মো.মোশারফ হোসেন, নকলা (শেরপুর) : ঈদ মানে আনন্দ! মুসলমানদের সবচেয়ে বড় আনন্দ হচ্ছে ঈদ। এই ঈদের আনন্দের বৃদ্ধির জন্য চাই নতুন কাপড়, জুতা এবং প্রসাধনী সামগ্রী। সব শ্রেণীর মানুষের নতুন কিছু একটা না হলে যেন ঈদই হয় না এবং প্রথম দিকে কেনাকাটা করলে সবকিছুই সাশ্রয়ী মূল্যে পাওয়া যায় এমন বিশ্বাসে অনেকেই রোজার প্রথম থেকেই কেনাকাটা শুরু করেন। রোজার প্রথম সপ্তাহে দোকান ও বিপণীগুলোতে ভিড় ছিল লক্ষ্য করার মতো।
দুই সপ্তাহ যাবৎ শহরের সর্বত্র ঈদের কেনাকাটা জমে উঠেছে। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত দোকানগুলোতে ক্রেতা সাধারণের ভিড় লেগে থাকছে। বড় দোকান থেকে শুরু করে ফুটপাত কোথাও কমতি নেই ক্রেতাদের উপস্থিতি। এক দোকান থেকে আরেক দোকানে নতুন কিছু কেনার জন্য ছুটছেন ক্রেতারা। নকলা শহরের সর্ববৃহৎ কাপড়ের দোকান আকন্দ ক্লথ ষ্টোরসহ জননী বস্ত্রালয়, সাহা বস্ত্রালয়, নিউ সাহা বস্ত্রালয়, মনির, লোকনাথ বস্ত্রালয়, শিল্পি বস্ত্রালয়, শাপলা বস্ত্রালয়, লিমু বস্ত্রালয়, রিদি বস্ত্রালয়, কাওছার বস্ত্রালয়, সরকার বস্ত্রালয়, নাজমুল ক্লথষ্টোর, থ্রিপিচ ওয়ার্ল্ডেও বসার স্থান পাচ্ছেনা ক্রেতারা। ক্রেতাদের সাথে কথা বলে জানা যায়, ঈদের বাজারে কাপড়ের দাম অনেক বেশি মনে হচ্ছে। নির্ধারিত বাজেটে কেনাকাটা করা সম্ভব হচ্ছে না। বিশেষ করে নিম্ন আয়ের ক্রেতারা রিতিমত হিমসিম খেলেও সাধ্যমত নতুন কাপড় কিনে বাড়ী ফিরছেন। ব্যবসায়ীরা বলছেন- রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও গত বোরো ধানের বাম্পার ফলন এবং বর্তমানে ধানের দাম ভালো হওয়ায় বেচাকেনা ভালো হচ্ছে। বিক্রেতারা বলছেন দেশী-বিদেশী শাড়ির সঙ্গে সালোয়ার-কামিজ,লুঙ্গি এবং থ্রী পিচ বেশি বিক্রি হচ্ছে। ঈদের আগমুহুর্তে বিক্রি আরও বাড়তে পারে। কাপড় ব্যবসায়ীরা জানালেন- এবার শাড়ির মধ্যে সুতি জামদানি, টিস্যু জামদানি,পাকিজা ও পারফেক্ট শাড়ী বেশি চলছে, যার দাম ১১শ থেকে ৬হাজার ৫শত টাকার মধ্যে। সালোয়ার-কামিজ ও থ্রী পিচের মধ্যে বিদেশী টিভি সিরিয়াল আর তার চরিত্রগুলোর নামে দেয়া নানা রকম পোশাকের পাশাপাশি দেশি পোশাকের যথেষ্ঠ চাহিদা রয়েছে। দেশীয় জামদানি, মনিপুরী, ষ্ট্যান্ডার্ট থ্রী পিচ ও তৈরী থ্রী পিচ বেশ চলছে। এ ধরনের থ্রী পিচের দাম ৯শ থেকে ৫হাজার ৫শ’ টাকার মধ্যে। এটিএম, আমানত শাহ, শাহ আমানত, ওন্ডারফুল সহ বিভিন্ন নামের লুঙ্গিও বেশ বিক্রি হচ্ছে যার দাম ৩শ ৫০ থেকে ১৩শ টাকার মধ্যে এবং গজ/কাটা কাপড়ের মধ্যে জয়পুরী, পাকিজা ও বেক্সি ভয়েল আশাতীত বিক্রি হচ্ছে। যার দাম গজ প্রতি ৭০ থেকে ১২০ টাকা।
এবার রেডিমেড পোশাকের দিকে সব বয়সের ক্রেতার ঝুঁক বেড়েছে। আল-আমিন গার্মেন্টস, পপি ফ্যাশন, উসমান গার্মেন্টস, লাছা গার্মেন্টস, আসিফ গার্মেন্টস, আনন্দ গার্মেন্টস, তালুকদার গার্মেন্টস ও নাহিদ গার্মেন্টস এমনটাই প্রমাণ পাওয়া যায়।
কসমেটিকস্ বিক্রেতারাও ধম ফেলার ফুসরত পাচ্ছে না। ফুরকান কসমেটিকস্, বৈশাখী কসমেটিকস্, ঐশী কসমেটিকস্, সোলাইমান কসমেটিকস্, মানিক কসমেটিকস্, শিল্পী কসমেটিকস্, অনন্যা কসমেটিকস্, স্বচ্ছ কসমেটিকস্, ১০০ টু ১৫০ নামক কসমেটিকস্ দোকানগুলোতেও সব শ্রেণীর মেয়ে/নারীর উপচে পড়া ভিড় লক্ষনীয়। জুতার দোকান গুলোতেও এর ব্যতিক্রম দেখা যাচ্ছে না।
গ্রাম থেকে শুরু করে শহরের শতাধিক টেইলার্স গুলোতে প্রচুর অর্ডার নিয়ে ক্রেতারা ভির করছেন। শহরের স্টার টেইলার্স, আধুনিক টেইলার্স, মকবুল টেইলার্স, পলাশ টেইলার্স, এক্সিলেন্ট টেইলার্স, ডলফিন টেইলার্স, দি সানমুন টেইলার্স, আল মদিনা টেইলার্স ইতোমধ্যে অর্ডার নেওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন। ছেলেদের টি শার্টের তালিকায় এবার যুক্ত হয়েছে দেশী-বিদেশী তারকাদের নামে নামকরণের টি-শার্ট। পাশাপাশি বাংলার ঐতিহ্য ঈদের পোষাক পাজামা-পাঞ্জাবির চাহিদাও আকাশচুম্বি।
অনান্য উৎসবের চেয়ে ঈদের গুরুত্ব মুসলমানদের জন্য অনেক বেশি। সমাজের সব মুসলমান এক সাথে ঈদ উদ্যাপন করলে এটি কেবল সামাজিক অনুষ্ঠান নয় বরং ইসলাম ধর্মে এবাদতও বটে। আল্লাহ-রসুলের বিধান অনুযায়ী ঈদ উদ্যাপন যেমন পূণ্য কর্ম; তেমনি সেই বিধান অমান্য করে যথেচ্ছ পোষাক পড়ে ঈদের নামে লাগামহীন আনন্দ-উৎসব মুসলমানদের জন্য পাপকর্মও বটে। তাই নিজেরা যেন পড়তে পারে সত্যিকারের ঈদের আসল জামা এবং উপহার দিতে পারে অন্যকেও এমনটাই আশা করছেন সুধী জনরা।




