ads

বুধবার , ৮ জুন ২০১৬ | ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের নিবন্ধনপ্রাপ্ত অনলাইন নিউজ পোর্টাল
  1. ENGLISH
  2. অনিয়ম-দুর্নীতি
  3. আইন-আদালত
  4. আন্তর্জাতিক
  5. আমাদের ব্লগ
  6. ইতিহাস ও ঐতিহ্য
  7. ইসলাম
  8. উন্নয়ন-অগ্রগতি
  9. এক্সক্লুসিভ
  10. কৃষি ও কৃষক
  11. ক্রাইম
  12. খেলাধুলা
  13. খেলার খবর
  14. চাকরির খবর
  15. জাতীয় সংবাদ

ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত মাস রমজান : ড. আবদুল আলীম তালুকদার

শ্যামলবাংলা ডেস্ক - ফটো কার্ড
জুন ৮, ২০১৬ ৩:১১ অপরাহ্ণ

dr. Abdul Alimরমজান এমন একটি পবিত্র মাস যে মাসে মহান আল্লাহ্ রাব্বুল আলামিন পবিত্র কুরআনুল কারীম নাযিল করেছেন। এই পৃথিবীতে মানুষের আবির্ভাব, এখানে তাদের কর্তব্য এবং তাদের চুড়ান্ত গন্তব্য সম্পর্কে আল-কুরআনের মাধ্যমে সকল মানব জাতিকে অবহিত করেছেন। শুধুমাত্র জীবন দর্শনই নয় এই পবিত্র কুরআন মাজীদে রয়েছে পূর্ণাঙ্গ, নির্ভুল, সার্বজনীন, ভারসাম্যপূর্ণ এবং চির নতুন জীবন বিধানও। এই জীবন বিধানের অনুসৃতির ওপরই নির্ভর করছে মানুষের ইহলৌকিক জীবনের কল্যাণ এবং পারলৌকিক জীবনের সফলতা। আল্লাহ্ পাকের একান্ত অভিপ্রায় হচ্ছে তার প্রিয় বান্দা মানুষ স্বেচ্ছায় আল-কুরআনে পরিবেশিত বিধানগুলো তাদের ব্যক্তিগত জীবন, পারিবারিক জীবন, সামাজিক জীবন এবং রাষ্ট্রীয় জীবনে কার্যকর করে সুখ-শান্তিতে বসবাস করুক। আর এইভাবে আল্লাহর প্রতি আনুগত্যশীল জীবন যাপন করে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করে আখিরাতের জীবনে চিরস্থায়ী সুখ ও শান্তির অধিকারী হোক।
সন্দেহ নেই আল-কুরআন নাযিলের মাস হিসাবে রমজান বছরের অন্যান্য মাসের তুলনায় একটি অনন্য বৈশিষ্ট্যতা অর্জন করেছে। আরো একটি বিষয় রমজানকে বিশিষ্টতা দান করেছে। সেটি হচ্ছে- সাওম বা রোযা পালন। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন রমজান মাসে রোযা পালনকে নবী করীম (সা.) এর উম্মাতের জন্য ফরজ বা অবশ্য কর্তব্য করেছেন। আবার এই রোযা পালন খুবই তাৎপর্যপূর্ণ একটি বিষয়। যারা পবিত্র কুরআনুল কারীমের প্রতি ঈমান এনে সে মোতাবেক সমাজ ও সভ্যতা বিনির্মাণে কাজ করবেন তাদেরকে অবশ্যই হতে হবে ত্যাগী, সহনশীল, কষ্টসহিঞ্চু মানুষ। সাওম ত্যাগী ও ধৈর্য্যের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ বান্দা হওয়ার অতীব উত্তম একটি প্রক্রিয়া।
রোযা ইসলামের একটি অন্যতম রুকন। আলিমগণের সর্বসম্মত মত হল, রমযানের রোযা ফরযে আইন। যে ব্যক্তি রমযানের রোযা ফরয হওয়া অস্বীকার করবে সে কাফির। রাসূলুল্লাহ্ (স.) ইরশাদ করেন, যে ব্যক্তি বিনা ওযরে ইচ্ছাপূর্বক রমযানের একটি রোযা ভঙ্গ করে, অন্য সময়ের সারা জীবনের রোযা তার সমকক্ষ হবে না। কোন ব্যক্তি রোযার প্রতি উপহাস বা বিদ্রুপমূলক আচরণ করলে তার ঈমান নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
