স্টাফ রিপোর্টার : শেরপুরে অটোরিক্সা ছিনিয়ে নিয়ে চালক আব্দুর রাজ্জাককে হত্যায় ব্যবহৃত ঘাতকদের ছুড়ে ফেলা ছুরিটি উদ্ধার করেছে পুলিশ। ১৫ মার্চ মঙ্গলবার রাতে ওই মামলায় ৩ দিনের রিমান্ডে থাকা প্রধান আসামী মিল্টনকে নিয়ে তল্লাশি চালিয়ে অকুতোস্থল শহরের মোবারকপুর এলাকায় জনৈক মোহাম্মদ আলীর ইটের ভাটার পাশের ধানক্ষেত থেকে ওই ছুরিটি উদ্ধার করা হয়। অন্যদিকে বুধবার দুপুরে পুলিশ রিমান্ড শেষে আদালতে সোপর্দ করা হলে ঘাতক মিল্টন সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আ.ন.ম ইলিয়াসের নিকট স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আনছার আলী বুধবার আদালতে ঘাতক মিল্টনের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদানের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, অটোচালক রাজ্জাক হত্যাকান্ডসহ খলিল মিয়া হত্যাকান্ডে মিল্টন নিজের সম্পৃক্ততাসহ আরও কয়েকজনের নাম উল্লেখ করেছে। তদন্তের স্বার্থে নামগুলো এখনই প্রকাশ করা সম্ভব নয়। তবে ঘাতক মিল্টনের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির মধ্য দিয়ে উভয় হত্যাকান্ডে তদন্তে যথেষ্ট অগ্রগতি হয়েছে বলে দাবি করে তিনি বলেন, মিল্টনের জবানবন্দিতে আসা অন্যান্যদেরও দ্রুত গ্রেফতার করে বিচারের মুখোমুখি করা হবে।
উল্লেখ্য. ৮ মার্চ শহরের মোবারকপুর মহল্লার একটি ইটের ভাটায় অটোবাইক চালক আব্দুর রাজ্জাককে (৩০) হত্যা করে ইজিবাইক ছিনতাই করে নিয়ে যায় স্থানীয় মিল্টন ও সাগরসহ কয়েকজন দুর্বৃত্ত। পরদিন সকালে পুলিশ পার্শ্ববর্তী মোবারকপুর মহল্লার আবু মিয়ার ইট ভাটা থেকে তার লাশ উদ্ধার করে। একই সাথে তার অটোবাইকটিও ঘাতক মিল্টন ও সাগরের রক্তমাখা জামাকাপড়সহ দমদমা কালিগঞ্জ এলাকা থেকেই উদ্ধার করে। অটোবাইক ছিনতাই একটি চক্রের সন্ধানও পায় পুলিশ। সেখান থেকে পৃথক ঘটনায় চালক খলিল মিয়াকে হত্যা করে ছিনিয়ে নেওয়া ইজিবাইকটিসহ বেশ কিছু চোরাই/ছিনতাইকৃত ইজিবাইকের বিপুল পরিমাণ যন্ত্রাংশও উদ্ধার হয়। রাজ্জাক হত্যাকান্ডে তার স্ত্রী সাজেদা বেগম বাদী হয়ে সদর থানায় মামলা দেয় মিল্টন ও সাগরসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এর আগে ৩১ জানুয়ারি রাতে পার্শ্ববর্তী মির্জাপুর কান্দিপাড়া এলাকায় খলিল মিয়া (৪০) নামে এক চালককে হত্যা করে তার ইজিবাইক ছিনতাই করে দুর্বৃত্তরা। উভয় ঘটনায় ৯ মার্চ অটোবাইক শ্রমিক কল্যাণ সোসাইটির উদ্যোগে ঘাতকদের গ্রেফতার ও বিচার দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়। ১২ মার্চ রাতে ঝিনাইগাতী উপজেলার তিনানী বাজার এলাকা থেকে মূল আসামী মিল্টনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে রাজ্জাকসহ খলিল মিয়া হত্যাকান্ডের বিষয়ে পাশ কেটে গেলেও পরদিন আদালতের দেওয়া ৩ দিনের পুলিশ রিমান্ড থেকে উভয় ঘটনার আদ্যোপান্ত স্বীকার করে।




