল থমকে যায়। ফলে দুর্ভোগে পড়েন পথচলা মানুষেরা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বিমানবন্দর থেকে খিলক্ষেত, নিকুঞ্জ, শেওড়াবাজার, বনানীর কাকলী মোড় পর্যন্ত নেতাকর্মীরা রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছে। বিমানবন্দরের এই সড়কের যান চলাচলের ধীর গতির প্রভাবে উত্তরা-আব্দুল্লাহপুর ও টঙ্গী পর্যন্ত দূরপাল্লার গাড়িগুলোর গতি কমে যায়। তবে রাস্তায় ব্যাপকভাবে পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। তবে নেতাকর্মীদের চাপে তাদের কিছুই করার ছিল না।
১৫ জুলাই লন্ডন পৌঁছার পর থেকে খালেদা জিয়া বড় ছেলে তারেক রহমানের বাসায় ছিলেন। বড় ছেলের পরিবার অর্থাৎ তারেকের স্ত্রী ডা. জোবাইদা রহমান, মেয়ে জাইমা রহমান, প্রয়াত ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মিলা রহমান সিঁথি, দুই মেয়ে জাহিয়া রহমান ও জাফিয়া রহমানকে নিয়ে ঈদুল আজহা উদযাপন করেন খালেদা জিয়া। গত ৮ সেপ্টেম্বর পূর্ব লন্ডনের মুরফিল্ড হসপিটালে তার ডান চোখের অস্ত্রোচার হয়। হাঁটুর আর্থারাইটিসের চিকিৎসাও করিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় রাত পৌনে ৩টায় লন্ডনের হিথরো বিমানবন্দর থেকে এমিরেটস এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে দেশের পথে রওনা দেন খালেদা জিয়া। দুবাইয়ে আড়াই ঘণ্টা যাত্রা বিরতি দিয়ে বুধবার বিকেল সোয়া ৫টায় ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন তিনি। এর আগে তারেক রহমান তার পূর্ব লন্ডনের বাসা থেকে নিজেই গাড়ি চালিয়ে মাকে হিথরো বিমানবন্দরে পৌঁছে দেন। তারেকের স্ত্রী জোবাইদা রহমানসহ পরিবারের সদস্যরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
এ ছাড়া যুক্তরাজ্য বিএনপির কয়েকশ’ নেতাকর্মী হিথরো বিমানবন্দরের বাইরে জড়ো হয়ে খালেদা জিয়াকে বিদায় জানান।

error: কপি হবে না!