রোযা এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদাত যার বরকতে মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব ও মমত্ববোধ এবং পরস্পরের প্রতি ভালবাসা সৃষ্টি হয়। কেননা যে ব্যক্তি কোন দিনও ক্ষুধার্ত ও পিপাসিত থাকেনি সে কখনো ক্ষুধার্ত মানুষের দুঃখ, কষ্ট বুঝতে পারে না। অপরদিকে কোন ব্যক্তি যখন রোযা রাখে এবং উপবাস থাকে তখন সে যথাযথভাবে উপলব্ধি করতে পারে যে, যারা অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটাচ্ছে, তারা যে কত দুঃখ-কষ্টে দিনাতিপাত করছে। আর তখনই অনাহারক্লিষ্ট মানুষের প্রতি তার অন্তরে সহানুভূতি উদ্রেক হয়।
প্রকৃতপক্ষেই রোযা পালন করা আল্লাহ্র প্রতি গভীর মুহাব্বতের অন্যতম নিদর্শন। কেননা কারো প্রতি মুহাব্বত জন্মিলে, তাকে লাভ করার জন্য প্রয়োজনে প্রেমিক পানাহার বর্জন করে এবং সব কিছুকে ছেড়ে দেয়। ঠিক তেমনিভাবে রোযাদার ব্যক্তিও আল্লাহ্র মুহাব্বতে দিওয়ানা হয়ে সবকিছু ছেড়ে দেয়। এমনকি পানাহার পর্যন্ত ভুলে যায়। তাই রোযা হল, আল্লাহ্র মুহাব্বতের অন্যতম নিদর্শন।
হযরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ্ (স.) বলেন, রোযা ঢাল স্বরূপ। সুতরাং রোযা অবস্থায় যেন অশ্লীলতা থেকে বিরত থাকে এবং অজ্ঞ মুর্খের মতো কোন কাজ না করে। কেউ যদি তার সাথে ঝগড়া-ফ্যাসাদ করতে চায়, অথবা গালি দেয় তবে সে যেন দুইবার বলে, আমি রোযাদার। ঐ সত্তার শপথ যার নিয়ন্ত্রণে আমার প্রাণ, অবশ্যই রোযাদারের মুখের দুর্গন্ধ আল্লাহর নিকট মিশ্ক জাফরানের চেয়েও অধিক উৎকৃষ্ট। সে আমারই জন্য পানাহার এবং কাম প্রবৃত্তি পরিত্যাগ করে। রোযা আমারই জন্য, তাই এর পুরস্কার আমি নিজেই দান করব। আর প্রত্যেক নেক কাজের বিনিময় দশগুণ।
ramadanরাসূলুল্লাহ্ (স.) আরো বলেন, রোযা এবং কুরআন বান্দার জন্য সুপারিশ করবে। রোযা বলবে, হে আমার রব! আমি তাকে দিনের বেলা পানাহার ও যৌনক্রিয়া থেকে বিরত রেখেছি। তার সম্পর্কে আমার সুপারিশ কবুল করুন। কুরআন বলবে, আমি তাকে রাতে নিদ্রা থেকে বিরত রেখেছি। তার সম্পর্কে আমার সুপারিশ কবুল করুন। তখন এদের সুপারিশ কবুল করা হবে।
আস্ সাওম বা রোযার দাবী হচ্ছে, সুব্হি সাদিক হতে শুরু করে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সময়ের মধ্যে সকল প্রকার পানাহার বর্জন এবং জৈবিক ক্রিয়ায় লিপ্ত হওয়া যাবে না। সাধারণত হালাল খাদ্য দিন ও রাতের যে কোন সময় গ্রহণ করা যায়। হালাল পানীয় দিন ও রাতের যে কোন সময় পান করা যায়। কিন্তু আস-সাওম দীর্ঘ সময় খাদ্য গ্রহণ, পানীয় পান এবং জৈবিক ক্রিয়ায় মিলিত হতে নিষেধ করে। মুমিন ব্যক্তি যখন এই নিষেধাজ্ঞা মেনে নেন তখন তাকে দীর্ঘ সময় পর্যন্ত এই তিনটি জিনিস ত্যাগ করতে হয়। এর অর্থ হচ্ছে, আস-সাওম মুমিনের ভোগের আকাঙ্খার মুখে লাগাম পরিয়ে দেয়। ভোগের আকাঙ্খা নিয়ন্ত্রণ করতে তাকে বাধ্য করে।
