স্টাফ রিপোর্টার : ‘ছিড়ে ফেল দৃঢ় হাতে চক্রান্তের জাল’- এ শ্লোগানকে ধারণ করে শেরপুরে দু’দিনব্যাপী ‘বৃহত্তর ময়নসিংহ জেলা গণসঙ্গীত উৎসব’ শুরু হয়েছে। ৩ জুন শুক্রবার সন্ধ্যায় জেলা শিল্পকলা একাডেমী মিলনায়তনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে ওই উৎসবের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের কেন্দ্রীয় সভাপতি, বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব গোলাম কুদ্দুস। এর আগে সাংস্কৃতিক নেতৃবৃন্দ শহীদ বেদীতে পুষ্পার্ঘ অর্পণ করেন এবং মঞ্চে পরিবেশিত হয় সূচনা সঙ্গীত। উদ্বোধনী ভাষণে সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট সভাপতি গোলাম কুদ্দুস বলেন, সংস্কৃতি জাতির পরিচয় নির্ণায়ক। সুষ্ঠু সাংস্কৃতিক চর্চা মানুষের চেতনা ও বোধকে জাগ্রত করে। তাই তৃণমূল পর্যন্ত সাংস্কৃতিক চর্চার বিস্তৃতি ঘটাতেই সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় দেশের বৃহত্তম ১৯ জেলায় গণসংঙ্গীত উৎসব হচ্ছে। শেখ হাসিনার সদিচ্ছায় সংস্কৃতির দিক থেকেও বাংলাদেশ আজ অনেকটাই অগ্রসরমান। কিন্তু একটি উগ্র ধর্মান্ধ গোষ্ঠী মানুষের সাংস্কৃতিক চেতনায় কুঠারাঘাতের মাধ্যমে মূল্যবোধকে হত্যার ষড়যন্ত্র করছে। তিনি বলেন, সুষ্ঠু সাংস্কৃতিক চর্চা ছাড়া মৌলবাদের উত্থান রোধ করা সম্ভব নয়। এজন্য আমরা সরকারের কাছে প্রতিটি উপজেলা পর্যায়ে সংস্কৃতি কর্মকর্তার পদ সৃষ্টি ও শিল্পকলা প্রতিষ্ঠার দাবি জানিয়েছি। সরকার সেই দাবির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে সংস্কৃতি খাতে পূর্বের বরাদ্দ সাড়ে ৩ কোটি টাকা থেকে ৪১ কোটি টাকায় উন্নীত করেছে।
বাংলাদেশ গণসঙ্গীত সমন্বয় পরিষদের সভাপতি, বরেণ্য গণসঙ্গীত শিল্পী ফকির আলমগীরের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের কেন্দ্রীয় সদস্য ও ময়মনসিংহ জেলা কমিটির সভাপতি আমির আহমেদ চৌধুরী রতন। গণসঙ্গীত সমন্বয় পরিষদের সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য মানজার চৌধুরী সুইটের সঞ্চালনায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন গণসঙ্গীত উৎসব উদযাপন পরিষদের সদস্য সচিব সঞ্চিতা হোড় দীপু। এতে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন গণসঙ্গীত উৎসব উদযাপন পরিষদের আহবায়ক এডভোকেট ইমাম হোসেন ঠান্ডু ও জেলা রবীন্দ্র সম্মিলন পরিষদের সভাপতি রাজিয়া সামাদ ডালিয়া। উদ্বোধনী দিনে শেরপুরের উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী, ঝিনাইগাতী আদিবাসী সাংস্কৃতিক দল, ময়মনসিংহের মুকুল নিকেতন, নেত্রকোনার শতদল সাংস্কৃতিক গোষ্ঠীসহ একক সঙ্গীত পরিবেশন করেন ফকির আলমগীর, সঞ্চিতা হোড় দীপু ও আবিধ্য রহমান সেতু। এদিকে ওই উৎসবকে ঘিরে শেরপুরে সাংস্কৃতিক কর্মীদের মাঝে ব্যাপক চাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। ক্ষুদে, নবীন-প্রবীণ সাংস্কৃতিক কর্মী ও সংগঠকদের পদচারণায় ভারি হয়ে উঠেছে উৎসব অঙ্গন।
শনিবার একই স্থানে সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন শেরপুর পৌরসভার দু’দফায় নির্বাচিত মেয়র গোলাম মোহাম্মদ কিবরিয়া লিটন। উৎসব উদযাপন পরিষদের আহবায়ক এডভোকেট ইমাম হোসেন ঠান্ডুর সভাপতিত্বে সমাপনী অনুষ্ঠানে আলোচক হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বাংলাদেশ গণসঙ্গীত সমন্বয় পরিষদের সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য ফকির সিরাজ ও খেলাঘর কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবুল ফারাহ পলাশ। সমাপনী দিনে জাতীয় রবীন্দ্র সম্মিলন পরিষদ, বাংলাদেশ নৃত্য শিল্পী সংস্থা, পাতাবাহার খেলাঘর আসর, জামালপুরের রবীন্দ্র সম্মিলন পরিষদ, কিশোরগঞ্জের নরসুন্দা সঙ্গীত পরিষদ ও উদীচী কেন্দ্রীয় সংসদসহ একক সঙ্গীত পরিবেশন করবেন ফকির সিরাজ ও আরিফ রহমান।




