ads

মঙ্গলবার , ২৫ জুলাই ২০১৭ | ৩রা শ্রাবণ, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

আজ শেরপুরের সোহাগপুর গণহত্যা দিবস

শ্যামলবাংলা ডেস্ক
জুলাই ২৫, ২০১৭ ১২:১০ অপরাহ্ণ

নালিতাবাড়ী (শেরপুর) প্রতিনিধি ॥ আজ ভয়াল ২৫ জুলাই; সোহাগপুর গণহত্যা দিবস। ১৯৭১ সালের এ দিনে শেরপুরের নালিতাবাড়ীর সোহাগপুর গ্রামে পাকিস্তানী হায়েনার দল নারকীয় হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে ১৭৮ জন নিরীহ পুরুষ মানুষকে নির্মমভাবে গুলি করে ও বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করে। সকল পুরুষ মানুষকে হত্যা করায় ওই গ্রামের নাম হয় ‘বিধবাপাড়া’। সেদিন স্বজন হারানো গগনবিদারী চিৎকারে সোহাগপুর গ্রামের আকাশ বাতাস ভারী হয়ে উঠেছিল।
জানা যায়, নালিতাবাড়ী উপজেলার কাকরকান্দি ইউনিয়নে সোহাগপুর গ্রামে মুক্তিযোদ্ধারা আশ্রয় নিয়েছেÑ এমন সংবাদের ভিত্তিতে রাজাকার আলবদরদের সহায়তায় ১৫০ জনের পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী সোহাগপুর গ্রামের প্রফুল্লের দিঘি থেকে সাধুর আশ্রম পর্যন্ত এলাকা ঘিরে ফেলে। হায়েনার দল অর্ধদিন ব্যাপী তান্ডব চালিয়ে খুঁজতে থাকে মুক্তিযোদ্ধাদের ও তাদের আশ্রয়দাতাদের। ওই সময় প্রাণের মায়া ত্যাগ করে সামনের দিকে এগিয়ে যান স্থানীয় কৃষক আলী হোসেন ও জমির আলী। কিন্তু তারা বেশীদূর এগুতে পারেননি। এক রাজাকার গুলি করে দু’জনকেই হত্যা করে। এরপর শুরু হয় নারকীয় তান্ডব। মাঠে কর্মরত রমেন রিছিল, চটপাথাং ও সিরিল গাব্রিয়েল নামে ৩ গারো আদিবাসীকে হত্যা করে। তারপর একে একে হত্যা করে আনসার আলী, লতিফ মিয়া, ছফর উদ্দিন, শহর আলী, হযরত আলী, রিয়াজ আহমেদ, রহম আলী, সাহেব আলী, বাবর আলী, উমেদ আলী, আছমত আলী, মহেজ উদ্দিন, সিরাজ আলী, পিতা-পুত্র আবুল হোসেনসহ প্রায় ১৭৮ জন নিরীহ পুরুষ মানুষকে। একইসাথে ওইসময় হায়েনাদের পাশবিক নির্যাতনের শিকার হন ১৩ জন নারী।
এভাবে সোহাগপুর গ্রামের সকল পুরুষ মানুষকে হত্যা করা হয়। পরবর্তী থেকে ওই গ্রামের নাম হয় ‘বিধবা পাড়া’। এখানে কলাপাতা, ছেড়া শাড়ী আর মশারী দিয়ে কাফন পড়িয়ে ৪/৫ টি করে লাশ এক একটি কবরে দাফন করা হয়েছিল। আবার কোন কোন কবরে ৭/৮টি করে লাশও এক সাথে কবর দেওয়া হয়েছিল। ওই নারকীয় হত্যাকান্ডের জীবন্ত স্বাক্ষী রয়েছেন অনেকেই।
স্বাধীনতার দীর্ঘ পথ পরিক্রমায় বর্তমান মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সরকার বৃহত্তম ময়মনসিংহের কুখ্যাত আলবদর কমান্ডার মুহাম্মদ কামারুজ্জামানের ফাঁসি কার্যকর করায় সোহাগপুরের বিধবারা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তারা সরকারকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। তাদের করুণ হাল দেখে সরকার ওই বিধবাপল্লীর বেচেঁ থাকা মোট ৩১ জন বিধবার মাঝে ১৩ জন বীরাঙ্গনা বিধবাকে মুক্তিযোদ্ধার মর্যাদা দিতে কার্যক্রম শুরু করে। এদের মধ্যে ৪ জনকে ৩০ জুন মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি ও নগদ ৬ মাসের ভাতা বাবদ ৬০ হাজার টাকা করে অনুদান দেওয়া হয়েছে। স্বীকৃতিপ্রাপ্তরা হলেন জোবেদা বেগম (৮৬), জোবেদা খাতুন (৭৪), আছিরন নেছা (৭৯) ও হাসেন বানু (৬২)। অন্য বীরাঙ্গনারও দ্রুত মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি দাবি করছেন।
এ ব্যাপারে শেরপুর জেলা মুক্তিযোদ্ধার ইউনিট কমান্ডার নুরুল ইসলাম হিরু বলেন, জেলায় প্রথম দফায় সোহাগপুর বিধবাপল্লী ও কাটাখালী ট্র্যাজেডির ৭ জন বীরাঙ্গনা নারী মুক্তিযোদ্ধার হিসেবে গেজেটভূক্ত হয়েছেন। আরও কয়েকজনের নাম অপেক্ষমান রয়েছে।

error: কপি হবে না!