সারাদিন উপবাস থেকে সূর্যাস্তের পর মুমিন মুসলমানগণ ইফতার করেন এবং মাগরিবের নামায আদায় করেন। এই সময় প্রায় প্রতিটি রোযাদারের মনে প্রবল ইচ্ছা জাগতেই পারে শরীরটাকে বিছানায় এলিয়ে রাখতে, আরাম উপভোগ করতে। ঠিক এই সময়েই মসজিদের মিনার থেকে আল্লাহ্ পাকের মহান হুকুম পালনের আহবান আসে: সালাতের জন্য ছুটে আস, কল্যাণের জন্য ছুটে আস। তখন নরম বিছানার আরাম-আয়েশ ত্যাগ করে যেতে হয় মসজিদ পানে। সালাতুল ঈশার পর দীর্ঘ সময় ধরে চলে কিয়ামুল লাইল (তারাবীহ্ নামায)। এইভাবে ত্যাগ করতে হয় আরামপ্রিয়তা। এটাও কিন্তু কম ত্যাগ নয়। রাতের শেষভাগে রোযাদারকে শয্যা ত্যাগ করতে হয় সেহরী খাওয়ার জন্য। নিদ্রাসুখ ত্যাগ করে দীর্ঘ এক মাস তাকে আরামদায়ক বিছানা ছেড়ে উঠাটা কম ত্যাগের নয়।
রমজানের অন্য রাতগুলোতে একজন রোযাদার বান্দা নিদ্রাসুখ উপভোগের জন্য বেশ কিছুটা সময় পান। কিন্তু লাইলাতুল কদরে (শবে কদরের রাত্রিতে) তাকে এই সুখও ত্যাগ করতে হয়। আর লাইলাতুল কদর তো লুকিয়ে আছে পবিত্র রমজানের শেষ পাঁচটি বেজোড় রাত্রিতে। এই রাত হাজার মাসের চেয়েও উত্তম বলে পবিত্র কুরআনে আল্লাহ্ পাক ঘোষণা দিয়েছেন। এই পবিত্র রজনীটিকে নিশ্চিতভাবে পেতে হলে শেষ পাঁচটি বেজোড় রাতে জেগে থেকে ইবাদাতে মশগুল থাকতে হয়। পাচঁটি রাত একাগ্রতার সাথে বিনিদ্র কাটানো তথা পাঁচটি রাতের নিদ্রাসুখ ত্যাগ করা অবশ্যই বড় মাপের ত্যাগ।
রমজান মাসের ত্যাগের বহুমাত্রিক রূপের অন্যতম একটি হচ্ছে ই’তিকাফ। পিতামাতা, ভাই-বোন, স্ত্রী-সন্তান, আত্মীয়-স্বজন, ঘর-বাড়ি, ব্যবসা-বাণিজ্য ইত্যাদি থেকে সম্পূর্ণরূপে বিচ্ছিন্ন হয়ে মসজিদে অবস্থান গ্রহণ করে একাগ্রচিত্তে মহান আল্লাহ্ পাকের ইবাদাতে আত্মনিয়োগ হওয়ার নাম ই’তিকাফ। পিয়ারা নবী মুহাম্মদ মুস্তাফা (সা.) সাধারণত রমজান মাসের শেষ ১০ দিন ই’তিকাফ করতেন। বেশ কয়েকটি দিন পরিবার তথা সকল লোকের কাছ থেকে পৃথক হয়ে গিয়ে একমাত্র মহান প্রভূ আল্লাহ্ তাবারাক ওয়া তায়ালার সন্তুষ্টির জন্য সারাক্ষণ নিবেদিত থাকা একটি অত্যন্ত কষ্টসাধ্য ও ত্যাগের কাজও বটে।
এই মহান ত্যাগ ও কষ্টসহিঞ্চুতার আহবান নিয়ে প্রতি বছর রমজান মু’মিন-মুসলমানদের নিকট সমবেত হয়। প্রকৃত মু’মিন-মুত্তাকীগণ এই আহবানে সাড়া দিয়ে ত্যাগী ও ধৈর্য্যশীল মানুষের কাতারে সামিল হওয়ার জন্য উন্নতর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেন এবং হতে পারেন আল-কুরআনের আলোয় আলোকিত সমাজ ও সভ্যতা বিনির্মাণের কারিগর।
লেখক: কবি, গবেষক, প্রাবন্ধিক ও বিসিএস (সা.শি) ক্যাডার কর্মকর্তা।

Need Ads

সর্বশেষ - ব্রেকিং নিউজ

Shamol Bangla Ads