শেষ ওভারে প্রয়োজন ২৩, শেষ বলে ৬। দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে ভীষণ দুরূহ এই সমীকরণও মিলিয়ে ফেললেন মহেন্দ্র সিং ধোনি। অনেক দিন পর দেখা গেল রান তাড়ায় বিধ্বংসী ব্যাটিংয়ে ম্যাচ জেতানো সেই পুরোনো ধোনিকে।
ধোনির ৬৪ রানের অপরাজিত ইনিংসে কিংস ইলেভেন পাঞ্জাবকে ৪ উইকেটে হারিয়েছে রাইজিং পুনে সুপারজায়ান্টস। দুই দলেরই এটি ছিল এবারের আইপিএলের শেষ ম্যাচ।

দক্ষিণ আফ্রিকান পেসার কাইল অ্যাবটের একটি ওভার বাকি ছিল, তার পরও শেষ ওভারে আকসার প্যাটেলের হাতে বল দিয়ে অনেককেই অবাক করেছেন মুরালি বিজয়। ধোনির অবশ্য আপত্তি ছিল না, তুলো-ধোনা করেছেন বাঁহাতি এই স্পিনারকে।
১৯তম ওভারে মোহিত শর্মা দিয়েছিলেন মাত্র ৬ রান। শেষ ওভারে প্রথম বলে রান নিতে পারেননি ধোনি। পরের বলটি ছিল ওয়াইড, বাই থেকে রান নেওয়ার সুযোগ থাকলেও নেননি ধোনি।

পরের বলে লং অন দিয়ে ছক্কা। তৃতীয় বলে রান নেই আবারও, সিঙ্গেল নেওয়ার সুযোগ থাকলেও নেননি ধোনি। কাজ শেষ করতে চেয়েছেন নিজেই এবং করেছেনও। চতুর্থ বলে ছক্কা হয়নি একটুর জন্য, এক বাউন্সে চার কভার দিয়ে। পঞ্চম বলে শর্ট বলে ছক্কা ডিপ মিড উইকেট দিয়ে।

শেষ বলটি প্যাটেল করেছিলেন লেগ-মিডলে জোরের সঙ্গে, কবজির জোরে ধোনি আবারও উড়িয়ে দেন মিড উইকেট সীমানার বাইরে।পাঞ্জাব তুলেছিল ৭ উইকেটে ১৭২। ৪১ বলে ৫৯ করেন অধিনায়ক বিজয়, ৩০ বলে ৫১ গুরকিত সিং মান। পুনের হয়ে ধোনির ইনিংসের আগে ৩০ করে গেছেন উসমান খাওয়াজা। ধোনির সঙ্গে ৫৮ রানের জুটিতে থিসারা পেরেরা ১৪ বলে ২৩। পরে শেষ ওভারে ধোনির ওই তাণ্ডব।
৪ চার ও ৫ ছক্কায় পুনে অধিনায়ক অপরাজিত ৩২ বলে ৬৪। এবারের আইপিএলে এটি তার একমাত্র অধর্শতক। এই ম্যাচের আগে ১১ ইনিংসে করেছিলেন মোটে ২২০ রান।
শেষ ম্যাচটা দারুণভাবে জিতলেও এবারের আইপিএল ধোনির জন্য ভুলে যাওয়ার মতই। আগের আট আসরে তিনি সফলতম দলের সফলতম অধিনায়ক। কিন্তু ফিক্সিং কেলেংকারিতে সেই চেন্নাই সুপার কিংস এখন নেই।
এবার ধোনি খেলেছেন নতুন দলে। হয়েছে নুতন অভিজ্ঞতাও। প্রথমবারের মত সেরা চারে নেই ধোনির দল। বরং লড়াই করতে হয়েছে তলানিতে না থাকার জন্য। শেষ ম্যাচটি জিতে নিশ্চিত হয়েছে পাঞ্জাবকে নিচে রেখে তলানির এক ধাপ ওপরে থাকছে ধোনির পুনে।





