
পতেঙ্গা (চট্টগ্রাম) সংবাদদাতা : ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর তাণ্ডবে সর্বস্ব হারিয়ে পতেঙ্গা বেড়িবাঁধের পার্শ্ববর্তী ভূমিহীন সৈকত পল্লীর ৪ শতাধিক পরিবার এখনও খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছেন। খাবার এবং বিশুদ্ধ পানির অভাবে তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। ঘূর্ণিঝড়ে সৈকত পল্লী জামে মসজিদ, ভূমিহীন বিদ্যা নিকেতন, বেড়িবাঁধ ভূমিহীন সমবায় সমিতির কার্যালয়, বেড়িবাঁধ ভূমিহীন সৈকত পল্লীর সার্বজনীন শ্রী শ্রী রাধা কৃষ্ণ মন্দির পানিতে ভেসে গেছে। রোয়ানুর তান্ডবের ৩ দিন পেরিয়ে গেলেও এখানে পৌঁছেনি কোন সরকারি ত্রাণ। ক্ষতিগ্রস্তরা ক্ষোভের সঙ্গে জানান, চট্টগ্রাম মহানগরীর সাগর সংলগ্ন ওই এলাকায় বসবাসকারী এসব পরিবারের খবর পর্যন্ত নেয়নি স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিররা।
পতেঙ্গা বেড়িবাঁধ ভূমিহীন সমবায় সমিতি সাধারণ সম্পাদক নিজাম খান জানান, আমাদের সব শেষ, বন্যায় প্রায় ভূমিহীন ৩০ জন সদস্যের জাতীয় পরিচয় পত্র, অনেকের আউটার রিং রোড প্রকল্পে সিডিএ কর্তৃক ক্ষতিপূরণ কার্ড, গার্মেন্টস কর্মীদের আইডি কার্ড, ব্যাংকের প্রয়োজনীয় হিসাব পত্র, বেড়িবাঁধ ভুমিহীন সমবায় সমিতির কাগজপত্র রক্ষা করা যায়নি।
পাশাপাশি ১০ জন দোকানির কয়েক লক্ষাধিক নগদ টাকা ও মালামালের ব্যাপক ক্ষতি ছাড়াও অত্র এলাকার অসহায় মানুষের প্রায় কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে । অনেক জেলে পরিবারের মাছ ধরার জালসহ প্রয়োজনীয় জিনিস ভেসে যায়।
স্থানীয় ব্যবসায়ি সমিতির নেতা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সিডিএ আউটার রিং রোড প্রকল্পে সিডিএ কর্তৃক যারা ক্ষতিপূরণ পেয়েছিল তারা এবং অন্যান্য পরিবারগুলো ধার দেনা করে বেঁচে থাকার আশায় শেষ সম্বল দিয়ে যে বাসস্থান গড়েছিল শেষ গত ২১ মে ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর তান্ডবে তা চোখের পলকেই লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। সর্বস্ব হারিয়ে অনেকই পাগলপ্রায়। চোখের সামনে শেষ হতে দেখেছে তিলে তিলে গড়া পরিশ্রমের ফসল। কাউকে শান্তনা দেওয়ার মত কোন ভাষা আমার নেই। তিনি জানান, বন্যার পানি যখন বেঁড়িবাধে প্রবেশ করে তার আগেই আমি ভূমিহীন সৈকত পল্লীর সদস্যদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছি। আমাদের উপর এত বড় একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ গেল আমরা বেঁচে আছি কি মরে গেছি সে খবর কেউ নেয়নি। তবে চট্টগ্রাম ১১ আসনের এমপি এম এ লতিফ এর পক্ষে ২২ মে ক্ষতিগ্রস্ত ২০০ পরিবারকে নগদ ২ লাখ টাকা, ৩ টন চাল, বস্ত্র ও খাবার বিতরণ করা হয়।





