স্টাফ রিপোর্টার : শেরপুর সদর উপজেলার চরপক্ষীমারী ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনে প্রশাসন ও জাতীয় পার্টির প্রার্থীর যোগসাজসে ব্যাপক অনিয়ম ও ভোট কারচুপির মাধ্যমে আওয়ামী লীগ প্রার্থীকে মাত্র ৪৭ ভোটের ব্যবধানে হারানো হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়েছে। ২৭ এপ্রিল বুধবার বিকেলে শহরের নিউমার্কেটস্থ হোটেল আলীশানে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ওই অভিযোগ করেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বিদায়ী চেয়ারম্যান মোঃ আকবর আলী। তার প্রাপ্ত ভোট ছিল ৭ হাজার ৫শ ১০। অন্যদিকে লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী আব্দুর রউফের প্রাপ্ত ভোট ছিল ৭ হাজার ৫শ ৫৭।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, ২৩ এপ্রিল অনুষ্ঠিত চরপক্ষীমারী ইউপি নির্বাচনে ভোট গ্রহণের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত লাঙল প্রতীকের জাতীয় পার্টির প্রার্থী মোঃ আব্দুর রউফ ও তার পিতা জেলা জাপার সভাপতি, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ইলিয়াস উদ্দিনের যোগসাজসে নির্বাচনের সাথে সম্পৃক্ত স্থানীয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাবাহিনীর সদস্যরা বিভিন্ন কেন্দ্রে নৌকা প্রতীকের আওয়ামী লীগ প্রার্থী, দলের নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের প্রতি চরম বৈরি আচরণ করেন। ওই অবস্থায় সকাল ১১টার দিকে কুলুরচর বেপারীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দু’জন প্রতিদ্বন্দ্বী মেম্বার প্রার্থীর সমর্থকদের মাঝে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের কারণে প্রায় ৩/৪ ঘন্টা ভোট গ্রহণ স্থগিত রাখলে ওই কেন্দ্র ভোটারশূন্য হয়ে পড়ে। পরে হঠাৎ করেই ভোট গ্রহণের ঘোষণা দিলে কয়েকশ ভোটার হাজির হন। কিন্তু পরবর্তীতে তাদের ভোট প্রয়োগের সুযোগ দেওয়া হয়নি। জঙ্গলদী ও টাকিমারী কেন্দ্রে ব্যাপক জালভোটসহ সংশ্লিষ্ট প্রিজাইডিং অফিসারদের স্বাক্ষরবিহীন ৪/৫টি অবৈধ ব্যালট পেপার জাতীয় পার্টি প্রার্থী আব্দুর রউফের উপস্থিতিতে তার সমর্থকরা বাক্সে ফেলেন। বিষয়টি প্রশাসনের লোকজনকে জানানো হলে জেলা প্রশাসক ডাঃ এ এম পারভেজ রহিম বিকেল ৪টার দিকে জঙ্গলদী কেন্দ্রে গিয়ে ঘটনার সত্যতা পান এবং সাক্ষরবিহীন কিছু জাল ব্যালটপেপার বের করে ফেলেন। কিন্তু এরপরও কেন্দ্র দু’টির স্বাক্ষরবিহীন অবৈধ ব্যালটপেপার লাঙল প্রতীকের অনুকূলে গণনায় নিয়ে ফলাফল ঘোষণা করা হয়। ওইসব অভিযোগের কারণে তিনি কুলুরচর বেপারীপাড়া কেন্দ্রটি বাতিল করে পুনঃভোট গ্রহণ এবং জঙ্গলদী ও টাকিমারী কেন্দ্র দু’টির ভোট পুনঃগণনার দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে চরপক্ষীমারী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম রব্বানী মন্টু ও আওয়ামী লীগ নেতা কুতুব উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন।




