ads

শনিবার , ২৪ জুন ২০১৭ | ৩১শে আষাঢ়, ১৪৩১ বঙ্গাব্দ
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

শেরপুরে জমজমাট ঈদ বাজার ॥ শেষ মুহূর্তে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভীড়

শ্যামলবাংলা ডেস্ক
জুন ২৪, ২০১৭ ২:১৮ অপরাহ্ণ

জুবাইদুল ইসলাম ॥ শেরপুরে ঈদ বাজারে শেষ মুহূর্তের কেনাকাটায় ব্যস্ত হয়ে পড়েছে নিম্নবিত্ত থেকে শুরু করে উচ্চবিত্ত পর্যন্ত সকল শ্রেণির মানুষ। ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে ঈদের কেনাবেচাও তত জমে ওঠছে। জেলা শহরের সকল মার্কেট, বিপণী বিতানসহ ফুটপাতের দোকানগুলোয় এখন সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত ঈদের কেনাকাটা করতে উপচে পড়া ভীড় দেখা যাচ্ছে। ক্রেতাসাধারণকে আকৃষ্ট করতে বড় বড় বিপনীবিতানগুলোতে করা হয়েছে আলোকসজ্জা। তবে মৌসুমী জলবায়ুর কারণে মাঝে-মধ্যেই গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি থাকলেও তা উপেক্ষা করেই চলছে শেষ মুহূর্তের কেনা-কাটা। পোশাকের পাশাপাশি ভিড় বেড়েছে ইলেকট্রিক যন্ত্রপাতি বিক্রির শো-রুমগুলোতেও। অন্যদিকে ঈদবাজারে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে বাড়ানো হয়েছে পুলিশ ও র‌্যাবের তৎপরতা।
সরেজমিনে শেরপুর শহরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকা শহীদ বুলবুল সড়কে অবস্থিত তৈরি পোশাকের দোকান এবং নয়আনী বাজার এলাকায় অবস্থিত কাপড় ও জুতার দোকানগুলো ঘুরে দেখা গেছে, বিপুলসংখ্যক ক্রেতা ঈদের কেনাকাটা করছেন। বিপুলসংখ্যক উৎসাহী শিশু, মহিলা, তরুণ-তরুণী ঈদ উপলক্ষে আসা নিত্য-নতুন ফ্যাশনের জামা ও শাড়ি কাপড় ক্রয় করছেন। বিশেষ করে বিপণীবিতানগুলো নারী ক্রেতাদের দখলে থাকছে। শহরের মানুষ এখন মার্কেটমুখী। সামর্থের মধ্যে পছন্দের জামা, কাপড়, শাড়ি, জুতা ও প্রসাধনী কিনে খুশিমনে বাড়ি ফিরছেন সবাই। এবারের ঈদ বাজারে মহিলা ক্রেতারা কিনছেন অপেরা সিল্ক, জর্জেট, টিস্যু শাড়ি, কাতান, জুট ও ঢাকাইয়া জামদানী, টাঙ্গাইলের তাঁতের ও সুতির নকশি শাড়ি। তরুণী ক্রেতারা কিনছেন বাহুবলি, জলপরি, নন্দিনী, ঈশিতাসহ ভারতীয় হিন্দি-বাংলা সিরিয়ালের বাহারী সব নামের থ্রি-পিস। শিশু ক্রেতাদের আগ্রহ দেখা গেছে ফতোয়ার প্রতি। পুরুষ ক্রেতারা কিনছেন জিন্সের প্যান্ট, শার্ট, টি-শার্ট ও পাজামা-পাঞ্জাবী। নয়আনী বাজারের একটি অভিজাত বস্ত্র বিপণীতে কেনাকাটা করতে আসা জেলা কারাগার মোড় এলাকার গৃহবধূ নার্গিস আক্তার মনখোশ বলেন, এবারের ঈদ বাজারে প্রায় সব দোকানেই পছন্দসই পোশাক পাওয়া যাচ্ছে। দামও তুলনামূলক সহনশীল। শহরের অভিজাত বস্ত্র বিপণী পরিমল বস্ত্রালয়ের মালিক পিন্টু কুমার সাহা বলেন, এবারের ঈদের বেচাকেনা খুব ভালো। বর্তমানে দুই হাজার টাকা থেকে ১০ হাজার টাকা মূল্যে নিমজড়ি ও সুতা-চুমকির টিস্যু শাড়ি, ৩ হাজার টাকা থেকে ২০ হাজার টাকা মূল্যে সিল্ক ও জর্জেট শাড়ি, ৩ হাজার টাকা থেকে ১০ হাজার টাকা মূল্যে থ্রি-পিস এবং ২৫ হাজার টাকা থেকে ৩০ হাজার টাকা মূল্যে লেহেঙ্গা বিক্রি হচ্ছে। তাঁর দোকানে নারী ক্রেতাদের ভীড় বেশি বলে তিনি জানান। এদিকে নয়আনী বাজারে প্রতিষ্ঠিত ‘মহারাজ শপিং কমপ্লেক্সে’র ৪টি ফ্যাশন হাউজে এবার ঈদের পোশাক কেনার ক্ষেত্রে বৈচিত্র্য এসেছে।
এদিকে এবার ঈদুল ফিতরে বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ইলেকট্রনিক্স দোকানগুলো বিভিন্ন ছাড় দিয়েছে। ফলে প্রচুর ফ্রিজ, টেলিভিশন, ওভেন ইত্যাদি বিক্রি হচ্ছে। কেউ কেউ আবার তাদের সন্তানের জন্য কম্পিউটার বা ল্যাপটপ কিনে দিচ্ছেন। বিভিন্ন কসমেটিকস দোকানে কসমেটিকস আইটেম যেমন চুড়ি, লিপস্টিক, নেইল পলিশ, স্নো, পাউডার, মেহেদী ইত্যাদির চাহিদা খুব বেশি। জুতার দোকানগুলোর বিক্রি তুঙ্গে। তবে শেষ মুহূর্তের কেনাকাটা হিসেবে মুদি সদাই, মসল্লা, কাঁচা বাজার, মুরগি, খাসির মাংস, গরুর মাংস, সেমাই, লাচ্ছা ইত্যাদি কেনাকাটা এখনও তেমন শুরু হয়নি। বিক্রেতারা জানালেন, এগুলো ঈদের ২/৩ দিন আগে থেকে বিক্রি শুরু হবে। শহরের মোড়ে মোড়ে বাহারি টুপির দোকানগুলো চোখে পড়ার মতো। এছাড়া ফেরি করে বিক্রি হচ্ছে শিশুদের চশমা ও অন্যান্য দ্রব্যাদি।
শেরপুরের পুলিশ সুপার রফিকুল হাসান গণি জানান, এবারের ঈদের বাজারের নিরাপত্তা ব্যবস্থা উল্লেখ করার মত। ঈদবাজারে এখনও কোন ধরনের ছিনতাই, ইভটিজিং লক্ষ্য করা যায়নি। সাধারণ মানুষ গভীর রাত পর্যন্ত নির্বিঘেœ কেনাকাটা করছেন। এছাড়া রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ঘরমুখো মানুষের যাতায়াত নির্বিঘœ করতে জেলার সড়কগুলোতেও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

error: কপি হবে না!