ads

বৃহস্পতিবার , ৩১ আগস্ট ২০১৭ | ৩রা শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

শেরপুরে জমজমাট ঈদ বাজার ॥ সরগরম কোরবানীর পশুর হাট

শ্যামলবাংলা ডেস্ক
আগস্ট ৩১, ২০১৭ ৩:০৫ অপরাহ্ণ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ শেরপুরে শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে ঈদুল আযহা উপলক্ষে বিপনী বিতানগুলোতে কেনাকাটা। বিপনী বিতানগুলোতে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড়। জেলা শহরের সকল মার্কেট, বিপনী বিতানসহ ফুটপাতের দোকানগুলোতে অন্য সময়ের তুলনায় ঈদ উপলক্ষে দোকানগুলোতে বিক্রি বেড়েছে। তবে বন্যায় জেলার বেশ কয়েকটি ইউনিয়ন প্লাবিত হওয়ায় কৃষকের ফসলহানিসহ ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতি হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত অনেক কৃষিজীবী পরিবারের ঈদ আনন্দ ফিকে হয়ে গেছে। অন্যদিকে জেলার কোরবানীর পশুর হাটগুলো বেশ জমে উঠলেও সৃষ্ট বন্যার কারণে গরুর দাম স্বাভাবিকের তুলনায় কিছুটা কম। তাই গরু পালনকারী কৃষকদের মাঝে কিছুটা হতাশা দেখা দিয়েছে। ঈদ যতই ঘনিয়ে আসছে, কোরবানীর পশু কেনা-কাটায় নিম্ন মধ্যবিত্ত থেকে শুরু করে উচ্চবিত্তের মানুষ পশু কেনাকাটায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। তবে জেলার বেশ কয়েকটি পশুর হাট সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, স্থানীয় চাহিদার চেয়ে পশুর আমদানি অনেক বেশি। বেশিরভাগ বিক্রিত পশুই রাজধানী ঢাকাসহ দেশের কয়েকটি অঞ্চলে সরবরাহ করছে স্থানীয় পাইকাররা। কোরবানীর পশুর হাটকে কেন্দ্র করে ট্যাক্সের নামে যা ইচ্ছে তাই টাকা নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কোরবানীর পশুর হাট সংশ্লিষ্ট ইজারাদারদের বিরুদ্ধে। অন্যদিকে মুসলিম উম্মাহর বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আযহাকে ঘিরে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বাড়ানো হয়েছে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতা।
মঙ্গলবার সরেজমিনে শেরপুর শহরের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকা শহীদ বুলবুল সড়কে অবস্থিত তৈরি পোষাকের দোকান এবং নয়ানীবাজারসহ নিউমার্কেট, পৌর অডিটোরিয়াম মার্কেটসহ সকল বিপনী বিতানগুলো ঘুরে দেখা যায়, বিপনী বিতানগুলোতে ক্রেতাদের উপস্থিতি একেবারেই কম নয়। শিশু, মহিলা, তরুণ-তরুণী ক্রেতা ঈদ উপলক্ষে আসা নিত্য নতুন ফ্যাশনের জামা-জুতা, শাড়ি-কাপড়, কসমেটিকস ক্রয় করছে। সামর্থ্যরে মধ্যে প্রয়োজনীয় জামা-জুতা, শাড়ি-কাপড় ও বিভিন্ন ব্র্যান্ডের পছন্দসই প্রসাধনী কিনে অনেককেই খুশি মনে বাড়ি ফিরতে দেখা যায়। তবে এবারের ঈদে পোষাকে তেমন কোনো বৈচিত্র্য লক্ষ্য করা যায়নি। ক্রেতা সাধারণের চাহিদা অনুযায়ী কাপড়ের দোকানগুলোতে বিক্রি হচ্ছে অপেরা, সিল্ক, জর্জেট, টিস্যু শাড়ি, কাতান, জুট ও ঢাকাইয়া জামদানী, টাঙ্গাইলের তাতের ও সুতির নকশী শাড়ি। তবে তাদের চাহিদা কিরণমালা, জলপরী, নন্দিনী, ঈশিতাসহ ভারতীয় হিন্দি-বাংলা সিরিয়ালের বাহারী সব নামের থ্রি-পিস ও অন্যান্য কাপড়ের আমদানীর কমতি নেই দোকানগুলোতে। ছেলেদের জিন্স প্যান্ট, টি-শার্ট, শার্ট ও পাজামা-পাঞ্জাবী, শর্ট-পাঞ্জাবী, ফতুয়াসহ সব ধরনের পরিধেয় কাপড়ের আমদানীর কমতি না থাকলেও ক্রেতা তেমন আশানুরূপ নেই। বিভিন্ন মার্কেটের কয়েকজন বিক্রেতা জানান, ঈদুল আযহায় শাড়ি-কাপড়, জুতা, প্যান্ট-শার্ট, প্রসাধনী ঈদুল ফিতরের মতো বেচা-কেনা হয়না। সবার দৃষ্টি কোরবানির দিকে। তবে শেষ মুহূর্তে বিপনী বিতানগুলোতে বেচা-কেনা জমে উঠছে। এদিকে শহরের মোড়ে মোড়ে রকমারী ডিজাইনের টুপির দোকানীদেরও একই অবস্থা।
সব ধরনের বিপণী বিতানগুলোতে ক্রেতাদের আনাগোনা তুলনামূলক কম থাকলেও জমে উঠেছে জেলার সকল পশুর হাট। জেলায় বড় কোন পশুর খামার না থাকলেও অঞ্চলটি কৃষিপ্রধান হওয়ায় প্রায় প্রতিটি কৃষকই গরু পালন করে থাকে। ওইসব গরু প্রতিপালনে কোনপ্রকার ক্ষতিকারক ঔষধ ব্যবহার না করায় এ অঞ্চলের গরুর চাহিদা সারা দেশজুড়েই। জেলার হাট-বাজারগুলোতে সর্বত্রই দেশী জাতের গরুতেই সয়লাব। গরু ব্যবসায়ীরা জেলার বিভিন্ন হাটবাজার থেকে গরু ক্রয় করে রাজধানী ঢাকায় বিক্রি করছে। বেশ মুনাফাও পাচ্ছেন তারা। দেশি জাতের গরুর দাম ভারত থেকে আমদানীকৃত গরুর দামের চেয়ে বেশি হলেও ক্রেতাদের ঝোঁক দেশি জাতের গরুর উপরই। তাই জেলায় কোন হাট-বাজারেই আমদানীকৃত গরু একেবারেই দেখা যায়নি। বৃহস্পতিবার সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, পৌর শহরের নওহাটা পশুর হাটে তিল ধারণের ঠাই নেই। দূর-দূরান্ত থেকে গরু ব্যবসায়ী ও কৃষকরা শত শত গরু নিয়ে আসছেন। চাহিদার চেয়ে বেশি গরু বাজারে আসায় বিপাকে পড়েছেন ব্যবসায়ীসহ অনেক কৃষকই। এ হাটে ক্রেতা সাধারণের সামর্থ্য অনুযায়ী ৩৫ হাজার থেকে ২ লাখ টাকা পর্যন্ত কোরবানীর গরু বেচাকেনা হচ্ছে। জেলার উল্লেখযোগ্য হাট-বাজারগুলোর মধ্যে কুসুমহাটি, নন্দীরবাজার, কামারেরচর বাজার, ঝিনাইগাতী সদর, তিনানীবাজার, শ্রীবরদী সদর, ঝগড়ারচর, কর্ণঝোড়া, নকলা সদর, চন্দ্রকোনা বাজার, নালিতাবাড়ী সদর, নন্নী বাজার। এসব হাট-বাজারগুলো ঘুরে দেখা যায় একই চিত্র। তাই ঈদের সময় একদিকে হাট বাজারে আইন-শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ, জাল টাকা রোধ, অন্যদিকে মাদক ও চামড়া চোরাচালানকে প্রাধান্য দিয়ে প্রশাসন ইতোমধ্যে বিভিন্ন তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। অপরদিকে কোরবানীর ঈদকে সামনে রেখে শহরের নয়ানী বাজার মনোহারী দোকানগুলোতে জমে উঠেছে গরম মশলার বাজার। এদিকে ভাদ্রের তালপাকা রৌদ্র, ভ্যাপসা গরম আর মশলার অতিগরমে নাখোশ ক্রেতাসাধারণ। জিরা, সাদা এলাচ, কালো এলাচ, তেজপাতা, দারুচিনি, লবঙ্গ, কালো গোলমরিচ, শাহি জিরা, পাঁচফোড়ন, জয়ত্রি, জায়ফল, কাঠবাদাম, কাজু বাদাম, আলু বোখারা, কিশমিশ, পোস্তদানা, পেস্তাবাদাম, জাফরান, মোরব্বা, কাবাব চিনি, গোটা ধনিয়া, ধনিয়ার গুঁড়া, হলুদের গুঁড়া, মরিচের গুঁড়া, শুকনা মরিচ, গোলমরিচ, নান, পাঁচফোড়নসহ সকল প্রকার মশলার মজুদ যথেষ্ট থাকলেও দাম বেড়েছে সব কিছুতেই। এ ব্যাপারে এক ব্যবসায়ীকে মশলার বাড়তি দাম সম্পর্কে ‘কেজিতে না গ্রামে’ বৃদ্ধি পেয়েছে জানতে চাইলে তিনি হাস্যোজ্জল মুখে বলেন, দাদা, মশলাতো কেজিতে বিক্রি হয়না। যতটুকু বিক্রি হয়, তাতেই ৫/১০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে পেয়াজ-রসুনের দাম আগের তুলনায় অনেক বেশি। আগের তুলনায় ঈদকে সামনে রেখে প্রতি কেজিতে ২০-৫০ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে ওইসব নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম। দাম বৃদ্ধির প্রশ্নের জবাবে এক ব্যবসায়ী জানান, আমদানী যথেষ্ট থাকলেও কেনা দাম আমাদের অনেক বেশি। তাই বেশি দামেই বিক্রি করতে হচ্ছে। তবে যতটুকু কমেছে সবটুকু শুধুই টিভির পর্দায়।
তবে ঈদুল আযহা যত ঘনিয়ে আসছে ততই বাড়ছে ফ্রিজ বিক্রির চাপ। কোরবানীর মাংস সংরক্ষণের জন্য পড়ে যায় ফ্রিজ কেনার ধুম। চলতি মাসের প্রথম সপ্তাহ থেকেই বেড়ে গেছে ফ্রিজ ও ফ্রিজার বিক্রি। গৃহিণীদের আনা-গোনায় ফ্রিজের শো-রুমগুলো। বেচাকেনা চলছে দেদার। শহরের মুন্সীবাজারস্থ ওয়ালটন, রঘুনাথবাজারস্থ এলজি-বাটারফ্লাই, সিঙ্গার, খরমপুরস্থ স্যামসাং শো-রুমগুলোতে গিয়ে দেখা যায় এমন চিত্র।
এদিকে কোরবানীর ঈদকে সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছে শেরপুরের কামারীরা এবং শহরের দা-ছুরি-চাকু বিক্রেতারা। কেউ বা কোরবানীর জন্য ছুরি, চাকু, কোবা, বটি তৈরিতে ব্যস্ত রয়েছে, কেউ বা আবার এসব সরঞ্জামাদি বিক্রিতে ব্যস্ত রয়েছে। অনেকেই আবার কামারবাড়িতে ছুটছে পুরাতন চাকু-ছরি-কোবা শান দিকে। শেরপুর সদর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী হাওরা সাপমারি কামার বাড়ির হাফানি’র (বাতাসের সাহায্যে আগুন জ্বালানো যন্ত্র) বিরামহীন উঠা-নামা আর হাতুরীর টুং টাং শব্দে মুখরিত হয়ে উঠেছে। ওই গ্রামে বছর জুড়েই চলে লোহার দা, ছুরি, চাকু, বটি, কোবা, কুড়াল, কোদালসহ গৃহস্থালি ও কৃষি কাজের বিভিন্ন সরঞ্জামাদি তৈরির কাজ। তবে বছরে একবার কোরবানীর ঈদের আগের ৭ দিন চলে তাদের বাড়তি কাজ ও আয়ের সময়। কামারীদের কাছ থেকে গুনগত মান হিসেবে পশু জবাই করার জন্য মোটামুটি বড় আকৃতির ছুরি ৮শ থেকে ১২শ টাকা এবং পশুর মাংস কাটার জন্য মাঝারি সাইজ কোবা ২শ থেকে ৮শ টাকায় কেনা-বেচা হচ্ছে। স্থানীয় কামাররা জানায়, সারা বছর তারা প্রতিদিন প্রায় হাজার টাকার বেচা-বিক্রি করলেও ঈদের ৭ দিন আগে থেকে ঈদের আগের দিন গভীর রাত পর্যন্ত প্রতিদিন প্রায় ২ থেকে ৩ হাজার টাকা বেচা-বিক্রি করে থাকেন। ওইসময় নতুন দা-বটি তৈরীর পাশাপাশি পুরাতন দা-বটির শান বা ধার দেওয়ার কাজ করেও বাড়তি আয় করে তারা। কামার বাড়ির পাশাপাশি শহরের বিভিন্ন দা-চাকুর দোকানেও ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। শহরের নয়ানীবাজারস্থ পৌর সুপার মাকের্টের সামনে ছুরি, দা, কাঁচির দোকানগুলোতে হরদম চলছে বেচা-কেনা। যেন দম ফেলার সময় নেই ব্যবসায়ীদের।

error: কপি হবে না!