ads

বৃহস্পতিবার , ২৪ আগস্ট ২০১৭ | ৩রা শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

ঝিনাইগাতীতে অবৈধ বালু উত্তোলন করায় ঝুুঁকিতে সেতু

শ্যামলবাংলা ডেস্ক
আগস্ট ২৪, ২০১৭ ১:১০ অপরাহ্ণ

ঝিনাইগাতী (শেরপুর) প্রতিনিধি ॥ শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলায় মহারশি নদীর ওপর সন্ধ্যাকুড়া সীমান্ত সড়কে নির্মিত সেতুর কাছে শ্যালো ইঞ্জিনচালিত যন্ত্র বসিয়ে দিনে-রাতে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এর ফলে সেতু ও এর আশপাশের আবাদি জমি ভাঙ্গনের মুখে পড়েছে।
সেতুর পাশের গুমড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. এমদাদ হোসেন (৩০) বলেন, প্রায় ১০ বছর ধরে নদী থেকে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এতে সেতুর বীমের ব্যাজের নিম্নাংশ মাটি শূন্য হয়ে পড়েছে। নদীর পাড় ভেঙ্গে যাচ্ছে এবং আশপাশের আবাদি জমিগুলোতে ভাঙ্গন শুরু হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার মহারশি নদীর উপর নলকুড়া ইউনিয়নের সন্ধ্যাকুড়া সীমান্ত সড়কে ২০০৫-২০০৬ অর্থ বছরে ‘গ্রেটার ময়মনসিংহ প্রজেক্টের’ (জিএমপি) আওতায় ৩ কোটি ৩০ লাখ ৬৮ হাজার টাকা ব্যয়ে ১৬০.১৭৫ মিটার দৈর্ঘ্যরে সেতুটি নির্মাণ করে স্থানীয় (এলজিইডি) বিভাগ।
স্থানীয়রা জানান, একটি সংঘবদ্ধ চক্র সেতুর দক্ষিণ ও উত্তর পাশে আনুমানিক ৩শ জ দূরে শ্যালো ইঞ্জিনচালিত যন্ত্র বসিয়ে নদী থেকে ৭-৮ বছর ধরে বালু উত্তোলন করছে। এ জন্য স্থানীয় প্রশাসনের কোনো অনুমতি নেওয়া হয়নি। এভাবে অবাধে বালু উত্তোলন করা হলেও কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পায় না। কেউ আবার প্রতিবাদ করলেও তাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলাসহ তাদের নানা ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার মহারশি নদীর ওপর সীমান্ত সড়কে নির্মিত এ সেতুর দক্ষিণ পাশে প্রায় ৩শ গজ দূরে ৫ টি ও সেতুর উত্তর পাশে প্রায় ৬৫০ গজ দূরে এগারটি খনন যন্ত্র বসানো হয়েছে। সেতুর দক্ষিণ পাশে বালু ব্যবসায়ী হেলাল শ্যালো ইঞ্জিনচালিত খনন যন্ত্র দিয়ে বালু উত্তোলন করছে। আর ৬ জন শ্রমিক বালু স্তুপ থেকে ট্রাকে বালু ভরছেন। বালু উত্তোলন করার কোনো অনুমতি আছে কি না, জানতে চাইলে বালু ব্যবসায়ী হেলাল বলেন, বালু উত্তোলনে অনুমতি আছে কিনা তা আমার জানা নেই। এ স্থানে ৫ টি খনন যন্ত্র দিয়ে আমিসহ হাশেম, কালাম আরও ২ জন সামিউল ফকিরের অধীনে বালু উত্তোলন করি। আবার সেতুর উত্তর পাশে প্রায় ৩শ গজ দূরে ব্যবসায়ী জাফর বালু উত্তোলন করছে। সেতুর কাছাকাছি এভাবে বালু উত্তোলন করায় নদীর পাড়সহ সেতুর ক্ষতি হচ্ছে এমন প্রশ্নের উত্তরে জাফর আঙ্গুল তলিয়ে দেখিয়ে বলেন, ওই দেখেন সেতু কই, আর মেশিন কই। সেতু থেকে ১ হাজার গজ দূরে মেশিন বসিয়ে পাইপ দিয়ে বালু এখানে আনা হচ্ছে। অনুমতির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, সবাই যেভাবে তুলছে আমিও ওইভাবেই বালু উত্তোলন করছি। আর এই মেশিন দিয়ে ৫ জন শ্রমিকের জীবিকা চলছে। তা ছাড়া এভাবে বালু তোলার কারণে সেতুটির ক্ষতি হওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই।
বালু উত্তোলন বিষয়ে সামিউল ফকিরের কাছে যোগাযোগের চেষ্টা করলে জানা যায় তিনি হজ¦ পালনে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন।
উপজেলা প্রকৌশলী মো. ফজলুল হক বলেন, এভাবে মহারশি নদী থেকে বালু উত্তোলন করলে ভাঙনের কবলে পড়ে ওই সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক ড. মল্লিক আনোয়ার বলেন, অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধে প্রশাসনের অভিযান আব্যাহত রয়েছে। ১৪ আগস্ট সন্ধ্যাকুড়া সেতুর পার্শ্ববর্তী এলাকায় ভ্রাম্যমান আদালতের মাধ্যমে ৪টি খনন যন্ত্র ধ্বংস করা হয়েছে। সবার সহযোগীতায় বালু উত্তোলন বন্ধে তিনি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন বলে জানান।

error: কপি হবে না!