মইনুল হোসেন প্লাবন, শেরপুর : ৩ দিনের থেমে থেমে বৃষ্টির কারণে শেরপুরে ঈদগাহ মাঠগুলোতে এবার ঈদুল ফিতরের নামাজ আদায় অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। সহসাই বৃষ্টি না থামাসহ মাঠ না শুকালে সেই অনিশ্চয়তাও দূর করা সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে বাড়তি ঝামেলার আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন ঈদগাহ মাঠ ব্যবস্থাপনা কমিটির কর্মকর্তাসহ সচেতন মুসল্লীরা।
জানা যায়, আবহাওয়ার ভূমিরূপ পরিবর্তন ও নিম্নচাপের কারণে শেরপুর জেলার সর্বত্র রবিবার রাত থেকে মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। বিশেষ করে মঙ্গলবার দুপুরের পর থেকে বৃষ্টি হচ্ছে মুষলধারে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ওই বর্ষণ সহসাই থেমে যাওয়ার সম্ভাবনা ক্ষীণ। বরং বৃহস্পতিবারও পর্যন্তও টানা বর্ষণ হতে পারে। ফলে ৩ দিনের বর্ষণে জেলা শহর থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত পড়ে ওঠা ঈদগাহ মাঠগুলো বিশেষতঃ কাঁচামাঠগুলো জলমগ্ন ও স্যাতস্যাতে হয়ে পড়েছে। কাজেই ঈদ বুধবার না হয়ে বৃহস্পতিবার হলেও এবার বৃষ্টির কারণে ঈদের জামাত আদায় করতে দুর্ভোগ পোহাতে হবে মুসল্লীদের। এক্ষেত্রে বৃষ্টি না থামলে এবং কাঁচা মাঠগুলো না শুকালে কোনোমতেই সেগুলোতেই নামাজ আদায় করাও সম্ভব নয়। আর এজন্য বিকল্প হিসেবে নামাজ আদায়ের জন্য বেছে নিতে হবে স্থানীয় মসজিদগুলো। সেক্ষেত্রেও মসজিদগুলোতে একাধিকবার জামাতের আয়োজন করতে হবে। মঙ্গলবার বিকেলে জেলা শহরের শহীদ দারোগ আলী পৌর পার্ক সংলগ্ন ঈদগাহ মাঠে গিয়ে দেখা যায়, বৃষ্টির মধ্যেই মাঠ সজ্জার কাজের তদারকি করছেন টানা ৪ দফায় নির্বাচিত স্থানীয় পৌর কাউন্সিলর (সাবেক প্যানেল মেয়র) নজরুল ইসলাম। সাথে রয়েছেন পৌরসভার কর্মকর্তা ফারুক আহমেদ। চলছে দমকল বাহিনীর সহায়তায় পানি ছিটিয়ে মাঠ পরিস্কারের কাজ। সামিয়ানা টানানোর প্রস্তুতিসহ প্রায় ৮০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। ডেকোরেটরের মালিক-কর্মচারীরা আশা করছেন বৃষ্টি থেকে গেলেই তারা কাজটি সেরে নিতে পারবেন। কিন্তু উপরে ত্রিপাল ব্যতীত সাধারণ যে সামিয়ানা দেওয়া হয়েছে, তা দ্বারা পানি নির্গম রোধ করা সম্ভব নয়। তবে মাঠ সজ্জার কাজ এগুলেও ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসন ও পৌর পরিষদের কর্তৃপক্ষও ভাবছেন বিকল্প ব্যবস্থাপনার। এ ব্যাপারে পৌরসভার সচিব আবু লায়েছ মোঃ বজলুল করিম জানান, বর্ষণ অব্যাহত থাকায় হয়তো এবার পৌর ঈদগাহ মাঠে জেলায় ঈদুল ফিতরের প্রধান জামাত আদায় করা সম্ভব হবে না। এক্ষেত্রে আবহাওয়ার কারণে বিকল্প হিসেবে জেলা কালেক্টরেট ভবনে প্রধান জামাত অনুষ্ঠানের কথা ভাবা হচ্ছে। বিষয়টি চূড়ান্ত হলে ঈদের আগের রাতে অবশ্যই তা মাইকিং প্রচারণায় জানিয়ে দেওয়া হবে।




