নালিতাবাড়ী প্রতিনিধি : ট্রাক চালক রুবেলের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত সন্ত্রাসী-চাঁদাবাজদের গ্রেফতারের দাবিতে এক সংবাদ সম্মেলন করেছে শেরপুরের নালিতাবাড়ী ট্রাক চালক-শ্রমিক ইউনিয়ন। ১৮ মে বুধবার দুপুরে শ্রমিক ইউনিয়ন কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ওই দাবি করা হয়। একই সাথে ওই দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আগামী ২৫ মে পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে বিক্ষোভ মিছিল, মানববন্ধন, এমনকি জেলা পর্যায়ে ট্রাক অবরোধসহ নানা কর্মসূচী পালন করা হবে বলে ঘোষণা দেওয়া হয়। সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ওইসব সন্ত্রাসীদের মদদদাতা হিসেবে নালিতাবাড়ী পৌরসভার বর্তমান মেয়র আবু বক্কর সিদ্দিক বাক্কারের নাম উল্লেখ করা হয়। ওইসময় শ্রমিক ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
ট্রাক, মিনিট্রাক, ট্যাংকলড়ি ও কাভার্ড ভ্যান চালক-শ্রমিক ইউনিয়নের নালিতাবাড়ী শাখার সভাপতি মোকছেদুর রহমান লেবুর সভাপতিত্বে ওইসময় লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাছান জাবেদ। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, এক সময়ের শান্ত নালিতাবাড়ীতে বর্তমানে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় কিছু সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজ গজিয়ে ওঠেছে। এরা নালিতাবাড়ীতে প্রবেশকারী প্রতি ট্রাক থেকে পৌরসভার নাম করে ৫০ টাকা করে চাঁদা আদায় করছে। অনেক সময় ৫শ টাকাও দাবি করছে তারা। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন স্থানে হুমকি-ধামকী ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ড পরিচালনা করছে। এরই সূত্র ধরে ৪ মে বুধবার রাতে শহরের দক্ষিণ বাজার এলাকায় ট্রাক চালক রুবেলের কাছে ৫শ টাকা চাঁদা দাবি করে না পেয়ে কতিপয় সন্ত্রাসী কিরিচ ও সেলুনে ব্যবহৃত কাচি দিয়ে ট্রাক চালককে গুরুতর জখম করে। বর্তমানে সে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এ নিয়ে মামলার পর ইউনিয়নের তরফ থেকে ধর্মঘটের ডাক দিলে ৬ মে পুলিশ নাটকীয়ভাবে ৬ আসামীকে গ্রেফতার করে। ওইসময় ধর্মঘট স্থগিত করলেও পরবর্তীতে চিহ্নিত বাকী অপরাধীরা প্রকাশ্যে শহরে ঘুরে বেড়ায় এবং মেয়রের নেতৃত্বে মিছিল থেকে উস্কানিমূলক হুমকি দিয়ে শ্লোগান দেয়। অথচ এজাহারভুক্ত ওইসব আসামীকে পুলিশ গ্রেফতার করছে না।
এ বিষয়ে নালিতাবাড়ী পৌরসভার মেয়র আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, মূলত একজন সিএনজি চালকের সাথে সাইড দেওয়া নিয়ে ট্রাক চালকের ঝগড়া হয়। এ নিয়ে সিনএনজি চালক ট্রাক ড্রাইভারকে আহত করে। রাজনৈতিকভাবে আমার ছেলেদের এর সাথে জড়িয়ে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। চাঁদার বিষয়ে তিনি বলেন, পৌরসভার নামে যে ৫০ টাকা তোলা হয় তা পৌর পুলিশের জন্য। এটি আগে থেকেই তোলা হতো।
নালিতাবাড়ী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা একেএম ফসিহুর রহমান জানান, ৬ জন আসামী ধরা হয়েছে। বাকীদের ধরার চেষ্টা চলছে। মামলার তদন্তেও অগ্রগতি হয়েছে। এরপরও কর্মসূচী দিয়ে জনদূর্ভোগ বাড়ানো উচিত নয়।




