স্টাফ রিপোর্টার : জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে শেরপুরের পল্লীতে মনিকা বেগম (৪০) নামে এক গৃহবধূকে গাছের সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় প্রধান আসামী মোঃ হানিফ মিয়া (৩৫) কে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সে স্থানীয় হবিবর রহমানের ছেলে। ১ জুন বুধবার রাতে সদর উপজেলার আন্ধারিয়া এলাকার এক আত্মীয় বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। বৃহস্পতিবার বিকেলে ৫ দিনের পুলিশ রিমান্ডের আবেদনসহ গ্রেফতারকৃত হানিফকে আদালতে সোপর্দ করা হলে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ সাইফুর রহমান রবিবার রিমান্ড শুনানীর তারিখ ধার্য করে তাকে কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন। অন্যদিকে ওই মামলায় মানিক, আজাহার ও কালাচাঁনসহ তাদের সঙ্গীয় দুর্বৃত্তরা এখনও পলাতক রয়েছে।
শেরপুর সদর থানার এসআই ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আনছার আলী জানান, গৃহকর্তার স্ত্রীকে গাছে বেঁধে নির্যাতন ও বাড়ি-ঘর ভাঙচুরের ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামী মোঃ হানিফ মিয়াকে গ্রেফতার করে রিমান্ডের আবেদনসহ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেফতারেও অভিযান চলছে।
উল্লেখ্য, ২৫ মে বুধবার গভীর রাতে সদর উপজেলার ভাতশালা ইউনিয়নের মধ্যবয়ড়া গ্রামের কৃষক মোঃ নবীজুর রহমানের বাড়িতে জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে স্থানীয় হানিফ মিয়ার নেতৃত্বে মানিক মিয়া, আজাহার আলী ও কালাচানসহ অজ্ঞাতনামা ১০-১৫ জন লোক দা, লাঠি, লোহার রডসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। ওই সময় তাঁরা নবীজুর রহমানের একটি টিনের চালা ঘর সম্পূর্ণরূপে ভেঙ্গে ও বিভিন্ন প্রজাতির গাছপালা কেটে ফেলে। অতর্কিত হামলায় নবীজুরের পরিবারের ঘুমন্ত সদস্যদের ঘুম ভেঙ্গে যায়। নবীজুর ও তাঁর স্ত্রী মনিকা বেগম হামলাকারীদের বাধা দিলে তাঁরা তাঁদের মারধর করে। এক পর্যায়ে হামলাকারীরা মনিকা বেগমকে বাড়িসংলগ্ন একটি শিমুল গাছের সঙ্গে বেঁধে মারধর ও নির্যাতন করে। এতে তাঁর ডান হাত ভেঙ্গে যায় এবং তিনি প্রায় অজ্ঞান হয়ে পড়েন। হামলাকারীরা মনিকার শরীর থেকে দেড় ভরি ওজনের স্বর্ণালংকার এবং ঘরে থাকা নগদ এক লাখ টাকা লুট করে নিয়ে যায়। নবীজুরের পরিবারের সদস্যদের ডাক-চিৎকারে প্রতিবেশী শিরিনা বেগম ও জহুরা বেগম ঘটনাস্থলে গিয়ে গাছের সঙ্গে বাঁধা মনিকাকে উদ্ধার করে। পরে এলাকাবাসীর সহায়তায় আহত মনিকাকে জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। সংবাদ পেয়ে সদর থানা পুলিশও রাতেই ঘটনাস্থলে যায়। হামলায় আহত মনিকা বেগম জেলা সদর হাসপাতালে প্রায় এক সপ্তাহ ভর্তি থেকে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে যায়। ওই ঘটনায় নজীবুর বাদী হয়ে হানিফ মিয়াকে প্রধান আসামি করে ৪ জনকে সুনির্দিষ্টভাবে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০-১৫ জনের বিরুদ্ধে সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।




